সময়ের বিকল্প ভাবনা- ৩

ফাদার সুনীল রোজারিও:

শহর আর গ্রামের মধ্যে আগে অনেক তফাৎি ছলো, এখন আর তেমন নেই। শহর থেকে কেউ গ্রামে আসলে দেখতে যেতাম। যে সব জিনিস গ্রামে কল্পনা করা যেতো না- এখন পাওয়া যায়। শহওে বসে যে সিরিয়াল দেখা যায় গ্রামে বসেও দেখাযায়। এখন গ্রামেও সবার হাতে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল। গ্রামের পড়–য়াদেও সোস্যায়াল মিডিয়া নখদর্পনে। দু’একবছর বাদে গ্রামে গেলে মনে হয় রাস্তা ভুল করেছি। গোষ্ঠির বাড়ি খুঁজে পাই না। মেলা পরিবর্তন। যেখানে কাঁচা বাড়ি ছিলো সেখানে পাকাবাড়ি। যেখানে আগে বাড়ি ছিলো না সেখানে বাড়ি। অনেক বাড়িতে তালা। থাকার লোক নাই। সবাই শহরে থাকে। এখন কস্তার বাড়ি, বিটুর বাড়ি বাগায়েন বাড়ি বললে কেউ চিনে না। ঐ যে মন্টু যে দুবাই থাকে সেই বাড়ি। ইলেক্ট্রিক লাইনের সঙ্গে সমান্তরালভাবে ডিস লাইনও এবাড়ি সেবাড়ি পৌছে গেছে। টিভি নাই এমন বাড়ি খুঁজে দেখতে হবে। ঘরে ঘরে ফ্রিজ আছে। সেই রূপ কথার গল্পের মতো বলতে হয়, “রাজার ঘরে যেই ধন আছে টুনির ঘরে সেই ধন আছে।” বিদ্যুৎতায়ন গ্রামের চেহারা বদলে দিয়েছে। বলা যায় প্রায় সবারআর্থিক সামর্থ বেড়েছে। যেখানে এক সময় লুঙ্গি কুচি দিয়ে হাটতে হতো এখন সেটা পাকা রাস্তা। গ্রামের মাঝ বরাবর দিয়ে পাকা রাস্তা চলে গেছে বাজার থেকে বাজারে এবং উপজেলায়। এতে করে স্থানীয় হাট বাজারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বেড়েছে। আমদানি রপ্তানিসহজ হয়েছে। অনেক রাস্তা দিয়ে বাস চলে। টেম্পু, ভঠভঠি, ভ্যান আর সিএজি’র তো কথাই নেই। এক কিলোমিটার হাটারও প্রয়োজন পড়ে না। তবুও গির্জায় ভক্তের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। ক ীহবে- ঈশ্বর তো সব স্থানে বিদ্যমান আছেন।

আগে চিনির অভাবে বাড়িতে নুনচা খেয়েছি। এখন সব থাকলেও বাড়িতে চাখাওয়ার অভ্যাস খুব কম। কষ্ট কওে ইউনিয়ন পরিষদ বাজারেচা খেতে যেতে হয় না। পাকা রাস্তার বাঁকে বাঁকে মোড়ে মোড়ে পানবিড়ি ও চায়ের দোকান গড়ে উঠেছে। নিত্য দিনের অনেক কিছুই এই মোড়ে পাওয়া যায়। সন্ধ্যা হলেই এই মোড়ের দোকানগুলোতে ভীড় বাড়তে থাকে এবং আরো নাকি কিছ ুপাওয়া যায়। ইয়াবা, বাবা আর ডাইল- এগুলো আজো চোখে দেখেনি। এই সময়ে কল দিলে সব সময় উত্তর প্রায় একই রকম, “একটু মোড়ে আইছি।”এইসব দোকানে যে কতো রকমের আলাপ আলোচনা হয় সেটা মাত্র ঈশ্বর জানে। সব খবর পাওয়া যায় আর সবাই আপডেট থাকে। হাড়ির খবর, ঘরের খবর, গুজব, রাজনীতি, ধর্মনীতি ও দেশ বিদেশের তা বদ খবরই আছে। এখন তো বিশ্বকাপ ফুটবলের সময়। টাকা খরচ কওে রাশিয়া যেতে হবে না- এখানে বসে সব নিউজ করা যাবে।

মোড়ের দোকানিরাও এখন ব্যবসাটা ভালোই শিখেছে। চায়ের দোকানে টিভি এবং সঙ্গে ডিস লাইনের ব্যবস্থা রেখেছে।  চায়ের সঙ্গে বাড়তি পাওয়া সিরিয়াল। তাই এতো সকাল সকাল বাড়ি গিয়ে কি হবে। এখন তো আর রোজারি মালা প্রার্থনার কোনো দায় নেই। ছেলে মেয়েদের পড়ার তাড়া আছে। বউ-ঝিদেরও প্রার্থনার কোনো তাড়া নেই। কর্তাবাবু দেরী করে ঘওে ফিরলেইতো ভালো। ততোক্ষণে সিরিয়ালটা শেষ করা যাবে।

আরো পড়ুন: সময়ের বিকল্প ভাবনা- ২