সার্চ ইঞ্জিনঃ শুরুর কথা

জ্যাকব ডি’রোজারিও:

কল্পনা করুন এমন এক ইন্টারনেট ব্যবস্থা যেখানে নেই সার্চ করার সুবিধা। কোন তথ্য প্রয়োজন হলে আর গুগল বা ইয়াহু সার্চ করতে পারবেন না। জানা ওয়েবসাইট গুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। মনে হচ্ছে তাহলে আর ইন্টারনেটের মূল্য রইল কি। আসলেই তাই, ইন্টারনেটের আসল উপযোগিতা তার সার্চ করার সুবিধাতেই। বিশ্বের যেকোন তথ্য আমাদের হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে সার্চ ইঞ্জিনগুলো। যুক্তরাষ্ট্রে এক জরিপে ৯২% ইন্টারনেট ব্যবহারকারীই বলেন তারা সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করেন এবং ৫৯% বলেন যে তারা প্রতিনিয়তই সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করছেন। তাই সার্চ ইঞ্জিন এখন ইন্টারনেটের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু কিভাবে শুরু এই সার্চ ইঞ্জিনের?  কিভাবেই বা সার্চ ইঞ্জিন আধুনিক আকার ধারণ করল?

সার্চ ইঞ্জিনের ইতিহাসের কথা বলতে হলে সবার আগেই বলতে হবে ইয়াহুর কথা। বর্তমানে টেক অনুরাগীদের কাছে ইয়াহুর ব্যর্থতার গল্পই বেশি শোনা যায়। কিন্তু আমরা সেদিকে যাব না। আমরা দেখব কিভাবে ইয়াহু ইন্টারনেটের জন্য এক নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছিল। ইন্টারনেট বুমের সূচনা করেছিল।

ইয়াহুর প্রতিষ্ঠাতা জেরি ইয়েং ও ডেভিড ফাইলো ছিল স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর পিএইচডি এর ছাত্র। তারা গবেষণা করছিল কম্পিউটারের চিপ ডিজাইনের উপর। কিন্তু এই গবেষণা তাদের ঠিক পছন্দ হচ্ছিল না। তাই তাদের সুপারভাইসার প্রফেসর যখন এক বছরের ছুটি নিয়ে ইতালি চলে গেল তখন তারাও ঠিক করল গবেষণা বাদ দিয়ে অন্য কিছু ঘেঁটে দেখবে।

তখন স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে ফ্যান্টাসি বাস্কেটবল অনেক জনপ্রিয় ছিল। ফ্যান্টাসি বাস্কেটবল হল বাস্কেটবল ভক্তদের জন্য এক ধরনের প্রতিযোগিতা। যুক্তরাষ্ট্রের বাস্কেটবল লীগ বা এনবিএর খেলোয়াড় নিয়ে ভক্তরা নিজেদের টিম বানাতে পারবে। প্রতি সপ্তাহে লিগের খেলায় খেলোয়াড়দের পারফরমেন্সের উপর ভিত্তি করে সেই টিম স্কোর করবে। সবচেয়ে বেশি স্কোরার এর জন্য আছে আকর্ষণীয় পুরস্কার। স্টুডেন্টরা সাধারণত পত্র পত্রিকার এনালাইসিস পড়ে সে অনুযায়ী নিজেদের টিম ঠিক করত। কিন্তু জেরি ও ডেভিড অন্য পথ অবলম্বন করল। তারা ইন্টারনেটে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ঘাঁটাঘাঁটি করে খেলোয়াড়দের তথ্য বের করে সে অনুযায়ী টিম বানাত। কিন্তু এই ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে তারা লক্ষ্য করল ইন্টারনেটে ওয়েবসাইটের পর ওয়েবসাইট খুঁজে খুঁজে ঘাটা অনেক কঠিন। যদি একটা গাইড থাকত যা অনেকটা টেলিফোন বুক এর মত যা দেখে পছন্দসই ওয়েবসাইট এর হদিস পাওয়া যাবে তাহলে অনেক সুবিধা হত। সেই চিন্তা থেকে ১৯৯৪ সালের জানুয়ারি মাসে তারা একটা ওয়েবসাইট তৈরি করল যার নাম- “Jerry and David’s Guide to World Wide Web”। সাথে সাথেই তাদের এই গাইড জনপ্রিয় হয়ে পড়ল। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা প্রতি নিয়তই এই গাইড ব্যবহার করতে লাগলেন। এত জনপ্রিয়তা দেখে জেরি আর ডেভিড অনুভব করল গাইডটির একটি ছোট, সহজ ও ক্যাচি নাম দেয়া দরকার। ১৯৯৪ সালের এপ্রিল মাসে এই গাইডের নাম দেয়া হল ইয়াহু।

