ফাদার জ্যোতি এ গমেজ: একের মধ্যে অনেক প্রতিভা

ফাদার কমল কোড়াইয়া

ফাদার জ্যোতি আলেক্সিউস গমেজ আমাদের মধ্যে আর নেই। তিনি ১৬ জুলাই, সোমবার ভোর চারটায়, স্কোয়ার হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন। পরম করুণাময় ঈশ্বর তাঁর এ বিশ্বস্ত সেবককে অনন্ত শান্তি দান করুন। তুমিলিয়া ধর্মপল্লীর বোয়ালী গ্রামে জন্ম গ্রহণকারী প্রয়াত ফাদার জ্যোতি ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ২১ জানুয়ারী জর্জ গমেজ ও জিতা কস্তার ঘর আলোকিত করে পৃথিবীর মুখ দেখেছিলেন। দশ ভাইবোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। সিস্টার মিটিল্ডা, এসএমআরএ ও ক¬িটল্ডা, এসএমআরএ তাঁরই ছোট বোন।

১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে ৮ সেপ্টেম্বর ধর্মপ্রদেশীয় যাজক হিসেবে তিনি করাচিতে অভিষিক্ত হন।  তুমিলিয়া ধর্মপল্লীর ৬ষ্ঠ যাজক তিনি। তাঁর পূর্বে অভিষিক্ত পাঁচ জন যাজক হলেন- ফাদার আলফন্স কোড়াইয়া, ফাদার ফ্রান্সিস রোজারিও, ফাদার উর্বাণ কোড়াইয়া, ফাদার ষ্টিফেন গমেজ, সিএসসি ও ফাদার বার্ণার্ড পালমা। তাঁরা আগেই প্রয়াত হয়েছেন। তুমিলিয়া ধর্মপল্লীর আরও তিনজন যাজক মারা গেছেন- ফাদার বিমল রোজারিও, সিএসসি, ফাদার আব্রাহাম গমেজ ও ফাদার অতুল পালমা, সিএসসি।

ধার্মিক-সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে তিনি বেড়ে উঠেছেন। ভাওয়াল অঞ্চলের বিখ্যাত দুমেঙ্গু পন্ডিতের বিশ্বস্ত শিষ্য তাঁর বাবা ধর্মীয় সঙ্গীত নিজে রচনা করতেন, সুর দিতেন, দল বেঁধে তা পরিবেশন করতেন। তাঁর রচনা ও সুর করা পালা গান ও কষ্টের গীত (প্রায়শ্চিত্তকালে রাতে বাড়ী বাড়ী গিয়ে পরিবেশিত গান) এখনও বিভিন্ন গ্রামে-গঞ্জে সমাদৃত। ফাদার জ্যোতি তাঁর বাবার শিক্ষা ঠিকই কাজে লাগিয়েছেন।  ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে সাপ্তাহিক প্রতিবেশীর সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দ্বিতীয় ভাটিকান মহাসভার নির্দেশনায় তাঁর উপর নির্ভর করেই বাংলাদেশে গঠিত হয়  বাংলাদেশ সামাজিক যোগাযোগ কমিশন। ফাদার জ্যোতি হন এর প্রথম সেক্রেটারী। তখন যোগাযোগ কেন্দ্র বলতে ছিল মাত্র সাপ্তাহিক প্রতিবেশী। তখন হাতেগণা ক’টা বই মাত্র এখান থেকে প্রকাশিত হয়েছে। খ্রিস্টান লেখক বলতে তেমন কেউ ছিলেন না। তিনি প্রথমেই  মনোযোগ দিলেন লেখক ‘তৈরী’ কাজে। খ্রিস্টিয় যোগাযোগ কেন্দ্রের পুরাতন ভগ্ন ঘরগুলো কিছুটা মেরামত করে সেখানে তিনি লেখকদের ‘আড্ডার’  ব্যবস্থা  করেন। তার বিস্ময়কর ফল এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ খ্রিস্টমন্ডলী ভোগ করছে। কথা সাহিত্যিক নিধন ডি’রোজারিও, লেখক, গায়ক, নাট্টকার হেবল ডি’ক্রুজ, বিশিষ্ট লেখক, কবি ও কলামিষ্ট ফ্রান্সিস গমেজ ও মার্ক ডি’কস্তা এ আড্ডার উর্বর ফসল। পরবর্তীতে আরও যুক্ত হয়েছেন- যেরুম ডি’কস্তা, অতুল উইলিয়াম কুলেন্তুনু, সুলীল পেরেরা, ডা. নেবেল ডি’রোজারিও, জর্জ রুরাম, সুবল এল রোজারিও, ড. বেনেডিক্ট আলো ডি’রোজারিও, জেন কুমকুম, ষ্টিফেন কোড়াইয়া, খোকন কোড়াইয়া, এলড্রিক বিশ্বাস, প্রাণতোস হালদার, ফ্রান্সিস বালা, স্বপন খ্রিষ্টফার গমেজ, স্বপন খ্রিষ্টফার পিউরীফিকেশন, মিনু গরেটি কোড়াইয়া, ঝর্ণা চিরান, মত্যেন্দ্র মানখিনসহ আরও অনেকে। এখন পর্যন্ত এ কবি-লেখকগণই স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে অবদান রেখে যাচ্ছেন। জেরী প্রিন্টিং প্রেস ফাদার জ্যোতিরই একটি অনবদ্য অবদান। সাপ্তাহিক প্রতিবেশী আজ নিজের প্রেসেই ছাপা হচ্ছে। প্রেসের আয় দিয়ে খ্রিষ্টিয় যোগাযোগ কেন্দ্রের ঘাটতিও মেটানো যাচ্ছে। তিনি বাংলাদেশ কাথলিক গণযোগাযোগ মাধ্যমেকে বিশ্বের বিভিন্ন বড় বড় মিডিয়া সংস্থার সদস্য করেছেন। রেডিও-টেলিভিশনের আন্তর্জাতিক সংস্থা- OCIC, ক্যাসেট-ভিডিও’র আন্তর্জাতিক সংস্থা- UNDA (বর্তমানে উপরোক্ত দুইটি সংস্থা মিলে হয়েছে SIGNIS, প্রিন্ট মিডিয়া ও সাংবাদিকতার আন্তর্জাতিক সংস্থা UCIP -সদস্যপদ ফাদার জ্যোতির একান্ত প্রচেষ্টারই ফসল।

