তিন হাজার খ্রিস্টভক্তের উপস্থিতিতে পাল্লিউম বসনে বিভূষিত হলেন আর্চবিশপ মজেস কস্তা

চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটান আর্চবিশপ মজেস এম. কস্তা, সিএসসি’কে পাথরঘাটা সেন্ট প্ল্যাসিডস্ স্কুল এ- কলেজ প্রাঙ্গনে প্রায় তিন হাজার খ্রিস্টভক্তের উপস্থিতিতে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস কর্তৃক প্রদত্ত ‘পাল্লিউম’ অর্পন করা হলো শুক্রবার, ৮ সেপ্টেম্বর । ভাটিকান রাষ্ট্রপ্রধান পোপ ফ্রান্সিসের নামে আর্চবিশপ মজেস কস্তা, সিএসসি’কে সকাল ১০.০০ টায় ‘পাল্লিউম’এ বিভূষিত করেন ভাটিকান রাষ্ট্রদূত মাননীয় আর্চবিশপ জর্জ কোচেরী। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকার আর্চবিশপ মাননীয় কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও, সিএসসি; বরিশালের বিশপ লরেন্স সুব্রত হাওলাদার, সিএসসি; দিনাজপুরের বিশপ সেবাস্টিয়ান টুডু, খুলনার বিশপ জেমস্ রমেন বৈরাগী, ময়মনসিংহের বিশপ পল পনেন কুবি, সিএসসি; রাজশাহীর বিশপ জের্ভাস রোজারিও, সিলেটের বিশপ বিজয় ডি’ক্রুজ, ওএমআই; ঢাকার সহকারী বিশপ শরৎ ফ্রান্সিস গমেজ, প্রাক্তন সহকারী বিশপ থিয়োটনিয়াস গমেজ, সিএসসি এবং ভাটিকান দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারী মন্সিনিয়র লুকা মারাবিস। এছাড়াও ছিলেন শতাধিক কাথলিক যাজক এবং দুই শতাধিক ব্রাদার ও সিস্টার।

চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটান আর্চবিশপ মজেস এম. কস্তা, সিএসসি
চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটান আর্চবিশপ মজেস এম. কস্তা, সিএসসি

বিকাল ৫.০০ টায় আর্চবিশপ মজেস এম. কস্তা, সিএসসি’র সম্মানার্থে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সরকারী ও বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন দেশের কনসালবৃন্দ, বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিবৃন্দ।

গত ২ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫.০০ টায় বিশ^ কাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস “চট্টগ্রাম ডাইয়োসিস”-কে “চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটান আর্চডাইয়োসিস” মর্যাদায় উন্নীত করেন। একই সাথে বিশপ মজেস কস্তা, সিএসসি’কে নব প্রতিষ্ঠিত “চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটান আর্চডাইয়োসিস”এর প্রথম মেট্রোপলিটান আর্চবিশপ হিসেবে নিয়োগ দান করেন। গত ২৯ জুন ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ তারিখে আর্চবিশপ মজেস কস্তা, সিএসসি ভাটিকান সিটিতে কাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিসের নিকট থেকে ‘পাল্লিউম’ গ্রহণ করেন। ‘পাল্লিউম’ মেষের/ ভেড়ার লোমে বোনা একটি বিশেষ পোশাক যা একজন মেট্রোপলিটান আর্চবিশপ তার পালকীয় অধিকার ও দায়িত্বের চিহ্নস্বরূপ পরিধান করেন।

চট্টগ্রাম ডাইয়োসিস এর এলাকা বাংলাদেশের ৯টি প্রশাসনিক জেলা জুড়ে বিস্তৃত। জেলাগুলো হলো: চাঁদপুর, লক্ষীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান এবং কক্সবাজার। এই জেলাগুলোতে কাথলিক খ্রিস্টানদের প্যারিশ বা চার্চ আছে ১১টি এবং সাব-প্যারিশ আছে ৫টি। চট্টগ্রাম ডাইয়োসিস-এর প্রধান ধর্মযাজক মাননীয় ‘বিশপ’ চট্টগ্রাম শহরের পাথরঘাটাস্থ বিশপ ভবন-এ অবস্থান করেন।

ঐতিহাসিক এবং আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম বিশেষভাবে স্মরণীয়। বাংলাদেশে চট্টগ্রামেই প্রথম খ্রিস্টানদের বসতি গড়ে ওঠে ১৫১৮ খ্রিস্টাব্দে পর্তুগীজ ব্যবসায়ীদের আগমনের মধ্য দিয়ে। ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে পাথরঘাটা এবং আনোয়ারা উপজেলার দিয়াং-এ গড়ে ওঠে প্রথম গির্জা। জেজুইট সম্প্রদায়ের যাজক ফাদার ফ্রান্সেসকো ফার্ণান্দেজ ১৫৩৭ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রামে আসেন এবং পরবর্তীতে আরাকানদের দ্বারা নির্যাতিত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তৎকালে বাংলাদেশে কোন ডাইয়োসিস ছিলনা। ১৮৪৫ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম অবিভক্ত পূর্ব বঙ্গের ‘ভিকার এপোস্টলিক’ এর ধর্মাসন-এর মর্যাদা লাভ করে অর্থাৎ কোন ডাইয়োসিস না থাকায় চট্টগ্রাম’ই ছিল সমস্ত পূর্ব বঙ্গের কাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান কেন্দ্র। পরবর্তীতে ‘ভিকার এপোস্টলিক’ এর ধর্মাসন চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়। ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রামকে ‘ডাইয়োসিস’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়। তখন চট্টগ্রাম ডাইয়োসিস এর এলাকাধীন ছিল বর্তমান বরিশাল ডাইয়োসিস এবং ভারত ও মায়ানমার-এর বিস্তৃত এলাকা। চট্টগ্রাম একটি বন্দর নগরী এবং স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক কেন্দ্র বিন্দু। চট্টগ্রামের রয়েছে সুদীর্ঘ সমৃদ্ধ রাজনৈতিক ইতিহাস। চট্টগ্রামে বিশেষভাবে শিক্ষা সেবা এবং চিকিৎসা সেবায় কাথলিক খ্রিস্টানগণ জড়িত আছেন শুরু থেকেই এবং তারা সেবা করছেন জাতি, ধর্ম, বর্ণ, আর্থিক অবস্থা নির্বিশেষে সকলকে। চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক গুরুত্ব দেশব্যাপী সর্বজনস্বীকৃত। চট্টগ্রাম ডাইয়োসিস একটি ‘মেট্রোপলিটান আর্চডাইয়োসিস’ এ রূপান্তর হওয়ায় এবং চট্টগ্রাম একজন ‘মেট্রোপলিটান আর্চবিশপ’ পাওয়ায় এই স্বীকৃতিতে যোগ হলো আরেকটি অধ্যায়। (বিজ্ঞপ্তি)