বাংলাদেশে ক্রেডিট ইউনিয়ন আন্দোলনের বর্তমান প্রেক্ষাপট

এলড্রিক বিশ্বাস:

ক্রেডিট ইউনিয়ন আন্দোলন একটি চলমান প্রক্রিয়া। এদেশে ক্রেডিট ইউনিয়নকে যিনি পরিচিত করেছেন তিনি হচ্ছেন একজন ক্যাথলিক পুরোহিত বা যাজক নমস্য ফাদার চার্লস যোশেফ ইয়াং, সিএসসি। সদূর আমেরিকা থেকে এদেশে এসেছিলেন ফাদার চার্লস যোশেফ ইয়াং, সিএসসি, তিনি পালকীয় সেবাদানের পাশাপাশি দরিদ্র, অসহায় ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া খ্রীষ্টভক্তদের জীবন মানের উন্নয়নের জন্য গড়ে তুলেছিলেন দি খ্রীস্টিয়ান কো অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিঃ, ঢাকা। ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দে গঠিত সেই ক্রেডিট ইউনিয়নটি আজও চলমান। তৎকালীন ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের আর্চবিশপ লরেন্স লিও গ্রেনার, সিএসসি ছিলেন অনুপ্রেরণাদাতা। যে কোন মহৎ কাজে যিনি নেপথ্য থেকে স্বপ্ন দেখেন, সহযোগিতা করেন তিনি হয়ে উঠেন ইতিহাসেরই অংশ।

তৎকালীন পাকিস্তানের দু’টি প্রদেশের একটি পূর্ব পাকিস্তান যা ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা লাভ করে বাংলাদেশ হিসেবে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি লাভ করে। এদেশের দেশী মহাজন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা কাবুলিওয়ালাদের সুদ ব্যবসা ও তাদের শোষণ থেকে গরীব, অসহায় মানুষকে বাঁচাতে এবং আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে দিতে শুরু হয়েছিল ক্রেডিট ইউনিয়ন আন্দোলন বা কার্যক্রম। এখন বাংলাদেশের প্রায় সব জেলাতে ক্রেডিট ইউনিয়ন আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া সকল ধর্মপল্লীতে ও চার্চে এখন ক্রেডিট ইউনিয়ন আছে। 

সমবায়ের ২১ টি ক্যাটাগরির মধ্যে ক্রেডিট ইউনিয়ন একটি। অন্যান্য সমবায়গুলোর মধ্যে গৃহায়ন, বহুমুখী, তাঁতী, যুব, মৎস, মহিলা সমিতি ইত্যাদি। ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দে শুরু হওয়া ক্রেডিট ইউনিয়ন আন্দোলন এদেশে আজ একটি সফল সমবায়ী কার্যক্রম। সমবায় অধিদপ্তরের অধীন বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ হাজার (অসমর্থিত সূত্র) ক্রেডিট ইউনিয়নের লক্ষ লক্ষ সমবায়ী সম্পৃক্ত। সদস্যরা সকলেই ক্রেডিট ইউনিয়ন থেকে উপকার পায়। ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দে ১১ টি খ্রীষ্টান ক্রেডিট ইউনিয়ন নিয়ে একটি ফেডারেশন বা কেন্দ্রীয় সমিতি দি কো অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লীগ অব বাংলাদেশ (কাল্ব) ফাদার চার্লস জে ইয়াং, সিএসসি এর উদ্যোগে যাত্রা করে। পরবর্তীতে জাতিধর্ম নির্বিশেষে সকল ক্রেডিট ইউনিয়নকে সেবা দেয়ার লক্ষ্যে কাল্ব কাজ করে যাচ্ছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতি বৎসর সমবায়ীদের পুরষ্কার প্রদান করেন। বিশিষ্ট সমবায়ী ডানিয়েল কোড়াইয়া, অরুণ বার্ণার্ড ডি’ কস্তাসহ অনেকে এবং ঢাকা, গাজীপুর ও বিভিন্ন জেলার সমবায়ীরা পুরষ্কার লাভ করছে। খ্রীষ্টিয় সমাজের ঐতিহ্য সফলগাথা এই সমবায় আন্দোলন যেন ম্লান হয়ে না যায় সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। ক্রেডিট ইউনিয়ন কেন একটি আন্দোলন ? ক্রেডিট ইউনিয়নে সদস্য সদস্যারা শেয়ারে, সঞ্চয়ে টাকা জমা দেয়, ঋণ নেয়, সুদসহ তা কিস্তিতে ফেরৎ দেয়। বিভিন্ন প্রডাক্টে টাকা জমা করে, লভ্যাংশ পায়, বিভিন্ন ভাবে উপকার পায়, এজন্য ক্রেডিট ইউনিয়ন একটি সফল আন্দোলন। ভাওয়াল অঞ্চলের ক্রেডিট ইউনিয়নগুলো ভালভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।

