নাটোরে লাঞ্চনার বিচার না পেয়ে খ্রিস্টান গৃহবধুর আত্ম-হত্যা

বিডি খ্রিস্টান নিউজ:

শ্লীলতাহানী ও লাঞ্চনার বিচার না পেয়ে খ্রিস্টান গৃহবধু শিপ্রা কস্তা আত্ম-হত্যা করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাতে নাটোরের বড়াইগ্রামের সরাবাড়িয়া গ্রামে। পুলিশ গতকাল বুধবার সকালে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করে এবং একই দিন বোর্নী গীর্জার কবরস্থানে তাঁর লাশ কবরস্থ করা হয়।

মামলার কপি থেকে জানা গেছে, বাড়ির কাছে দোকানী শাহ আলমের দোকান থেকে বাজার করতেন শিপ্রা কস্তা। ১৭ জুলাই শাহ আলম রাতে শিপ্রাকে ডাক দিলে সরল মনে শিপ্রা ঘর থেকে বের হন। এই সময় স্থানীয় তিন বখাটে আলম ফকির, সবুজ সরকার এবং আবু হানিফ সেখানে উপস্থিত হয়। তারা গাছের ডাল দিয়ে মারতে মারতে তাদের ঘরের ভেরত নিয়ে যায় এবং অভিযোগ করে তাদের দুই জনের মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক আছে।

এক পর্যায়ে আলম, সবুজ ও আবু হানিফ শিপ্রাকে মারধর করে। পরে তাকে ও শাহ আলমকে বিবস্ত্র করে মোবাইলের মাধ্যমে ছবি তোলে ওই তিন যুবক।
পরে তারা জোর করে শিপ্রার গলা থেকে একটি স্বর্ণের চেইন, নগদ ১০ হাজার টাকা ও মোবাইল সেট নিয়ে যায়। এ সময় তার কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করে ওই তিন যুবক। এছাড়া বিষয়টি কাউকে জানালে ও টাকা দিতে না পারলে শিপ্রার নগ্ন ছবি বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দেবে বলেও হুমকি দেয় তারা।
স্থানীয়রা জানান, এ ঘটনার পর শিপ্রা কস্তা ইউপি চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হকের কাছে অভিযোগ জানান। তিনি বিচারের আশ্বাস দিলেও দীর্ঘদিন ধরে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় আত্মহত্যার পথ বেছে নেন শিপ্রা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হক আমাদের সময়কে জানান, পুরো ঘটনাই তার জানা আছে। তবে শিপ্রায় অভিযোগ রহস্যজনক ছিল। এছাড়া তার পরিবারও মামলা করতে রাজি ছিলেন না। তিনি ধারণা করেছিলেন, মামলা করলে আরও বড় ধরনের ক্ষতি করা হবে বখাটেদের এমন হুমকির কারণে হয়তো তাদের পরিবার মামলা করা বা থানায় অনেক তথ্যই গোপন করে অভিযোগে দায়ের করেছেন। তবে দোষীদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেছেন তোজাম্মেল হক।

শিপ্রার বাবা কুটি কস্তা আমাদের সময়কে জানান, অভিযুক্তরা ক্ষমতাধর হওয়ায় তারা মামলা করতে ভয় পাচ্ছিলেন। তবে তারা মেয়ের আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারীদের শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।

শিপ্রার স্বামী ডমিনিক রোজারিও বলেন, ‘যারা আমার স্ত্রীকে আত্মহত্যা করতে প্ররোচনা করেছেন আমি তাদের বিচার চাই।’

জানা গেছে, শ্লীলতাহানীর পরদিন অর্থাৎ ১৮ জুলাই শিপ্রা কস্তা মামলা করলেও তা রেকর্ড করেনি পুলিশ। ২১ দিন পরে গতকাল মঙ্গলবার রাতে সাধারণ মামলা হিসেবে তা রেকর্ডে নেয় বড়াইগ্রাম থানা পুলিশ।

বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সৈকত হাসান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, শিপ্রাকে নির্যাতনের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়েরের পর অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। তাদের আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদপূর্বক থানায় মামলা রেকর্ড করার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছিলো কিন্তু তার আগেই শিপ্রা আত্মহত্যা করেন।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিলিপ কুমার দাস জানান, গৃহবধূ শিপ্রার আত্মহত্যার পেছনে যারা দায়ী তাদেরকে কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না। অভিযুক্তদের আটকের জন্য জোর পুলিশি তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

শিপ্রা কস্তার ৯ ও ৬ বছরের দুটি মেয়ে আছে। তার স্বামী ডমিনিক রোজারিও ঢাকায় চাকরি করেন।