ad

অডিও-ভিডিও ক্ষেত্রেও ফাদার জ্যোতির অবদান অসামান্য। বাংলাদেশ কাথলিক বিশপ সম্মিলনীর অনুমোদনক্রমে তিনি স্থাপন করেন বাণীদীপ্তি। প্রধান লক্ষ ধর্মীয় গানের ক্যাসেট বের করা। বলা দরকার, তখনকার সময়ে বাণীদীপ্তি রেকডিং স্টুডিওটি ছিল বাংলাদেশের প্রথম সারির মানসম্মত একটি । অর্থ সংগ্রহ একটি বড় চ্যালেঞ্জতো ছিলই, তার চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল শিল্পী প্রস্তুত করা। এ কাজটিও তিনি করেছেন দক্ষতার সাথে। তিনি বরিশাল থেকে সুশীল বাড়ৈ, ঢাকা থেকে ম্যাথিও দীপক বোস, নিপু গাঙ্গুলী, যোসেফ কমল রড্রিক্স, শেখর ই. গমেজ, লিও জে বাড়ৈ, জাসিন্তা বাড়ৈ, ফাদার ফ্রান্সিস সীমা, সিস্টার অমিয়া, এসএমআরএ,  বার্থালমিয় সাহা, ফাদার জের্ভাস রোজারিও (বর্তমানে রাজশাহীর বিশপ), ফাদার প্যাট্রিক গমেজসহ আরও কিছু প্রতিভাবন শিল্পীর সমন্বয়ে গড়ে তুলেন বাণীদীপ্তি গানে দল। তাদের অক্লান্ত শ্রমের ফসল বাংলায় প্রথম খ্রিস্টিয় সঙ্গীতের ক্যাসেট ‘বড়দিন’ ও ‘গুডফ্রাইডে’ আজ পর্যন্ত হিট করা খ্রিস্টিয় সঙ্গীতের মধ্যে প্রধান। ফাদার জ্যোতির প্রচেষ্টায়ই ভাটিকানে খ্রিস্টিয় সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় হেবল ডি’ক্রুজের কথা ও সুরে শেখর ই গমেজের কন্ঠে ‘ওরে আমার পাগলা মন..’ গানাটি স্বর্ণ পদক পেয়েছিল। বাণীদীপ্তি শুধু গানই করেনি। এ শিল্পীগণ সফল ধর্মীয় নাটকও মঞ্চস্থ করেছে। তৎকালীন ফাদার প্যাট্রিক ডি’রোজারিও, বর্তমানে কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও, সিএসসি ছিলেন বাণীদীপ্তি প্রযোজিত নাটকের একজন অন্যতম অভিনেতা।

