কাফরুলে খ্রিস্টানদের জমি দখল করে সন্ত্রাসীদের দিয়ে প্রাণ নাশের হুমকির অভিযোগ

জেমস কিস্কু:

সম্প্রতি রাজধানীর কাফরুলে খ্রিস্টান পাড়ায় এডভোকেট রীটা কুন্তলা গমেজ বিজ্ঞ এমএম আদালত নং ৩, ঢাকায়  একটি দায়ের মামলা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ‘আমার পরিবারে মাত্র তিন জন সদস্য। আমি, আমার বৃদ্ধা মা ও আমার ছোট বোন। আমরা  ২০১৪ সালে ডেভলপার হাজী ইসহাক মিয়াকে আমাদের জমি দেই বাড়ি তৈরি করার জন্য কিন্ত ইসহাক বাড়ির কাজ শেষ করছেন না এবং আমাদের প্রাপ্য ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। বরং আমাদের তিনজনকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। আমাদের পাখির মত গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দিচেছন। আমরা মহিলা মানুষ বলে এবং সংখ্যালঘু খ্রিস্টান হওয়ায় তিনি আমাদের সাথে এরকম করছেন’।

এড. রীটা কুন্তলা গমেজের বাবা মৃত সুনীল গমেজ। তিনি ২০১০ সালে মারা যান। তাদের আদি নিবাস নবাবগঞ্জের গোল্লা ধর্মপল্লীতে। রীটা বিডি খ্রিস্টান নিউজকে আজ বলেন, আমাদের ১১টি ফ্লাট দেওয়ার কথা কিন্তু তিনি তিন বছরের বেশি সময় হয়ে গেলেও আমাদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দিচেছন না বরং সন্ত্রাসী দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিচেছন।

তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা ভীষণভাবে শংকিত। হাজী মোঃ ইসহাক মিয়া অসৎ উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত ভাবে আমাদের জমি বেদখল করার অসৎ উদ্দেশ্য আমাদের সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটিয়েছেন। আমরা ফোন দিলে  ফোন রিসিভ করেন না। বাড়ীতে গেলে দেখা করেন না, দরজা খুলেন না। মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দেন। তার স্ত্রী এবং ছেলে অকথ্য ভাষায় আমাদেরকে গালি-গালাজ করেন। তার শ্যালক, বড় ছেলে বিভিন্ন ভাবে হুমকী প্রদান করেন।

এড. রীটা উল্লেখ করেন, তারপরও আমরা চুক্তিপত্রের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগে আমাদের কাফরুল সমিতির কিছু গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে মিমাংসার জন্য মোঃ ইসহাক মিয়ার বাড়ীতে গেলে তিনি আমাদের প্রায় দুই ঘন্টা তার বাড়ীর সামনে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখেন। দুই ঘন্টা দাড়িয়ে থাকার পর তিনি তার ডইংরুম আমাদের বসতে বলেন। পরিচয় পর্ব শেষ হওয়ার পর যখন বিল্ডিং বিষয়ে কথা শুরু হয় এবং তাহাকে বলা হয় যে চুক্তিপত্র মোতাবেক আমাদের বাকী পাঁচ লক্ষ টাকা সাইনিং মানি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি আমাদের টাকা দিতে অস্বীকার করেন এবং আমরা আমাদের সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে যাওয়ায় তিনি আমাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। তার স্ত্রী রীটাকে ও তার মাকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করেন।

এড. রীটা যোগ করে বলেন, এই পরিস্থিতিতে আমাদের সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তিগণ মোঃ ইসাহাক মিয়াকে বলেন ,আমরা ঝগড়া বিবাদ করতে আসি নাই, আমরা মিসাংসা করতে এসেছি। আপনার চুক্তি পত্রের মেয়াদ প্রায় শেষ আপনি কবে ভূমির মালিকদের তাদের অংশ বুঝিয়ে দিবেন। এই কথা মাত্রই তিনি আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। খ্রিস্টানদের জাত তুলে খারাপ ভাষায় গালি-গালাজ করেন। তিনি হুমকী প্রদান করে আমাদের বলেন যে, ‘আপনারা জমিতে প্রবেশ করতে পারবেন না, এই বিল্ডিং ধরতেও পারবেন না ছুতেও পারবেন না, কি করবেন, কোথায় যাবেন আমি দেখে নিব’”।

অসহায় এড. রীটা বলেন, পরবর্তীতে চুক্তিপত্র ও আম-মোক্তার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও প্রায় ১৫ মাস পার হওয়ার পরও তিনি আমাদের সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ করেন নাই। এমনকি আমরা তার সাথে যোগাযোগ করলেও তিনি এই বিষয়ে কোন প্রকার কথা বলবেন না বলে জানিয়ে দেন। বিল্ডিং বুঝাইয়া দিবেন না, এমনকি গালি দিয়ে বলেন যে, ‘এক ফিরিংগি আরো ফিরিংগিদের নিয়ে আসছে আমার কাছ থেকে বিল্ডিং নিতে, কিভাবে নিবে আমি দেখে নিব, আমি আওয়ামীলীগ করি, কি করতে পারবা আমাদের’।

