আনন্দ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বাকা’র বাৎসরিক বনভোজন

এ্যন্থনী পিউস গমেজ, ভার্জিনিয়া:

গত ৯ই জুলাই, রবিবার ভার্জিনিয়ার বার্ক লেইক পার্কে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল “বাঙালী-আমেরিকান খ্রীষ্টান এসোসিয়েশন অব আমেরিকা” (বাকা)-এর বাৎসরিক বনভোজন। প্রায় তিন শতাধিক লোক সমাগমে আনন্দ-উল্লাসে, চমৎকার আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘বাকা’র এবারের বনভোজন।

“বাকা” মূলতঃ মেরীল্যান্ড-এর অন্যতম প্রধান প্রবাসী খ্রীষ্টান সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সুদীর্ঘ এক দশকেরও বেশী সময় ধরে মেরীল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের প্রবাসী বাঙালি  খ্রীষ্টানদের জন্য সামাজিক-সাংস্কৃতিক-মানবিক উন্নয়ন প্রয়াসে কাজ করে যাচ্ছে নিরবচ্ছিন্নভাবে। বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদযাপন থেকে শুরু করে আমাদের ধর্মীয় উৎসবগুলোকেও যথাযথ মর্যাদায় পালন করার মধ্য দিয়ে অব্যাহত রেখেছে এর কার্যক্রম। বাকা’র সারা বছরের কার্যক্রমগুলোর মধ্যে অন্যতম আনন্দ আয়োজনের একটি  হচ্ছে বাৎররিক বনভোজন। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনধারায় অদম্য উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে প্রতি বছরই আয়োজিত হচ্ছে এই বনভোজন। এ যেন ছকে বাঁধা জীবন থেকে ছুটি নিয়ে অন্য কোথাও হারিয়ে যাওয়া- আর আনন্দ আয়োজনে এবং মিলন মেলার উচ্ছাসে পেছনে পড়ে যায় আমাদের যত ক্লান্তি, যত যোগ-বিয়োগের হিসেব, শুধুই আনন্দ উল্লাসে সবার সাথে প্রানের আবেগে মেতে উঠা। সারা বছর জুড়ে আমাদের কর্ম ব্যস্ততার শেষ নেই- পেশাগত ব্যাস্ততা, পারিবারিক দায়িত্ব, সামাজিক অনুষ্ঠানমালা, সবকিছু নিয়ে সময়ের স্রোত বয়ে চলে খুব দ্রূত গতিতে এবং এর মাঝেই যখন এমনি আনন্দ আয়োজনে যোগ দেয়ার সুযোগ ঘটে যায়, তখন সবার মনে সম্ভবত একই অনুভূতি ভেসে উঠে-  যেন ব্যস্ত জীবনের প্রতিদিনের বাঁধাধরা কর্মের বৃত্ত থেকে বেড়িয়ে এসে খোলা বাতাসে দম নেয়ার সুযোগ পেয়েছে, প্রাত্যহিক জীবনের এক ঘেয়েমি থেকে মুক্তি পেয়েছে।

বাকা’র এবারের বনভোজনের আয়োজনটিও ছিল এমনি আনন্দমুখর-  ছোট-বড় সবাই মিলে আনন্দে মেতে উঠেছিল সারাটি দিন। প্রতিটি অনুষ্ঠান আয়োজনের পেছনেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে থাকে অসংখ্য মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা এবং অবদান।

বাকা’র আয়োজনেও তেমনি কার্যকরী পরিষদের সদস্য-সদস্যা ছাড়াও ছিল বেশকিছু সেচ্ছাসেবক ও হিতাকাঙ্ক্ষীদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং ঐকান্তিক সহযোগিতা। সবার কাছেই বাকা তাদের সহযোগিতার জন্য আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। তরুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের সক্রিয়ভাবে কাজ করতে দেখে এবার মনে আশার উদ্রেক হয়েছে-  মনে হয়েছে এরাই ধরতে পারবে আগামীর হাল, এরাই হবে ভবিষ্যতের কান্ডারী, এরাই আগামীতে এগিয়ে নিয়ে যাবে আমাদের সংস্কৃতি ও কৃষ্টিকে। সারাদিনব্যপী আয়োজনে ছিল ছোট ছেলেমেয়েদের বিভিন্নরকম খেলা ধূলা, বাচ্চাদের অংকন প্রতিযোগিতা, মহিলাদের মিউজিক্যাল চ্যেয়ার, বয়োজ্যেষ্ঠদের তাসের আড্ডা, তরুন প্রজন্মের বন্ধু-বান্ধবের সাথে ঘুরে বেড়ানো… এবং সেই সাথে ছিল সুস্বাদু খাবারে আয়োজন।

বনভোজনের মিলন মেলায় যেমন দেখা হয়েছে অনেক পরিচিত বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়দের সাথে, তেমনি  অনেকের সাথে নতুন করে পরিচয় হলো- খাবারের বাহার, আনন্দ আয়োজন, ছেলে-মেয়েদের খেলাধূলা, বড়দের আড্ডা আর আলাপচারিতার আনন্দ উচ্ছাস, মুহূর্তগুলোকে ধরে রাহকার জন্য ছবি তোলার আনন্দ আর সেলফির ক্লিক, চমৎকার আবহাওয়ায় বনানীর উন্মুক্ত পরিবেশে নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়ানো, বন সংলগ্ন লেকের পাড় ঘেঁষে দাঁড়িয়ে বিস্তৃত জলরাশি আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য অবলোকন, লেকের জলরাশির উপড় গড়িয়ে পড়া গাছের গুড়ির উপর দাঁড়িয়ে থাকা এবং পানির উপর ভেসে বেড়ানো রাজহংসীদের মনোরম দৃশ্য- সবকিছু মিলিয়ে একটি চমৎকার দিন কেটে গেল সবার সাহচর্য্যে। সবকিছু মিলিয়ে অত্যন্ত সফল এবং স্বার্থকভাবে আয়োজিত হয়েছে বাকা’র এবারের বনভোজন।

দিনের শেষে আনন্দ আয়োজনের শেষ প্রান্তে এসে সবাই ছিল ক্লান্ত কিন্তু আনন্দের ছোঁয়ায় উজ্জীবিত। পরিশেষে একটি সুন্দর দিনের অসংখ্য আনন্দময় মুহূর্তের স্মৃতি নিয়ে শ্রান্তপদে ঘরের দিকে পা বাড়ায় সবাই, এমনিভাবেই সমাপ্ত হলো বাকা’র এবারের আনন্দঘন বনভোজন!