অধার্মিকের ধর্মকথা-৫

খোকন কোড়ায়া:

প্রকৃত ধার্মিক কে?

যে প্রতিদিন গির্জায় যায় এবং দিনের অর্ধেকটা সময় প্রার্থনায় কাটায় সে-কি ধার্মিক? না, শুধু প্রার্থনা করলে বা গির্জায় স্থায়ী ঠিকানা বানালে ধার্মিক হওয়া যায় না। তবে কে ধার্মিক ? প্রকৃত ধার্মিক সে-ই যে নিজের ধর্মের সব নিয়ম কানুন মেনে চলে এবং অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে। তাহলে কি ধার্মিক হবার জন্য গির্জায় যাওয়া বা  প্রার্থনা করার প্রয়োজন নেই। অবশ্যই আছে এবং তা নিয়ম কানুনের মধ্যেই আছে। ঈশ্বরের দশ আজ্ঞার ১ম আজ্ঞায় রয়েছে  “তুমি আপন প্রভু ঈশ্বরকে পুজা করিবে, কেবল তাহারই সেবা করিবে” আর ৩য় আজ্ঞায় রয়েছে “ রবিবার দিন বিশ্রাম করিয়া তাহা শুদ্ধভাবে পালন করিবে”। এই দুটি আজ্ঞার মধ্যেই  ঈশ্বরের আরাধনা করার, প্রার্থনা করার এবং গির্জায় যাওয়ার আদেশ রয়েছে। ঈশ্বরের দশ আজ্ঞার মত মন্ডলীর ছয় আজ্ঞাও আমাদের মানতে হবে। আর এই আজ্ঞাগুলির বাইরেও রয়েছে আরো অনেক নিয়ম কানুন, প্রকৃত ধার্মিক হতে হলে যা আমাদের মানতে হবে।

যীশুখ্রীষ্ট আমাদের অনেক নিয়ম কানুন শিখিয়ে গেছেন। তিনি বলেছেন ভালোবাসতে। সবাইকে ভালোবাসতে, এমনকি শত্রুকেও। তিনি আরো বলেছেন প্রতিবেশীকে নিজের মত ভালোবাসতে। প্রতিবেশী কে তা-ও তিনি শিখিয়ে গেছেন ‘দয়ালু শমরীয়’র গল্পের মাধ্যমে। আমার পাশের বাড়ীতে, পাশের বাসায় বা পাশের ফ্ল্যাটে যারা থাকেন শুধু তারাই কি আমার প্রতিবেশী ? না শুধু তারাই নয়, রাস্তা ঘাটে, কর্মস্থলে , হাটে-বাজারে , হাসপাতালে যাদের সঙ্গেই আমার দেখা হয় তারা সবাই আমার প্রতিবেশী। তাদের সবার সঙ্গেই আমার প্রেমপূর্ণ ব্যবহার করা উচিৎ, তাদের প্রয়োজনে আমার সাহায্য করা উচিৎ। যীশু বলেছেন ক্ষমা করতে। আবার একটি শর্তও জুড়ে দিয়েছেন তিনি, আমরা মানুষকে ক্ষমা না করলে ঈশ্বরও আমাদের পাপ ক্ষমা করবেন না।

এরকম আরো কিছু নিয়ম কানুন আছে। সকল নিয়ম কানুন পালন করতে পারলেই আমি ধার্মিক। কিন্তু খুব কঠিন কাজ এটা। ঈশ্বরের দশ আজ্ঞার কথাই ধরি – চুরি না হয় না-ই করলাম , আমরা কি পরের জিনিসের প্রতি লোভ করি না? পরের সুখে আমরা কি ঈর্ষাম্বিত হই না? ব্যভিচার না হয় না-ই করলাম, অন্য নারীর প্রতি আমরা কি কামনার দৃষ্টিতে তাকাই না? আমরা কি পিতা-মাতাকে সবসময় সম্মান করি? নরহত্যা না-ই করলাম কিন্তু আমরা কি শত্রুর মৃত্যু কামনা করি না? কাজেই খুবই কঠিন প্রকৃত ধার্মিক হতে পারা। তাহলে কি হাল ছেড়ে দেবো? অবশ্যই না। আমাদের প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যেতে হবে প্রকৃত ধার্মিক হয়ে ওঠার। আর প্রতিটি খ্রীষ্টবিশ্বাসীর এটাই করা উচিৎ।

 লেখক: সাহিত্যিক ও ব্যবসায়ী