সাধারণত ব্যাংকে কেহ টাকা জমা রাখলে ৫ বা ১০ বৎসর পর খোঁজ খবর না নিলেও ব্যাংকের কোন দায় বা তাগাদা থাকে না কিন্তু ক্রেডিট ইউনিয়নে একজন সদস্য বা সদস্যা প্রতিমাসে শেয়ারে টাকা জমা না দিলে সে সদস্য বা সদস্যা অনিয়মিত হয়ে যায়। তাই ক্রেডিট ইউনিয়নে সদস্য বা সদস্যাকে যোগাযোগ রক্ষা করতে হয়। সেজন্য বলা হয় ক্রেডিট ইউনিয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া বা আন্দোলন। ব্যাংকে শুধু শেয়ার হোল্ডাররা লাভ বা লভ্যাংশ পায়, অন্যান্য গ্রাহকরা শুধু বিনিয়োগের জন্য নির্দ্দিষ্ট হারে সুদ পায় কিন্তু ক্রেডিট ইউনিয়নে সকল সদস্য সবরকম সুবিধা পায়। ক্রেডিট ইউনিয়নে সদস্যরা সেবা পায় আবার লভ্যাংশ পায়।

১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দে শুরু হয় এদেশে ক্রেডিট ইউনিয়ন কার্যক্রম, তার ধারাবাহিকতা এখনও চলমান। এদেশে ক্রেডিট ইউনিয়ন শুরুর কিছু পিছনের কথা আমাদের জনা দরকার। ফ্রেন্স কেনেডিয়ান মিশনারীরা এদেশে (পূর্ব পাকিস্তানে) ক্রেডিট ইউনিয়নকে পরিচিত করেন। ফ্রেন্স কেনেডিয়ান সম্প্রদায় অর্থাৎ হলিক্রস সম্প্রদায় (সিএসসি সম্প্রদায়) এর মিশনারীরা পালকীয় সেবা দিতেন চট্টগ্রাম ধর্মপ্রদেশে। তাঁরা এসেছিলেন সুদূর কানাডা থেকে। হলিক্রস সম্প্রদায় (সিএসসি) এর পুরোহিতরা আমেরিকা থেকে এসেছিলেন, তাঁরা ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশে পালকীয় কাজ করতেন। ফ্রেন্স কেনেডিয়ান পুরোহিতরা চট্টগ্রাম ধর্মপ্রদেশের অধীন বিভিন্ন ধর্মপল্লীতে কাজ করতেন। বরিশালের সাগরদীতে পালকীয় শিক্ষাদানের সময় খ্রীষ্টভক্তদের সঞ্চয় বিষয়ে শিক্ষা দিতেন। সময়টা ছিল ৫০ এর দশক। সেই সময়ে মিশনারী স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের নিয়ে গড়ে উঠেছিল  শিক্ষক সম্মিলনী সঞ্চয় প্রকল্প। এটি ছিল সকল ধর্মাবলম্বী শিক্ষক শিক্ষিকাদের জন্য সমবায়ের প্রচেষ্টা। চট্টগ্রাম ধর্মপ্রদেশের অধীন গৌরনদী, নারিকেলবাড়ী, পাদ্রীশিবপুর, বরিশালসহ বিভিন্ন মিশনারী স্কুলের শিক্ষক ও স্ট্যাফরা ছিল সদস্য। বরিশালে ফাদার আন্দ্রে পিকার্ড, সিএসসি ও ফাদার হেনরী পল ও’বে, সিএসসি সঞ্চয় প্রকল্পের দেখভাল করতেন। ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দে এই সঞ্চয় প্রকল্পটি বরিশাল ক্রেডিট ইউনিয়ন হিসেবে আতœপ্রকাশ করে বরিশাল শহরে এবং সমিতিটি আজও চলমান।

