ন্যায় বিচার চাই, নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা চাই

এলড্রিক বিশ্বাস:
ন্যায় বিচার চাই, নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা চাই, এই ক্ষুদ্র দাবী এখন স্কুল ও কলেজগামী ছাত্র ছাত্রীদের। গত পাঁচদিন ধরে স্কুল-কলেজগামী ছাত্র ছাত্রীরা ও কোমলমতি শিশুরা উপরোক্ত দাবীতে অটল আছে। শুধু ঢাকার রাজপথ নয়, সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ছাত্র ছাত্রীদের এ দাবীর আন্দোলন। এখন বিষয়টি টক অব দ্য টাউন সারাদেশে। এটা এখন আন্দোলন নয়, বেপরোয়া গাড়ী চালানোর জন্য যে ক’জন ছাত্র ছাত্রী বাসের চাকায় পিষ্ঠ হয়ে জীবন দিয়েছে সেজন্য। আর কোন প্রাণ যেন হারাতে না হয় তার জন্য জোর দাবীর এ আন্দোলন। সাথে ছাত্র ছাত্রীদের রাস্তায় নেমে পড়া ও ট্রাফিক ব্যবস্থায় কি ভাবে সুষ্ঠু পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তা আমাদের হাতে কলমে শিখিয়ে দিল কচিপ্রাণ শিশুরা।
ও’রা বিসিএস ক্যাডার নয়, ও’রা এমবিএ, বিবিএ বা বড় বড় ডিগ্রীধারী কেউ নয়, অভিজ্ঞ পেশাদারী নয়, রাজনৈতিক দল নয়, ও’রা শুধু সতীর্থদের বাস চাপায় মৃত্যুর ন্যায় বিচারের দাবীতে প্রথমে রাস্তায় জমায়েত হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। তার পর কি থেকে কি হয়ে গেল! বাংলাদেশের সব স্থানে আপনাআপনি নিরাপদ সড়কের দাবীতে উত্তাল হল দেশ।
ছাত্ররা নয়টি দাবী দিয়েছে। দাবীগুলো নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার স্বার্থে। দাবীর পাশাপাশি ছাত্র ছাত্রীরা রাস্তা পরিষ্কার করা, গাড়ী সারিবদ্ধ লাইনে চালানো, রোগীর ও জরুরী ভিত্তিক গাড়ীকে আলাদা লাইনে চলার ব্যবস্থা করা অর্থাৎ ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ, চলমান গাড়ীর কাগজপত্র ঠিক আছে কি না তা যাচাই, মোদ্দা কথা বাংলাদেশে ট্রাফিক ব্যবস্থা যে সুন্দর হতে পারে, তা আমাদের দেখিয়ে দিল। এটাই আমাদের সবার জন্য শিক্ষা। প্রথমাবস্থায় ছাত্র ছাত্রীদের দমনে পুলিশের ভূমিকা মারমুখী হলেও, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার ব্যাপক প্রচার এবং ফেইসবুকের বদৌলতে বর্তমানে পুলিশের ভূমিকা সহযোগী ছাত্র ছাত্রীরাতো পুলিশের পক্ষে কাজ করছে। ও’রা তো সরকারের সহায়ক। আপামর জনতার ন্যায্য দাবী, যে দাবী বহুদিন ধরে ছিল সুপ্ত সেই দাবী আমজনতার পক্ষে উতপ্ত হল সম্প্রতি।
বৃষ্টিতে ভিজে ছাত্র ছাত্রীরা রাস্তায় চলমান গাড়ী নিয়ন্ত্রণ করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্র ছাত্রীদের ন্যায্য দাবীর পক্ষে আছেন তা সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, এমপি জানিয়েছেন। অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো ছাত্র ছাত্রীদের ন্যায্য দাবীর প্রতি সমর্থন দিয়েছেন। কোমলমতি ছাত্র ছাত্রীরা সরকারের প্রতিপক্ষ নয়, তারা নিশ্চিত হতে চায় সড়কে আর যেন প্রাণ না ঝড়ে। এই আন্দোলন দূনীতি রোধ ও ন্যায্যতার পক্ষে গণজাগরণ। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে মহান মুক্তিযুদ্ধের যারা বিরোধিতা করেছিল সেই আলবদর, রাজাকার, আলসাম্স ও শান্তিবাহিনীর সদস্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য শাহবাগের আন্দোলন যেমন দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছিল তদ্রুপ এবারও যানবাহনের নৈরাজ্য, স্বেচ্ছাচারিতা রোধে এই আন্দোলন। ছাত্র ছাত্রীরা দেখিয়ে দিয়েছে সুশৃংখল ভাবে রাজধানী ঢাকায় ও বিভিন্ন শহরে যানবাহন ট্রাফিক নিয়ন্ত্রিত হতে পারে যদি আন্তরিকতা থাকে। ঘুষ, দূনীতি বন্ধ করে ফিটনেসবিহীন, যথাযথ কাগজপত্রবিহীন গাড়ী মুক্ত পরিবেশ তৈরী করা যায়। সবই সদ্ইচ্ছার উপর নির্ভর করে। গত কয়েকদিন ধরে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার ব্যাপক প্রচার এবং ফেইসবুকের মাধ্যমে মানুষ দেখেছে অসম্ভবের দেশ বাংলাদেশে সবই সম্ভব। আমরা সেই দিনের অপেক্ষায় রইলাম ‘আমাদের দেশে কবে সেই ছেলেরা হবে…….’।