সাম্প্রদায়িক হামলাকারীদের মনোনয়ন না দিতে সংখ্যালঘু সংগঠনের নেতাদের অনুরোধ

বিডি  খ্রিস্টান নিউজ:

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী পাঁচ দফা দাবী করেছে। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম নির্বাচনের আগে ও পরে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তারা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের সময় সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের শিকার হন। তাই তারা সংখ্যালঘু নির্যাতনকারীদের মনোনয়ন না দেয়ার জন্যও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি দাবি জানিয়েছেন।

গত শুক্রবারের ঢাকার সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ আয়োজিত মহাসমাবেশে অনুষ্ঠানে ২২টি সংখ্যাঘুদের সংগঠন অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে  জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্রের প্রতি অনাস্থার কারণে অনেক সংখ্যালঘু দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। এটি খুবই দুঃখজনক। কিছুদিন পর পর সংখ্যালঘু  নির্যাতনের ঘটনা ঘটঠে, এটি পুরোপরি বন্ধ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের পক্ষে মহাসমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদে খ্রীষ্টান এসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও। তিনি বলেন, আদিবাসীদের ৫% কোটা অব্যাহত রাখা এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটা রাখার অনুরোধ জানাই। আমরা বলেছি, যারা সংখ্যালঘুদের নির্যাতন করেছে, তাদের  মনোনয়ন না দেয়ার জন্য। তিনি জানান রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে তারা একাধিকবার বসেছেন এবং আরো বসবেন।

জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে মহাসমাবেশ শুরু হয়। ঘোষণাপত্র পাঠ করেন রানা দাশগুপ্ত। তিনি বলেন, “রাজনীতিকদের জন্যে নির্বাচনটা হচ্ছে উৎসব। কিন্তু আমরা সংখ্যালঘুদের কাছে নির্বাচন মানেই হচ্ছে শঙ্কা আর বিপর্যয়।”

তিনি আরো বলেন, “৯০ এর পর যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, এটা স্থানীয় হোক আর জাতীয় নির্বাচন হোক, যেখানে দেখা যায়, নির্বাচনের পূর্বাপর সময়ে সাম্প্রদায়িক প্রচার প্রচারণা চালানো হয়েছে। এবং সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে তাদের অব্যাহত আক্রমণ পরিচালনা করা হয়েছে। এটাই আমাদের মূল উদ্বেগের বিষয়। তাই আমরা অনুরোধ করি যারা সংখ্যালঘুদের  নির্যাতন করে, তাদের যেন মনোনয়ন দেওয়া না হয় ”

পাঁচদফা দাবিতে বলা হয়েছে, নির্বাচনের পূর্বেই সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংখ্যালঘু কমিটি গঠন, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ণ, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন, সমতলের আদিবাসীদের জন্য ভূমি কমিশন গঠন, বর্ণবৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়ণ এবং পার্বত্য শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কর্মকান্ডে জড়িত আছেন বা ছিলেন এমন প্রার্থীদের মনোনয়ন না দিতে রাজনৈতি দলগুলির প্রতি আহবান জানানো হয়। এছাড়া নির্বাচনী কর্মকান্ডে মসজিদ-মন্দির-গির্জা-প্যাগোডার ব্যবহার বন্ধ এবং তা অমান্য করলে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানান তারা।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, বাংলাদেশ খ্রিস্ট্রান এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশন, বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি, বাংলাদেশ মাইনোরিটি সংগ্রাম পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট, বাংলাদেশ হিন্দু লীগ, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতি, জগন্নাথ হল এলামনাই এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ঋষি পঞ্চায়েত ফোরাম, বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ, শ্রীশ্রী ভোলানন্দগিরি আশ্রম ট্রাস্ট, অনুভব, সাংবাদিক সংগঠন স্বজন, হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনোরিটিজ, মাইনোরিটি রাইটস ফোরাম, ওয়ার্ল্ড হিন্দু ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ চাপ্টার, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ ও বাংলাদেশ রবিদাস উন্নয়ন পরিষদ এই ২২টি সংখ্যালঘু সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ সমাবেশে অংশ নেন।