ঢাকা ক্রেডিটের করা আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় করা মামলায় ৫জন গ্রেফতার

বিডি খ্রিস্টান নিউজ:

‘দি খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লি:, ঢাকা’ (ঢাকা ক্রেডিট) এবং এর বর্তমান বোর্র্ড অব ডিরেক্টর মন্ডলীর (কর্মকর্তা) নামে মিথ্যা তথ্য চিত্র প্রচারণার মামলায় গতকাল ৫জনকে গ্রেফতার করেছে তেজগাঁও থানার পুলিশ। একইদিন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মোট ১৭জনের বিরুদ্ধে নাম উল্লেখ সহ ২৫জনের বিরুদ্ধে এই মামলা করেছেন ঢাকা ক্রেডিটের আইন অফিসার মার্সেল গোমেজ।   গ্রেফতারকৃতরা হলেন  নাট্য পরিচালক জয়ন্ত রোজারিও, ষ্টিভ যোসেফ কস্তা, এলবার্ট প্রদীপ ব্যাপারী,  জুয়েল সামুয়েল কোড়াইয়া ও মিজানুর রহমান । মামলার অন্যতম প্রধান আসামী হলেন ঢাকা ক্রেডিটের প্রাক্তন সেক্রেটারী দীপক পিরিছ। অন্যান্যরা হলেন লিটন হিউবার্ট রোজারিও, এলড্রিক বিশ্বাস, নোয়েল থিওফিল কোড়াইয়া (বিদেশ), শীতল গ্রেগরী পেরেরা (বিদেশ), নির্মল এল গমেজ (বিদেশ), সুবীর কাশ্মীর পেরেরা (বিদেশ), ডা. নোয়েল চালর্স গমেজ, রনি ফ্রান্সিস গমেজ, অমূল্য লরেন্স পেরেরা, সুজন ডেনিস কোড়াইয়া এবং টমাস রয়।

আরো পড়ুন: ঢাকা ক্রেডিট নির্বাচন: বিভক্ত খ্রিস্টান সমাজের নেতৃত্ব

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, “ভিডিও’র মাধ্যমে ঢাকা ক্রেডিট এবং এর কর্মকর্তাদের  (বোর্ড অব ডিরেক্টর মন্ডলী) বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়েছে, যেমন উক্ত ভিডিওতে প্রথমেই লেখা দেখা যায় ‘ঢাকা ক্রেডিট পরিণত হয়েছে একটি স্বৈরতান্ত্রীক পতিষ্ঠানে’ এবং পাশাপশি ঢাকা ক্রেডিট ইউনিয়ন অফিসের ছবি, এর স্থপতির ছবি এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট এর ছবি দেখানো হয়। উক্ত ভিডিওতে বলা হয় ঢাকা ক্রেডিটের বর্তমান পরিষদ মন্ডলী অবৈধ। যার সকল বক্তব্যই মিথ্যা এবং অপপ্রচারমূলক”।

এজাহারে আরো উল্লেখ আছে, “এছাড়া উক্ত ভিডিওতে ঢাকা ক্রেডিটের অভ্যন্তরীণ গোপনীয় এবং সেনসেটিভ বিভন্ন অর্থনৈতিক কাগজপত্র এর স্নেপসট দেখানো হয়েছে। এসব কাগজ পত্র দেখানোর মধ্যদিয়ে বক্তা তার বক্তব্যসমূহকে গ্রহণযোগ্য করার চেষ্টা করেছে। আদতে এসব তথ্য সমূহ আংশিক। মূলত সঠিক তথ্য গোপন করে ঢাকা ক্রেডিটের ক্ষতি করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এতে মনে হচ্ছে ঢাকা ক্রেডিটের কম্পিউটার সার্ভার হ্যাক হয়েছে বা কেউ অবৈধভাবে এর অধ্যন্তরীণ তথ্য পাচার করেছে।”

বাদী মার্সেল গোমেজ মামলায় আরো উল্লেখ করেন, “ঢাকা ক্রেডিট  ইউনিয়নের কতিপয় সদস্য যারা বিগত পরষদ নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন, তারা এই প্রতিষ্ঠানের (ঢাকা ক্রেডিটের) সুনাম ক্ষুন্ন করে বর্তমান পরিষদকে পদচ্যুত করার অভিপ্রায়ে এ সকল কার্যক্রম করেছেন বলে আমি ধারণা করছি।…”

এদিকে ঢাকা ক্রেডিটের বিগত পরষদ নির্বাচনে  চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্রাহাম গোমেজ তাদের বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বিডি খ্রিস্টান নিউজকে বলেন, “আমাদের পক্ষের কয়েকজনকে মিথ্যে মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন, তাদেরকে আমরা জামিনের জন্য চেষ্টা করছি”।

তিনি জোর  দিয়ে বলেন, “আমরা কারো বিরুদ্ধে কোন ভিডিও বানাইনি। আমরা এর সাথে সম্পৃক্ত না। আমার ধারণা অল্প বয়সী, অতি উৎসাহি তৃতীয় পক্ষ কেউ এটা করেছে”।

“তবে হ্যাঁ, ফেসবুকে যখন এই ভিডিও পেয়েছি, তখন তা সত্য মনে হয়েছে এবং তা লাইক শেয়ার দিয়েছি,” যোগ করে বলেন আব্রাহাম গোমেজ। তিনি ঢাকাস্থ পাদ্রীশিবপুর খ্রিস্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান।

বর্তমান ঢাকার খ্রিস্টান সমাজের অবস্থা খুবই করুণ উল্লেখ করে আব্রাহাম গোমেজ বলেন, এই দুর্দিনে কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও’কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই। আশা করি তিনি একটি উদ্যাগ নিবেন যেন ঢাকা ক্রেডিট নিয়ে জটিলতা, মামলা, গ্রেফতার আতঙ্ক, কুৎসা রটনা বন্ধ হয়।

আরো পড়ুন: খ্রিস্টান নেতৃবৃন্দকে ঐক্যের আহ্বান কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও’র

প্রসঙ্গত, দি খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লি:, ঢাকা  ১৯৫৫ খ্রীষ্টাব্দের ৩ জুলাই প্রতিষ্ঠিত একটি সমবায় প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা প্রায় ৪০০০০ জন এবং নিজস্ব মূলধন ও সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬১২ কোটি টাকা। সমিতিটি ১৯৫৮ খ্রীষ্টাব্দে সমবায় অধিদপ্তরে নিবন্ধনকৃত একটি সমবায় সমিতি, যা ইতোমধ্যে জাতীয় শ্রেষ্ঠ সমবায় সমিতি হিসেবে একাধিকবার স্বর্ণপদক ও স্বীকৃতি লাভ করেছে। বাংলাদেশের সমবায় অঙ্গনে এই ক্রেডিট ইউনিয়ন একটি অনুসরণীয় সমবায় সমিতিও বটে। সমিতিটি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে।

আরো পড়ুন: কার্ডিনাল প্যাট্রিকের খ্রিস্টান নেতৃবৃন্দের মধ্যে ঐক্যের আহ্বানে সমাজে করণীয়