আগামীকাল ভস্ম বুধবার

সুমন কোড়াইয়া:

“আমি ধূলি থেকে তোমায় সৃষ্টি করেছি এবং যখন তোমার মৃত্যু হবে, পুনরায় তুমি ধূলিতে পরিণত হবে”। (আদিপুস্তক ৩:১৯) আগামীকাল ধর্মীয় ভাবগাম্বীর্যের সাথে মাতা মন্ডলী পালন করবে ভস্ম বুধবার। কাথলিক, লুথারেন, ম্যাথডিষ্ট, প্রেসবেটেরিয়ান এবং কিছু ব্যাপ্টিষ্ট মন্ডলী পুনরুত্থান রবিবারের আগে ছয় সপ্তাহ প্রায়শ্চিত্তকাল পালন করে থাকে। ভস্ম বুধবারের মধ্য দিয়েই শুরু হয় প্রায়শ্চিত্তকাল।

প্রায়শ্চিত্তকাল বা উপবাসকাল আমাদেরকে সেই সময়ের ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেয় যখন প্রভু যিশু খ্রিস্ট ৪০ দিন মরু প্রান্তরে উপবাস সহকারে ছিলেন এবং তাঁর বাণী প্রচারের কাজের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছিলেন।

আগামীকাল আমরা গীর্জায় গিয়ে ভস্ম বা ছাই কপালে ধারণ করবো। ফাদার ছাই দিয়ে আমাদের কপালে ক্রুশের চিহ্ন এঁকে দিবেন। এই ছাই হচ্ছে মন পরিবর্তণের চিহ্ন স্বরূপ। প্রায়শ্চিত্তকাল হচ্ছে অনুতাপ, উপবাস ও প্রার্থনার সময়। এই সময়টা হলো যিশুর জন্য।

প্রায়শ্চিত্তকাল নিজেকে পরিবর্তন করার সময়। আমরা প্রায়শ্চিত্তকালে অনেকভাবে প্রায়শ্চিত্ত করতে পারি। যেমন আমাদের জীবনে মন্দ দিকগুলো, খারাপ অভ্যাসগুলো বাদ দিতে পারি। ভালগুণ ত্যাগস্বীকার, নম্রতা , বিশ্বস্ততা জীবনে যোগ করতে পারি।

পরচর্চা, অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার, ফেসবুক ব্যবহার কমিয়ে, কথা বেশি না বলে কথা শোনার মাধ্যমে আমরা প্রায়শ্চিত্ত করতে পারি।

ছাই বা ভস্ম আমাদের আহ্বান করে নত, নম্র হতে, ঈশ্বরের বাধ্য জীবন যাপন করতে। ভস্ম স্মরণ করিয়ে দেয় এ জগতে আমরা ক্ষণস্থায়ী, অতিথির মত, আমরা মাত্র ধূলি, দেহ থেকে প্রাণ চলে গেলে আবার ধূলিতেই এ দেহ মিশে যাবে! তাই কিসের এত অহংকার? অর্থ, কড়ি, চেয়ার, পদ, সুন্দর চেহারা, বাড়ি, গাড়ি, স্বজন, সন্তান কিছুই সঙ্গে যাবে না।

গত মাসে তেজগাঁও গীর্জায় কোন এক রবিবারে শ্রদ্ধেয় ফাদার মিন্টু পালমা উপদেশ বাণীতে বলছিলেন, “ নম্রতা সাধারণ মানুষকে স্বর্গদূতে পরিণত করে, আর অহংকার স্বর্গদূতকে শয়তানে পরিণত করে”।

প্রায়শ্চিত্তকাল হচ্ছে নম্র হওয়ার সময়। নিজের দোষ স্বীকার করার সময়। ক্ষমা চাওয়ার সময়। ক্ষমা দেওয়ার সময়।

আসুন সর্বদা সৃষ্টিকর্তার প্রতি নত নম্র হই, সৎ, বিশ্বস্ত ও বাধ্য জীবন যাপন করি। এগুলো হোক প্রায়শ্চিত্তকালের চলার পথের পাথেয়।