ভারতীয় যাজককে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার, ‘চক্রান্ত’ বলছেন চার্চের নেতৃবৃন্দ

সুমন কোড়াইয়া:

কাথলিক ধর্মযাজক ফাদার লিও ডি’সুজার (৫৬) বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে।  ঘটনাটি ঘটেছে, ১০ জুলাই ভারতের মধ্যপ্রদেশের জাবালপুর ধর্মপ্রদেশে।

স্থানীয় কাথলিক চার্চ পরিচালিত আমার জ্যেতি স্কুলের ম্যানেজার ফাদার লিও।দিনদোরি জেলার অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রের পিতামাতা ফাদারের বিরুদ্ধে তাদের সন্তানকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন। তারা বলেছেন, তাদের ছেলেকে ফাদার ৯ জুলাই সন্ধ্যায় ফাদারের ঘরে ডেকেছিলেন এবং সেই সময়ই যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করেছেন।

এদিকে স্থানীয় কাথলিক চার্চের নেতারা বলছেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোন প্রাথমিক তদন্ত না করেই ফাদারকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তারা আরো বলছেন, কলঙ্ক দিয়ে স্কুলের সুনাম নষ্ট করার এটা একটা অপচেষ্টা। মিশনারী স্কুলটি জেলার মধ্যে সেরা তিনটি স্কুলের মধ্যে একটি।

স্থানীয় বিশপ জেরাল্ড আলমাদিয়া বলেছেন, এই ধরনের অভিযোগে পুরোহিতকে গ্রেফতার করাতে আমি ‘বিস্মিত’ হয়েছি।তিনি আরো বলেছেন, এর আগে স্থানীয় কিছু  হিন্দু মৌলবাদি তাদের বিরুদ্ধে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ এনে তাদের সমস্যায় ফেলার চেষ্টা করেছিল। এটা এমনই একটা অপচেষ্টা।

তিনি আরো বলেন, আমরা জানি না সত্যি কি ঘটেছে। কে সত্যি বলছে আর কে মিথ্যে বলছে। এই ছাত্র স্কুলটিতে মাত্র ১০ দিন আগে নতুন ভর্তি হয়েছে।

জেলার এসপি শ্যামল প্রসাদ বলেছেন, ফাদার লিও’র বিরুদ্ধে শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ সত্যি হলে ফাদারের পাঁচ বছরের জেল এবং জরিমানা উভয়ই হবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা তদন্ত করবো, স্কুলের অন্যান্য শিশুদের সাথেও কথা বলবো। এরপর সব পরিষ্কার হবে।

স্থানীয় একজন আদিবাসী রাজনৈতিক নেতা আমান সিং পার্থ বলেছেন, এটা একটা চক্রান্ত। খ্রিস্টান স্কুলটি ক্রমাগতভাবে ভালো করার ফলে স্কুলটিকে দমানোর জন্য এমনটা করা হচ্ছে। ফাদারকে ফাঁদে ফেলা হয়েছে।

মধ্যপ্রদেশে ৭৩ লাখ জনগণের মধ্যে খ্রিস্টানদের সংখ্যা মাত্র ০.৩ ভাগ। সুত্র: ‍উকান