রেডিও ভেরিতাস এশিয়ায় বাংলা অনুষ্ঠান সম্প্রচারেও তার অবদান অস্বীকার করা যাবে না। যে কাজটির জন্যে আজীবন তিনি অমর হয়ে থাকবেন তা হল এপার বাংলা আর ওপার বাংলার বাঙ্গালীদের তিনি এ রেডিও’র অনুষ্ঠানমালার মধ্য দিয়েই ‘এক পরিবারে’ পরিণত করেছিলেন। ওপার বাংলার জেস্যুইট ফাদার গাঁস্ত রবেজ ও ফাদার জ্যোতি মিলে শুরু করেছিলেন সুদূর ফিলিপাইন থেকে প্রচারিত রেডিও ভেরিতাসে বাংলা অনুষ্ঠানমালা। খুবই জনপ্রিয় ছিল এ অনুষ্ঠানগুলো। বর্তমানে কমিউনিটি রেডিও অনুষ্ঠান বলতে যা বুঝায় তা রেডিও ভেরিতাস থেকে সম্প্রচারিত হচ্ছে প্রায় ২৫বছর  ধরেই। আর এর স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন ফাদার জ্যোতি এ গমেজ। তিনি নিজ হাতে রেডিও শিল্পীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন, ফাদার সুনীল ডানিয়েল রোজারিও, ফ্লোরেন্স ডি’ক্রুজ, স্নিগ্ধা মল্লিক, শেখর ই গমেজ, সাইফুদ্দীন সবুজ প্রমুখ।  তিনি নিজেও রেডিও ভেরিতাসের বাংলা অনুষ্ঠানের সমন্বয়কারী, বাংলা বিভাগের প্রধানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

লেখক হিসেবেও তিনি ছিলেন অসাধারণ। তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী ফাদার জ্যোতি সাপ্তাহিক প্রতিবেশী আধুনিকায়ন করার ক্ষেত্রে রেখেছেন অনবদ্য অবদান। তাঁর লেখা সম্পাদকীয়গুলো আজও ধর্ম, সমাজ, রীতি-নীতি ও রাজনীতির সূক্ষ্য বিশ্নেষণ তুলে ধরে। তাঁর লেখাগুলো ছিল গভীর, তথ্য-তত্ত্ববহুল। সুখপাঠ্য। বাংলাদেশ কাথলিক মন্ডলীতে তাঁর লেখাগুলো ঐতিহাসিক দলিল হয়ে থাকবে।

তাঁর অসাধারণ প্রতিভা শুধু মিডিয়া জগতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। যুব কার্যক্রমেও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। বাংলাদেশ বিশপ সম্মিলনী কর্তৃক গঠিত প্রথম ‘যুবসেবা দল’ (বর্তমানে যুব কমিশন)-এর প্রথম সমন্বয়কারী ছিলেন ফাদার জ্যোতি। তাঁর সাথে ছিলেন ফাদার বেঞ্জামিন কস্তা, সিএসসি, ফাদার টনী, পিমে। জেনে রাখা ভাল- দ্বিতীয় ভাটিকান মহাসভার শিক্ষার আলোকে বাংলাদেশ কাথলিক ম-লীতে নবায়ন করতে যাঁরা বিশেষ অবদান রেখেছেন তাঁদের মধ্যে- ফাদার জ্যোতি, ফাদার ফ্রান্সিস সীমা, ফাদার বেঞ্জামিন কস্তা, সিএসসি, ফাদার বার্ণার্ড পালমা ও ফাদার প্যাট্রিক ডি’রোজারিও, সিএসসি (বর্তমানে কার্ডিনাল)-এর অবদান অগ্রগণ্য। দ্বিতীয় ভাটিকান মহাসভার দলিল বাংলায় অনুবাদসহ অনেক ধর্মীয় পুস্তক তাঁরা প্রাঞ্জল বাংলায় অনুবাদ করেছেন। খ্রিস্টিয় পরিভাষা পুস্তকটি তাদেরই সংঘদ্ধ প্রচেষ্টায় ফসল। খ্রিস্টিয় উপাসনা সংস্কৃত্যায়নেরও ক্ষেত্রে তাদের অবদান  কোনদিন অস্বীকার করা যাবে না। বিশেষভাবে ফাদার ফ্রান্সিস সীমা উপসানা দেশীয়করণে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন।

