ঢাকা ক্রেডিটের করা মামলায় ৫৭ধারায় আটক জয়ন্ত রোজারিওসহ ৫জনের জামিন

বিডি খ্রিস্টান নিউজ:

গতকাল ৫৭ধারায় আটক থাকা নাট্য পরিচালক জয়ন্ত  রোজারিও, স্টিভ যোসেফ কস্তা, জুয়েল সামুয়েল কোড়াইয়া ও মিজানুর রহমান মহানগর দায়রা জর্জ কোট থেকে জামিন পেয়ে জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। একই মামলায় আগের দিন ছাড়া পান আলবার্ট প্রদীপ ব্যাপারী।

১১ সেপ্টম্বর দি খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ ইউনিয়ন লি:, ঢাকা (ঢাকা ক্রেডিট) এর আইন অফিসার মার্সেল গোমেজ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে ১৭জনের বিরুদ্ধে নাম উল্লেখ সহ ২৫জনের বিরুদ্ধে এই মামলা করেছেন। এই মামলায় প্রধান আসামী হচ্ছেন ঢাকা ক্রেডিটের প্রাক্তন সেক্রেটারী দীপক পিরিছ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ১৩ সেপ্টেম্বর আটকৃতদের রিমান্ড চায়, পরে আদালত তাদের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়। ১৯ সেপ্টেম্বর আদালতের নিকট আবার রিমান্ড চায় তদন্তকারী কর্মকর্তা। আদালত রিমান্ড না মঞ্জুর করে তাদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেয়। এদিকে ১২ সেপ্টেম্বর মামলার অন্যান্য আসামী লিটন হিউবার্ট রোজারিও, ডা. নোয়েল চালর্স গমেজ, রনি ফ্রান্সিস গমেজ, সুজন ডেনিস কোড়াইয়া ও টমাস রায় উচ্চ আদালত হতে এক মাসের আগাম জামিন নেন। ১৯ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালত হতে এক মাসের আগাম জামিন নেন দীপক পিরিছ, এলড্রিক বিশ্বাস ও অমূল্য  লরেন্স পেরেরা। দ্বীতিয় দফায় ১০ অক্টোবর লিটন হিউবার্ট রোজারিও, ডা. নোয়েল চালর্স গমেজ, সুজন ডেনিস কোড়াইয়া ও টমাস রায় উচ্চ আদালত হতে আবারও আগাম জামিন নেন। ১৬ অক্টোবর জামিন নেন দীপক পিরিছ, এলড্রিক বিশ্বাস ও অমূল্য  লরেন্স পেরেরা। ২৯ অক্টোবর প্রদীপ আলবার্ট ব্যাপারী ও ৩০ অক্টোবর নাট্য পরিচালক জয়ন্ত  রোজারিও, স্টিভ যোসেফ কস্তা, জুয়েল সামুয়েল কোড়াইয়া ও মিজানুর রহমানকে মহানগর দায়রা জজ কোট জামিন দিলে তারা জেল থেকে জামিনে বের হয়ে আসেন। পুলিশ রিপোর্ট না দেওয়া পর্যন্ত তারা জামিনে থাকবেন।

জামিনে মুক্তি পাওয়া জয়ন্ত রোজারিও বিডি খ্রিস্টান নিউজকে বলেন, ‘ঢাকা ক্রেডিট আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে ও সাজানো মামলা করেছে। আমরা যে তাদের বিরুদ্ধে ভিডিও বানিয়েছি তার কোন প্রমাণ তাদের কাছে নাই, এমনকি সেই ভিডিও তারা আদালতে হাজির করতে পারে নাই”।

তিনি আরো বলেন, “ঢাকা ক্রেডিট কর্তৃপক্ষ তাদের ফেসবুক পেজে  ‘সত্য প্রকাশ’ নামে একটি ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করেছিলো, সেখানে আমাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করা হয়েছে। সেই ভিডিও তারা কোন দুর্বলতার কারণে আবার তা ডিলেট বা প্রত্যাহার করেছে সেটা বড় রহস্য এবং জানার বিষয়। নিজেদের দুর্বলতা বা দোষ ঢাকতে তারা আমাদের হয়রানী করছে, মিথ্যে মামলা দিচ্ছে। সাধারণ সদস্যদের এর জবাব দিতে হবে।”

জয়ন্ত রোজারিও আরো বলেন,  ঢাকা ক্রেডিট প্রচার করেছে, ‘গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে  যে এই ভিডিও তৈরী ও প্রচারের মূল হোতা ঢাকা ক্রেডিটের বিগত নির্বাচনে পরাজিত সেক্রেটারী পদপ্রার্থী দীপক পিরিছ ও তার কতিপয় দোসররা।’ আমি নিজে বলছি, আমরা এই ধরনের কোন স্বীকারোক্তি করি নাই। এটা মিথ্যাচার।

জয়ন্ত ঢাকা ক্রেডিটের করা মামলাকে মিথ্যে এবং বানোয়াট বলে উল্লেখ করেন।

জুয়েল সামুয়েল কোড়াইয়া  জামিনে মুক্তি পেয়ে বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ আনা হয়েছে। মিথ্যে, সাজানো, বানোয়াট মামলা দিয়ে আমাদের পারিবারিক, সামাজিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতি করা হয়েছে। আমার ছোট ছেলের হস্তার্পণ ছিল, আমি  জেলে থাকার কারণে সে অনুষ্ঠানে থাকতে পারি না”।

তিনি বলেন, আমরা কোথাও ভিডি তৈরীর কথা স্বীকার করি নাই। বর্তমান বোর্ডের সমালোচনা করায়, ফেসবুকে লেখালেখি করার কারণে আমি তাদের টার্গেট হয়েছি।

মামলার প্রধান আসামী দীপক পিরিছ বিডি খ্রিস্টান নিউজকে বলেন, “আমি ২০ আগষ্ট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর দেশে বাইরে ছিলাম। মামলার তথ্যানুযায়ী, ভিডিও আডলোড হয়েছে ২৭ আগষ্ট। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার কোন সুযোগ নাই। ভিডিও আপলোডের সাথে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নাই।”