ঈশ্বরের সেবক টি এ গাঙ্গুলী পূজনীয় হওয়ার পথে

বিডি খ্রিস্টান নিউজ:

কাথলিক মন্ডলীতে কোন ব্যক্তিকে সাধু শ্রেণীভুক্ত করার চারটি পক্রিয়া রয়েছে। সেগুলো হলে: ঈশ্বরের সেবক, পূজনীয়, ধন্য এবং সাধু। দেশের প্রথম বঙ্গালী সাধু শ্রেণীভুক্তকরণের প্রথম ধাপ ‘ঈশ্বরের সেবক’ পদে ভূষিত হয়েছেন আর্চবিশপ থিওটোনিয়াস অমল গাঙ্গুলী ২০০৬ খ্রিস্টাব্দে। তৎকালীন ঢাকার আর্চবিশপ পৌলিনুস কস্তা ২ সেপ্টেম্বর ২০০৬ খ্রিস্টাব্দে আর্চবিশপ টি এ গাঙ্গুলীর মৃত্যুবার্ষীর্কিতে তাঁকে সাধু শ্রেণীভুক্তকরণের প্রথম ধাপ ঈশ্বরের সেবক পদে ঘোষণা করেন।

গত বছর এপ্রিলে ইটালির রোমের ভাটিকান সিটির তিনজন কর্মকর্তা বাংলাদেশে এসেছিলেন, যারা সাধু শ্রেণীভুক্তকরণ পক্রিয়ার সাথে জড়িত। তারা ঢাকায় এসে কাথলিক মন্ডলীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, কমিশনের সদস্যদের সাথে কথা বলে ঈশ্বরের সেবক টি এ গাঙ্গুলীর পূর্ণাঙ্গ তথ্য নিয়ে গেছেন। ‘পূজনীয়’ পক্রিয়ারকরণের প্রমোশন কমিটির একজন সদস্য বিডি খ্রিস্টান নিউিজকে বলেছেন, ‘আর্চবিশপ টি এ গাঙ্গুলী হচ্ছেন ঈশ্বরের সেবক। এখন তার পরবর্তী ধাপ হলো ‘পূজনীয়’। আমাদের কাজ ছিল তাঁর বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ দালিলিক রিপোর্ট দেওয়া। এখানে কমিশন আছে যেমন থিওলজিক্যাল কমিটি, বিভিন্ন মানুষ যারা তাঁর সম্বন্ধে জানে তাদের ইন্টারভিউ নেওয়া হয়েছে। তাঁর সম্বন্ধে যত লেখা আছে এবং তিনি যত লেখা লিখেছেন তার ডকুমেন্ট তৈরি করে গত বছর এপ্রিলে ইটালিতে নিয়ে গেছে ভাটিকানের তিন সদসের প্রতিনিধি দল’।

গত ৬ মার্চ, ২০১৯, তেজগাঁও গির্জায় ভস্ম বুধবারে সন্ধ্যা ছয়টার পবিত্র খ্রিস্টযাগ উৎসর্গ করেন ঢাকার আর্চবিশপ কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও, সিএসসি। খ্রিস্টযাগ শেষে শেষ প্রার্থনার আগে কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও গীর্জায় উপস্থিত খ্রিস্টভক্তদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি আজকের এই দিনে আপনাদের একটি খবর জানাতে চাই। আমাদের ঈশ্বরের সেবক থিওটোনিয়াস অমল গাঙ্গলীকে নিয়ে যে তদন্ত হয়েছিল, সেটা গত বছর এপ্রিল মাসে আমরা রোমে পাঠিয়েছিলাম, আর দুইদিন আগে আমরা খবর পেয়েছি, সেই তদন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ভাটিকান দ্বারা অনুমদিত হয়েছে। এটা আমাদের জন্য বিশেষ আশির্বাদ। আজকে থেকে আমরা প্রার্থনা করবো, বিশেষ করে ঈশ্বরের সেবক থিওটোনিয়াস অমল গাঙ্গুলীর সহায়তায়, তার মধ্যস্থতায় ঈশ্বরের নিকট থেকে যাঞ্চনা করবো’।

অর্থাৎ, দ্রুতই ভাটিকান থেকে ঈশ্বরের সেবক টি এ গাঙ্গুলীকে পূজনীয় ঘোষণা করা হতে পারে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।

ঈশ্বরের সেবক টি এ গাঙ্গুলীর পূজনীয় ধাপে যাওয়ার কাজ শুরু করেছে ঢাকার ‘পূজনীয়’ পক্রিয়ারকরণের প্রমোশন কমিটি। প্রমোশন কমিটির একজন সদস্য বলেন, ‘খ্রিস্টভক্তদের মনে যেন ঈশ্বরের সেবক টি এ গাঙ্গুলীর বিষয়ে ভক্তি বাড়ে তার জন্য লিফলেট তৈরি করবো, সব ধর্মপ্রদেশে চিঠি দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনে কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন ধর্মপ্রদেশে পরিদর্শন করে খ্রিস্টভক্তদেন জানাবো। ঈশ্বরের সেবক টি এ গাঙ্গুলীর মাধ্যমে যদি একটি আশ্চর্য কাজ হয় এবং তথ্য প্রমাণ থাকে তবে দ্রুতই তাঁকে পরবর্তী ধাপে নেওয়া যাবে এবং দ্রুত সাধু শ্রেণীভুক্তকরণে সহজ হবে’।

বঙ্গে প্রায় পাঁচশ বছর ধরে খ্রিস্টভক্তদের পদচারণা। কিন্তু এখনো একজনও সাধু শ্রেণীভুক্ত হয়নি। অনেকে মনে করেন, সাধু-সাধ্বী অনেক আছে কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে পক্রিয়াকরণে যাওয়া হয়নি। শুধু ধর্মীয় ব্যক্তি নয়, সাধারণ খ্রিস্টভক্তদের মধ্যেও অনেকে সাধু-সাধ্বী আছে বলে অনেকে মনে করেন।

খ্রিস্টভক্তদের দায়িত্ব:

ঈশ্বরের সেবক টি এ গাঙ্গুলীর মাধ্যমে প্রার্থনা করা এবং আশ্চর্য কাজ ঘটলে তা স্থানীয় পাল-পুরোহিত বা বিশপকে জানাতে হবে। যেমন কেউ কঠিন রোগে আক্রান্ত। ডাক্তারের চিকিৎসায় কাজ হচ্ছে না। সেই ক্ষেত্রে যদি ঈশ্বরের সেবক টি এ গাঙ্গুলীর মাধ্যমে তার জন্য প্রার্থনা করে আশ্চর্যজনক ভাবে ফল পাওয়া যায়, সেই ঘটনা মন্ডলীর কতৃপক্ষের নিকট জানাতে হবে। এইরকম ঘটনা ঈশ্বরের সেবক টি এ গাঙ্গুলীর সাধু হতে তরান্বিত হবে।