ঢাকার আর্চবিশপ লরেন্স লিও গ্রেনার, সিএসসি সঞ্চয় ও ক্রেডিট ইউনিয়ন বিষয়ে জানতে ১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রাম ধর্মপ্রদেশের বিশপ রেমন্ড লারোজ, সিএসসিকে পত্র দেন এবং জ্ঞাত হন কানাডায় সমবায় বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেয়া যায়। ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের পক্ষ থেকে ফাদার চার্লস যোশেফ ইয়াং, সিএসসি ও চট্টগ্রাম ধর্মপ্রদেশের পক্ষ থেকে ফাদার হেনরী পল ও’বে, সিএসসি কানাডার এন্টিগনিসে যান এবং তাত্বিক ও হাতে কলমে ক্রেডিট ইউনিয়ন বিষয়ে শিক্ষা লাভ করেন। সেখানে তারা দু’জন বিভিন্ন ক্রেডিট ইউনিয়নে গিয়ে, কাজ করে ৬ মাসের অধিককাল থেকে ১৯৫৪ খ্রীষ্টাব্দে পূর্ব পাকিস্তানে ফিরে আসেন। ফাদার চার্লস যোসেফ ইয়াং, সিএসসি ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দের ৩ জুলাই ঢাকার লক্ষীবাজারে ৫০ জন সদস্যকে নিয়ে শুরু করেন দি খ্রীস্টিয়ান কো অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন অব ঢাকা। ফাদার হেনরী পল ও’বে, সিএসসি ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ৬ মে  চট্টগ্রামের পাথরঘাটায় শুরু করেন দি খ্রীস্টিয়ান কো অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড, চট্টগ্রাম।

পরবর্তীতে ঢাকার ভাওয়াল ও আঠারোগ্রাম অঞ্চলে এবং সকল ধর্মপ্রদেশের বিভিন্ন ধর্মপল্লীতে, বিভিন্ন মন্ডলীর চার্চে ক্রেডিট ইউনিয়ন গড়ে উঠে। বর্তমানে বাংলাদেশে খ্রীষ্টিয় চেতনার ক্রেডিট ইউনিয়নের সংখ্যা ১৫০ টির কমবেশী। আমরা স্মরণ করি তাঁদের যাঁরা ক্রেডিট ইউনিয়ন শুরু করেছিলেন স্বেচ্ছাশ্রমে। নিজের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সময় দিয়েছেন ক্রেডিট ইউনিয়নের জন্য। প্রতিদিন বা নির্দ্দিষ্ট দিনে ও সময়ে ক্রেডিট ইউনিয়নের সদস্য সদস্যাদের কাছ থেকে শেয়ারে, সঞ্চয়ে টাকা জমা নিয়েছেন, ঋণ দিয়েছেন, ঋণের টাকা ও সুদ আদায় করেছেন, রসিদ কেটেছেন, হিসাবপত্র সংরক্ষণ করেছেন তাঁরা ছিলেন আমাদের অগ্রজ। তাঁদের শ্রমে সকল ক্রেডিট ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত। দি খ্রীষ্টিয়ান কো অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড, ঢাকা বা ঢাকা ক্রেডিটের প্রতিষ্ঠালগ্নে ফাদার চার্লস যোশেফ ইয়াং, সিএসসি এর সাথে যিনি সময় দিয়েছেন তিনি মি: ক্লিফোর্ড নরোনা অন্যতম। তিনি ছিলেন ক্যালকাটা ক্রেডিট ইউনিয়নের সভাপতি ও একজন সমবায়ের প্রাক্তন রেজিস্টার। ক্রেডিট ইউনিয়ন আন্দোলনকে সম্প্রসারিত করতে আরো যাঁরা নিবেদিত প্রাণ ছিলেন নাগরীর নাইট ভিনসেন্ট রড্রিক্স, মিসেস উইলস ( ঢাকার কাকরাইলের উইলস স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও নরোনা হাউজের মি: নরোনার মেয়ে), দক্ষিণাঞ্চলের বিশিষ্ট সমবায়ী দীনবন্ধু বাড়ৈ, চিত্তরঞ্জন হাওলাদার, যেরোম মধু, পাদ্রীশিবপুরের লাল জন গোমেজসহ আরো অনেকে। নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় আরো যে নামগুলো জানা যায় ডানিয়েল কোড়াইয়া, আলেক্সজান্ডার রোজারিও, সিলভেস্টার রোজারিও (তুমিলিয়া), অরুণ বানার্ড ডি’ কস্তা  ও আরো অনেকে।