রীটা কেঁদে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা বেশ কয়েক বছর ধরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছি। সম্পাদিত চুক্তিপত্র দলিলের ৩০ নং দফায় উল্লেখ আছে নিম্ন তফসিল বর্ণিত সম্পত্তির উপর নির্মাণ কাজ করতে গিয়ে কোন বিরোধ দেখা দিলে পক্ষগণের দ্বারা নিযুক্তীয় আরবিট্রেটরের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হবে। উক্ত আরবিট্রেশন ক্লোজের প্রতিপালন করণার্থে আমরা ২৩ জানুয়ারী ২০১৭ সালে মোঃ ইসহাক মিয়াকে বিস্তারিত বিরবণ দিয়ে এক লিগ্যাল নোটিশ দিই কিন্তু সেই নোটিশের কোন উত্তর পাই নাই।

তিনি বলেন, পরবর্তীতে আমি খোজ খবর নিয়ে জানতে পারলাম যে, মোঃ ইসহাকের প্রতিষ্ঠানের কোন নিবন্ধন নাই এবং তিনি জোর করে ১৫ মাস ধরে কাজ চালি

য়ে যান এবং বর্তমানে ভাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমি নিজে বাদী হয়ে বিজ্ঞ এম.এম. আদালত নং-৩, ঢাকায় সি.আর. মামলা নং-১৬৭/২০১৭ ধারা-রিয়েল এষ্টেট উন্নয়ন  ও ব্যবস্থাপনা আদেশ ২০০৮ এর ১৫, ১৯, ২৭ মোতাবেক মোকদ্দমা দায়ের করেছি। কিন্তু তিনি বিগত ২৩/০৭/২০১৭ ইং তারিখে আদালতে হাজির হন নাই। তিনি আমাদের জমিতে তালাবদ্ধ করে রাখেন। আমাদের সেখানে যেতে বাধা দেন। দারোয়ান বলেন যে, কার বাড়ীতে আসছেন, এই বাড়ীর মালিক মোঃ ইসহাক মিয়া।

এড. রীটা বলেন,  ইসহাক আমাদের বলেছেন,  বর্তমানে আওয়ামীলীগ সরকারের আমল। তিনি তার ছেলে ও শ্যালক সকলেই আওয়ামীলীগ করেন। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেছেন। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের লোকজনদের সাথে তাহার উঠাবসা আছে, এমনকি মন্ত্রী এম.পি কোন ব্যপার নয় তার কাছে। তিনি মামলা মোকদ্দমার মাধ্যমে আমাদের দেখে নিবেন। তিনি উচ্চাদালত হইতে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নিবেন। তিনি আরও বলেন যে, হয় তাহার লগ্নীকৃত টাকা ফেরত দিতে হবে, অন্যথায় তাহাকে বিল্ডিং ছেড়ে দিতে হবে।

কাফরুল খ্রিস্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লি: এর চেয়ারম্যান ডা: নোয়েল চার্লস গমেজ বিডি খ্রিস্টান নিউজকে বলেন, আমরা কাফরুলের খ্রিস্টান সমাজের মানুষ এড. রীটা কন্তলা গমেজদের জমির সমস্যা নিয়ে একাধিকবার মোঃ ইসহাক মিয়ার সাথে বসেছি, কিন্তু তিনি আমাদের কথা শুনতে চান না। আমাদের সাথে অশোভন আচরণ করেন। আমরা চাই রীটারা তাদের ন্যায্য অধিকারটুকু পাক।

এদিকে অভিযুক্ত  মোঃ ইসহাক মিয়া তার বিরদ্ধে আনা সকল অভিযোগ মিথ্যে উল্লেখ করে বিডি খ্রিস্টান নিউজকে বলেন, “আমি কাউকে হুমি দেই নাই। বরং রিটা কুন্তলা গমেজই আমাকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করছেন।  তিনি আরো বলেন, “যেখানে ফ্লাট তৈরি করেছি সেখানে প্রবেশের রাস্তা নাই। তাই ফ্লাট বিক্রি হচ্ছে না। ফ্লাট বিক্রি হলে আমি ফ্লাটের কাজ পুরোপুরি শেষ করতে পারবো”।

এড. রীটা কুন্তলা গমেজ বলেন, আমাদের জমিতে নির্মাণকৃত ফ্লাট বাড়িতে প্রবেশের রাস্তা আছে। সেখান দিয়ে যে কোন গাড়ি অনায়াসে প্রবেশ করতে পারে। মোঃ ইসহাক মিথ্যে বলছেন।

You May Like to Read:

পুরুষদের পছন্দের পাঁচটি পারফিউম

গরমে কেমন পারফিউম ব্যবহার করবেন?