পালক হিসেবে বিভিন্ন ধর্মপল্লীতেও তিনি অসামান্য অবদান রেখেছেন। ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশের মরিয়মনগর ও জলছত্র ধর্মপল্লীর সহকারী ও হাসনাবাদ, গোল্লা, তেজগাঁও ধর্মপল্লীতে তিনি পালপুরোহিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশীয় সংস্কৃতি-স্থাপত্য শিল্পের প্রতি তাঁর যে ভাল লাগা-ভালবাসার বিষয় ছিল তা হাসনাবাদ গীর্জার সংস্কার কাজ দেখলেই বুঝা যায়। তাঁর হাত ধরেই ১৭৭৭ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত গীর্জাঘরটির আকার-প্রকৃতি ঠিক রেখে ব্যয়বহুল সংস্কার কাজটি করা হয়েছে। ধর্মপল্লীর আধ্যাত্মিক, কাঠামোগত, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে ছিল তাঁর পালকীয় কাজের প্রধান লক্ষ্য।

আজ ফাদার জ্যোতি আমাদের মাঝে সশরীরে আর নেই। তিনি বেঁচে থাকবেন আমাদের মাঝে তাঁর সুন্দর সেবা কাজের মধ্য দিয়ে। প্রভুর চারণভূমিতে তাঁর বিশ্বস্ত অবদানের মধ্য দিয়ে। তিনি কথা বলবেন আমাদের চেতনায়-প্রেরণায়। আমাদের প্রতিদিনকার চলার পথে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে নানা পথ নির্দেশনায়। তিনি আমাদের সাথে আছেন, থাকবেন পরম পিতার একান্ত কাছে থেকে তাঁর নিকট থেকে আমাদের জন্যে বিশেষ কৃপাশীর্বাদ এনে দিয়ে। পরম করুণাময় ঈশ্বর তাঁর এ ভক্তকে অনন্ত শান্তি দান করুন।

 

এক নজরে ফাদার জ্যোতি এ গমেজ

 

নাম: ফাদার জ্যোতি আলেকসিউস গমেজ

–              পিতা: স্বর্গীয় জর্জ যোসেফ গমেজ

–              মাতা: স্বর্গীয়া জিতা কস্তা

–              ভাই বোন: ভাই ৬ জন ও বোন ৪ জন

–              পরিবারে ফাদার জ্যোতির স্থান: ৩য়

–              জন্ম: ২১-১০-১৯৪২ গ্রাম: বোয়ালী, তুমিলিয়া ধর্মপল্লী, গাজীপুর জেলা

 

শিক্ষাজীবন

–              প্রাইমারী স্কুল: তুমিলিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৯৪৯ -১৯৫৫ খ্রীষ্টাব্দ

–              হাইস্কুল: সেন্ট নিকোলাস হাইস্কুল, নাগরী (১৯৫৬ খ্রীষ্টাব্দ) ও বান্দুরা হলি ক্রশ হাইস্কুল:  ১৯৫৭-১৯৬২ খ্রীষ্টাব্দ

–              এসএসিিস পাশ: বান্দুরা হলি ক্রশ হাইস্কুল: ১৯৬২ খ্রীষ্টাব্দ ২য় বিভাগ

–              এইচএসসি : নটর ডেম কলেজ: ১৯৬৪ খ্রীষ্টাব্দ ২য় বিভাগ

–              ডিগ্রী: নটর ডেম কলেজ: ১৯৬৬ খ্রীষ্টাব্দ ২য় বিভাগ

 

সেমিনারী জীবন

–              ক্ষুদ্রপুষ্প সেমিনারী, বান্দুরা: ১৯৫৭ খ্রীষ্টাব্দ (৭ম শ্রেণীতে ভর্তি)