আজকের প্রেক্ষাপটে যারা ক্রেডিট ইউনিয়নের নেতৃত্বে আছেন তারা এখন নিজ হাতে হিসাবপত্র রাখেন না। সমস্ত হিসাব ও অফিসের কাজকর্ম সম্পাদন করে স্ট্যাফরা। নির্বাচিত নেতারা সভা করেন, পলিসি তৈরী করেন। বাপ দাদারা যে শ্রম দিয়েছেন, সেইভাবে আর শ্রম দিতে হয় না। এখন অনেক ক্রেডিট ইউনিয়নে নেতারা সম্মানী ভাতা নেন নিজ নিজ ক্রেডিট ইউনিয়ন থেকে। হিসাব রাখা হয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে। তবে ম্যানুয়েল সিস্টেম এখনও অনেক ক্রেডিট ইউনিয়নে বিদ্যমান। দলাদলি, গ্রুপিং ও নেতৃত্বের লড়াই এখন সব ক্রেডিট ইউনিয়নে কমবেশী আছে। নেতৃবৃন্দ নিজ বলয়ে ক্ষমতাকে ধরে রাখতে নানা রকম কুটকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছেন। 

ক্রেডিট ইউনিয়নে গণতন্ত্রের চর্চা হয়, নির্বাচনে সদস্য সদস্যাদের ভোটে নেতৃত্বের পরিবর্তন হয়। এটাই প্রচলিত ধারা ও সমবায়ের সুন্দর নিয়ম। আর্থিকভাবে স্বচ্ছল খ্রীষ্টিয় চেতনার ক্রেডিট ইউনিয়নে নেতৃত্বের বদল হয় কিন্তু সিন্ডিকেটের বলয়ে নেতৃত্ব  বিরাজ করে প্রায়শঃ। প্রতিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীদের খরচের হাত লম্বা। নেতার গুণের চাইতে প্রভাব, প্রতিপত্তি, এখন মুখ্য বিষয় হয়ে যাচ্ছে। সৎ, যোগ্য নেতৃত্ব আমাদের খ্রীষ্টিয় চেতনার ক্রেডিট ইউনিয়নগুলো থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। অর্থ হয়ে যাচ্ছে নেতৃত্বের মানদন্ড। নেতৃত্বের লড়াইয়ে সমবায়ে নালিশ, অভিযোগ, কোর্টে মামলা এখন সাধারণ ব্যাপার। মামলার খরচ যে ক্রেডিট ইউনিয়নের বিরুদ্ধে মামলা হয় সেই ক্রেডিট ইউনিয়নকে বহন করতে হয়, যে টাকা সাধারণ সদস্য সদস্যাদের কষ্টের টাকা। অনেক সময় ক্রেডিট ইউনিয়নও সদস্য সদস্যাদের বিরুদ্ধে মামলা করে। অনেক নেতা এখন ক্রেডিট ইউনিয়নে তাদের ভূমিকার জন্য বিতর্কিত। যে সকল নেতাদের বিরুদ্ধে সুনির্দ্দিষ্ট অভিযোগ আছে তাদের জন্য সদস্যদের মন্তব্য ‘অনেক নেতা এখন সেবক নয়, ক্রেডিট ইউনিয়নের রক্ষক নয়, ভক্ষক’।

সবশেষে যে বার্তাটি সকল সমবায়ী সদস্যদের জন্য এখন অশনি সংকেত তা হল সমবায়ের ২১ ধারা। এই ধারার মাধ্যমে ২টি সমিতির নির্বাচন হয়েছে প্রতিনিধির ভোটে। অর্থাৎ ২১ ধারা প্রয়োগ করে সমিতির কর্মকর্তারা প্রতিনিধির ভোটে (৫০ বা তার বেশী ১০০ জনের জন্য ১ জন প্রতিনিধি) নির্বাচিত হবেন। আবার প্রতিনিধিরা কি ভাবে নির্বাচিত হবেন সে বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রয়োজন।  প্রতিনিধি নির্বাচন নিয়ে সাধারণ সদস্যরা উদ্বিগ্ন। কারণ সাধারণ সদস্যরা ভোট দিতে পারবেনা। তাদের ভোটাধিকার নেই। সমবায়ের ২১ ধারা বাতিল না হলে সদস্যরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতির প্রতি আস্থা রাখতে পারবে না। সদস্যরা ভোট দেয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত। ক্রেডিট ইউনিয়নের বাতাসে বিপদের গন্ধ। যেখানে ক্রেডিট ইউনিয়ন শুরু করেছিল ধর্মগুরুরা, আজ আবার ধর্মগুরুদের ভূমিকার দরকার। সদস্যদের ভোটাধিকার ও উন্নয়নের জন্য ক্রেডিট ইউনিয়নের বিকল্প নেই।

(মতামত লেখকের নিজস্ব)