পানজোরায় সাধু আন্তনীর তীর্থোৎসবে ৮০ হাজার খ্রিস্টভক্ত

বিডি খ্রিস্টান নিউজ:

ধর্মীয় ভাবগাম্বীয়ের মাধ্যমে আজ অনুষ্ঠিত হলো গাজীপুরের নাগরীর পানজোরায় মহান সাধু আন্তনীর তীর্থোৎসব। এতে ৮০  হাজার খ্রিস্টভক্ত উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন নাগরীর পাল-পুরোহিত ফাদার জয়ন্ত এস গমেজ।  সাধু আন্তনীর পর্বে দেশে খ্রিস্টানদের সবচেয়ে বেশি মানুষ জমায়েত হন ভাওয়ালের পানজোরায়। এতে শুধু খ্রিস্টভক্ত নয়, হিন্দু, মুসলিম ভাই-বোনরাও সাধু আন্তনীর নিকট মানত করতে পর্বে উপস্থিত হন। প্রার্থনা করা হয়েছে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায়।

বিউটি রানী নামে এক হিন্দু নারী বলেন, ‘আমার ছেলে অসুস্থ ছিলো। ডাক্তারের ওধুষে কাজ হচ্ছিল না। সাধু আন্তনীর নিকট মানত করলে ছেলে সুস্থ হয়। তাই মোমবাতি দিতে পানজোরায় পর্বে এসেছিলাম’।

সুধীর গমেজ বলেন, তার চাকরী হচ্ছি না। সাধু আন্তনীর মাধ্যমে যীশুর নিকট প্রার্থনা করলে তিনি একটি ভাল চাকুরী  পান।

এরকম বিউটি, সুধীরের মত প্রায় লাখে আন্তনী ভক্ত পানজোরার পর্বে তাদের আবেদন ও ধন্যবাদ ও প্রশংসার ডালি নিয়ে এসেছিলেন। মানত হিসেবে ভক্তরা দিয়েছেন নগদ টাকা ছাড়াও মোমবাতি, বিস্কিট, কবুতর, ছাগল ইত্যাদি।

পর্বীয় প্রথম ও দ্বিতীয় মহা খ্রিস্টযাগ উৎসর্গ করেন যথা ক্রমে ঢাকার সহকারী বিশপ শরৎ ফ্রান্সিস গমেজ এবং ঢাকার আর্চবিশপ কার্ডিনাল প্যাট্রক ডি’রোজারিও।

কার্ডিনাল প্যাট্রক ডি’রোজারিও তাঁর উপদেশে বলেন, ‘আজকে এত মানুষের জমায়েতই প্রমাণ করে এদেশে সাধু আন্তনী কত জনপ্রিয়, মানুষের নিকট কতটা গ্রহণীয়’। তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের প্রত্যেককে ঈশ্বরের আশির্বাদ পাওয়ার জন্য খাটি খ্রিস্টান হতে হবে। তার জন্য পরিবারে, সমাজে আদর্শ হতে হবে। খ্র্রিস্টান নেতাকে হতে হবে খ্রিস্টীয় মূল্যবোধ সম্পন্ন নেতা’। তিনি হতাশ প্রকাশ করে বলেন, অনেক খ্রিস্টান নেতাদের মধ্যে খ্রিস্টীয় মূল্যবোধ চর্চার অভাব রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা তীর্থ যাত্রী, আমরা মিলন সমাজে এই পানজোরায় সাধু আন্তনীকে স্মরণ করী। আমাদের গভীরতা না থাকলে আমরা এখানে আসতাম না। এই তীর্থ যাত্রার সাথে বাংলাদেশ মন্ডলীর সকল ধর্মপ্রদেশ জড়িত। সাধু আন্তনীর প্রতি ভক্তি ভালবাসায় জড়িত। সাধু আন্তনীর প্রতি ভক্তি ভালবাসায় আকৃষ্ট হয়ে আমরা এসেছি’। তিনি  যোগ  করে বলেন, ‘আমরা দেখি সংগঠনের মূল্যবোধের অভাব। যে ব্যক্তি খ্রিস্টীয় বীজ বপন করছে না সে কিভাবে সমাজে নেতৃত্ব দিবে। প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি রাজসিংহাসন চায় না। ক্ষমতা চায় না। প্রভু যেন সেই শক্তি দেয় মিলন সমাজের জন্য।  আমরা যেন প্রজ্ঞাবান খ্রিস্টভক্ত হই। সাধু আন্তনী আমাদেও পরিচালনা দিবেন। এটা মন্ডলীর আহ্বান, সাধু আন্তনীর আাহ্বান’।

ফাদার জয়ন্ত বিডি খ্রিস্টান নিউজকে জানিয়েছেন, এ বছর পর্বীয় নভেনা এবং পর্ব উপলক্ষে এক লক্ষ খ্রিস্ট প্রসাদ বিতরণ করা হয়েছে। নভেনার সময় প্রায় প্রতিদিন কয়েক হাজার খ্রিস্টভক্ত উপস্থিত ছিলেন। পর্বের দিন ১৫০জন স্বেচ্ছাসেবক সেবা দিয়েছেন। যদিও তীর্থের বাউন্ডারীতে  ম্যগাজিন বিক্রি নিষিদ্ধ ছিলো কিন্তু তারপরও কয়েকজনকে ম্যাগাজিন বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এ বছর পঞ্চাশ টাকার বিনিময়ে খাদ্য কূপন পাওয়া গেছে। এছাড়া দূরদূরান্ত থেকে আগত আন্তনী ভক্তরা পেয়েছেন নাগরীর খ্রিস্টভক্তদের আতিথ্যেয়তা।

কিছু প্রস্তাবনা:

১। বিভিন্ন ধর্মপ্রদশ থেকে যারা আসবেন, তাদের জন্য কুপন বিনিময়ের মাধ্যমে নূন্যতম ২০/ টাকা মূল্যে (সবজি, ভাত বা সবজী খেচুড়ী) আহারের ব্যবস্থা করা ।

২। যাতাযাতের রোডম্যাপ নির্দেশিকা থাকা দরকার।

৩। প্রবেশ ও বাহির এর পথ আরো বড় করা দরকার।

৪। বিভিন্ন প্রদর্শনীর  যেমন পুকুর পাড়ের পাটা/পাথর) এর ব্যাখ্যা লেখা থাকা দরকার।

৫। পানজোরার সাধু আন্তনীর পর্ব প্রচলনের ইতিহাস নিয়ে পুস্তিকা প্রকাশ করা দরকার, যার দাম হতে পারে দশ টাকা।

৬। পেছনের দিকে আরো বেশি সংখ্যাক চেয়ার এর ব্যবস্থা করা। সেই সাথে যারা অসুস্থ্ এবং সিনিয়র সিটিজেন, যাদের চটে/মাদুরে বসতে সমস্যা হয় তাদের জন্য চেয়ারের ব্যবস্থা করা।

৭। স্বেচ্ছাসেবকদের আরো তৎপর হওয়া।