–              সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক সেমিনারী, রমনা: ১৯৬২ – ১৯৬৫ খ্রীষ্টাব্দ

–              খ্রাইষ্ট দি কিং সেমিনারী, করাচী: ১৯৬৬ – ১৯৭১ খ্রীষ্টাব্দ

–              শুভ্রপোষাক/ক্যাসাক লাভ: করাচীতে ১৯৬৭ খ্রীষ্টাব্দ

–              ডিকন পদে অভিষেক: ১৯৭০ খ্রীষ্টাব্দ করাচীতে

–              যাজক পদে অভিষেক: ১৯৭২ খ্রীষ্টাব্দের ৮ই সেপ্টেম্বর করাচীতে, কার্ডিনাল যোসেফ কর্ডেরো কর্তৃক

 

উচ্চতর ডিগ্রী/ডিপ্লোমা লাভ

  • – Third World Journalism, Communication Foundation in Manila, Philippines in 1980
  • Radio & TV Producership Course in London in 1984

 

পালকীয় সেবাদান:

–              মরিয়মনগর ধর্মপল্লী, বর্তমান ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশ, সহকারী পালপুরোহিত: ১৯৭৩

–              জলছত্র ধর্মপল্লী, বর্তমান ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশ, সহকারী পালপুরোহিত: ১৯৭৪

–              সাপ্তাহিক ‘প্রতিবেশী’এর সম্পাদক: ১৯৭৫ – ১৯৮১ খ্রীষ্টাব্দ (একই সঙ্গে লক্ষীবাজার ধর্মপল্লীর সহকারী পাল পুরোহিত: ১৯৭৫ – ১৯৭৭ ও তেজঁগাও ধর্মপল্লীর সহকারী পাল পুরোহিত: ১৯৭৭ – ১৯৮০, কাথলিক যুব সেবাদলেও কো-অর্ডিনেটর হিসবাবে সেবাদান করেছেন)

–              খ্রীষ্টিয় যোগাযোগ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক: ১৯৮২ – ১৯৯০

*(সর্বমোট ১৫ বৎসর সাপ্তাহিক প্রতিবেশী ও যোগাযোগ কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেন)

–              রেডিও ভেরিতাসের বাংলা প্রোগ্রামের Producer হিসাবে কর্মরত, ম্যানিলা, ফিলিপাইন: ১৯৯১ – ১৯৯৩

–              কো-অর্ডিনেটর, রেডিও ভেরিতাসের বাংলা প্রোগ্রামের, ম্যানিলা, ফিলিপাইন: ১৯৯৪ – ১৯৯৬

–              হাসনাবাদ ধর্মপল্লী: পালপুরোহিত ১৯৯৬ – ২০০২ (এই সময়েই হাসনাবাদ গীর্জার মেরামতের কাজ করা হয়)

–              তেজঁগাও ধর্মপল্লী: পালপুরোহিত ২০০২ – ২০০৭

–              গোল্লা ধর্মপল্লী: পালপুরোহিত ২০০৭ – ২০০৯

–              বান্দুরা সেমিনারীতে বিশ্রাম ও চিকিৎসা এবং সেমিনারীর পরিচালকের উপদেষ্টা: ২০০৯ – ২০১১

–              সেন্ট যোসেফস সেমিনারী, রমনা, আধ্যাতিœক উপদেষ্টা: ২০১২ – ২০১৪ (একই সময়ে ঈশ্বরের সেবক আর্চবিশপ গাঙ্গুলীকে ধন্য শ্রেণীভুক্তকরণের Episcopal Delegate

–              আর্চবিশপস হাউসে যাজক সদনে অবস্থান: অসুস্থতার জন্য চিকিৎসা, বিশ্রাম ২০১৪ খ্রীষ্টাব্দ থেকে –

–              মৃত্যু: ১৬ই জুলাই ২০১৮ ভোর ৪টায় স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়

সখ: গান বাজনা, খেলাধূলা, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড ও ভ্রমন

 

বিশেষ স্মরণীয় ঘটনা:

–              সাধু পোপ ২য় জন পলের ১৯৮৬ খ্রীষ্টাব্দে বাংলাদেশ সফরের সময় মিডিয়া প্রোগ্রামের সমন্বয়কারী হিসাবে দায়িত্ব পালন

 

গ্রন্থনায়: ফাদার সুব্রত বি. গমেজ