ফাদার আলবিনুস টপ্প্য মারা গেছেন

বিডি খ্রিস্টান নিউজ:

২৬ মার্চ দুপুর ২টায় দিনাজপুর কাথলিক ধর্মপ্রদেরশর সিনিয়র পুরোহিত  ফাদার আলবিনুস টপ্প্য (৬২) মারা গেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনী রোগে ভোগছিলেন। গত শুক্রবার ঢাকায় মারা গেছেন ফাদার বার্নাড পালমা

২৭ মার্চ, সকাল ১০ টায় দিনাজপুরের বিশপ সেবাষ্টিয়ান টুডু কসবার কাথিড্রালে  তাঁর  অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার  খ্রিষ্টযাগ উৎসর্গ করেন। এসময় উপদেশে বিশপ সেবাষ্টিয়ান বলেন,  ‘ফাদার আলবিনুস অত্যন্ত  সহজ সরল, সদা হাস্যজ্জল, প্রার্থনালী মানুষ  ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন আদর্শবান পুরোহিত। আমরা তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাই”।

রাজশাহী, নাটোর, জয়পুরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুরসহ প্রায় ১০টি জেলা ধর্মপল্লীর পূরোহিতগণ প্রয়াত ফাদার আলবিনুস টপ্প’র মরদেহে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করেন।

তাঁর সংক্ষিপ্ত  জীবনী: তিনি ২ এপ্রিল ১৯৫৬ সালে দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার মারিয়ামপুর ধর্মপল্লীর অধীনস্থ ইটপির গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা প্রয়াত আমব্রোস টপ্প্য ও আগাথা মিন্জি। তিনি তার গ্রামের বাড়ীতে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়া-লেখা করে ১৯৭৫ সালে মাইনর সেমিনারীতে যোগদান করে সেন্ট ফিলিপস্ স্কুল থেকে ১৯৭৭ সালে এসএসসি এবং রমনা ইন্টারমেডিয়েট সেমিনারীতে থেকে নটরডেম কলেজথেকে ১৯৭৭ -১৯৮৯ সালে যথাক্রমে এইচএসসি ও ডিগ্রি পাশ করেন। আনুষ্ঠানিক পড়া-লেখা শেষে তিনি ১৯৮০ সালে জাতীয় মেজর সেমিনারী, বনানীতে যাজকীয় লেখা-পড়া শুরু করেন। সেখানে দর্শনশাস্ত্র ও ধর্মত্ত্ব লেখা-পড়া শেষ করে ১৯৮৭ সালে আরও ১১ জন সহপাঠির সঙ্গে তৎকালীন দিনাজপুর ধর্মপ্রদেশের বিশপ থিয়োটনিয়াস গমেজ সিএসসি কতৃক দিনাজপুর ক্যাথিড্রাল গির্জায় ডিকন পদে অভিষিক্ত হোন এবং ডিকন হিসেবে নির্দিষ্ট সেবা কাজ শেষ করে ২৪ জানুয়ারী ১৯৮৮ সালে দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার মারিয়ামপুর ধর্মপল্লীর আরও দু’জন ডিকনের ফাদার কেরুবিম বাক্লা ও ফাদার লরেন্স মূর্মূ এর সাথে ধর্মপল্লীর গির্জায় যাজপদে অভিষিক্ত হোন। যাজক হিসেবে বোর্নী ও রহনপুর ধর্মপল্লীতে প্রায় ৩ বছর পালকীয় সেবা কাজ করার পর তিনি মিশর দেশের কায়রোতে আরবী ভাষা শিক্ষা গ্রহণ করে ইতালী দেশের রোম শহরে ইসলাম ধর্মের উপর পড়া শুনা করেন।

তাঁর কর্মস্থল সেবাকর্ম: ১৯৮৮-১৯৮৯ বৃহত্তর দিনাজপুর ধর্মপ্রদেশের বোর্নী ধর্মপল্লী, ১৯৮৯-১৯৯১ বৃহত্তর দিনাজপুর ধর্মপ্রদেশের মহরনপুর ধর্মপল্লী, ১৯৯২-১৯৯৬ বিদেশে পড়াশুনা, ১৯৯৮-১৯৯৯ বনানী উচ্চ সেমিনারী, ২০০০-২০০৪ ঠাকুরগাঁও জেলার রুহিয়া ধর্মপল্লী, ২০০৫-২০১৪ পর্যন্ত বলদিপুকুর ধর্মপল্লী, পাথরঘাটা ধর্মপল্লী, লোহানিয়াপাড়া ধর্মপল্লী, খালিশা ধর্মপল্লী। ২০১৪ সালে ৬ মাস বিরামপুর উপজেলার ধানজুড়ী ধর্মপল্লী, ২০১৪ সালে ধর্মপ্রদেশীয় শিক্ষা কমিশন,সেন্ট ফিলিপস্ বোর্ডিং এবং ২০১৭ সালে সেন্ট ফিলিপস্ স্কুল এন্ড কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য হিসেবে ছিলেন।