ইয়াহুর জনপ্রিয়তা দিনে দিনে ব্যাপক হারে বাড়তে লাগল। ইয়াহু যে নতুন বিপ্লব শুরু করছে তা কারো বুঝতে বাকি ছিল না। তাই ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট ফার্মগুলো ইয়াহুতে ইনভেস্ট করা শুরু করল। ইনভেস্ট পাওয়া নিয়ে তাই কোন সমস্যা ছিল না। কিন্তু সমস্যা দেখা গেল অন্য জায়গায়, আয় হবে কিভাবে। তখন পর্যন্ত ইন্টারনেটে কিছু বিক্রয় করা ছাড়া আর আয়ের কোন কনসেপ্ট ছিল না। কিন্তু ইয়াহু তো কিছু বিক্রি করছে না। তাহলে আয় কিভাবে হবে। তখনই এক যুগান্তকারী আইডিয়া এল, বিজ্ঞাপন। এর আগে ইন্টারনেটে বিজ্ঞাপন দেখা যায় নি কোথাও। তাই ইয়াহুর প্রতিষ্ঠাতা জেরি ও ডেভিড বিজ্ঞাপন দেয়ার ব্যাপারে একদম নিশ্চিত ছিলেন না। ইন্টারনেটে বিজ্ঞাপন ব্যবহারকারীরা ভালভাবে নিবে কী না সেই বিষয়ে সন্দিহান ছিলেন তারা। কিন্তু আর কোন উপায় না দেখে বিজ্ঞাপন দেয়ারই সিদ্ধান্ত নিলেন তারা। বিজ্ঞাপন দেয়া হল, দেখা গেল তাতে ব্যবহারকারীদের উপর কোন প্রভাব তো পড়লই না, বরং দিনকে দিন ব্যবহারকারী বাড়তেই লাগল। ব্যবহারকারী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে লাগল বিজ্ঞাপনের দাম। ইয়াহুর আয়ও বাড়তে লাগল হু হু করে। এই ইন্টারনেট বিজ্ঞাপনের ধারণাটাই ইন্টারনেটের এক নতুন যুগের সূচনা করল। ইন্টারনেট থেকে যে বিপুল পরিমাণ আয় সম্ভব তা প্রমাণ করল ইয়াহু। তাই সবাই ঝুঁকল ইন্টারনেটের দিকে। শুরু হল ইন্টারনেট বুম।

ইয়াহু ধীরে ধীরে সার্চ ইঞ্জিন থেকে এক ওয়েব পোর্টালে রূপ নিলো। যেখানে নিউজ, ইমেইল, ওয়েদার আপডেট সবই থাকবে একসাথে। ইয়াহুর সফলতা দেখে অনেক ওয়েব পোর্টাল শুরু হচ্ছিল কিন্তু কেউই ইয়াহুর ধারে কাছে আসতে পারেনি। এক্সাইট ওয়েব পোর্টালটি বেশ জনপ্রিয় হলেও তারাও ইয়াহুর সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছিল না।

ইয়াহু দিনে দিনে আরও জাঁকজমকপূর্ণ হতে থাকল। কিন্তু ইয়াহু মূল যেই জিনিস তাদের জনপ্রিয়তা দিয়েছে সেই দিকেই খেয়াল দিল না। তাদের সার্চ ইঞ্জিনকে আরও উন্নত করার দিকে তাদের মনোযোগ ছিল না। এই সময় স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিরই দুই কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ছাত্র ল্যারি পেইজ ও সেরগেই ব্রিন তাদের পিএইচডির রিসার্চ প্রজেক্ট হিসেবে নতুন এক সার্চ ইঞ্জিন তৈরি করল। এই সার্চ ইঞ্জিন ছিল অন্য সব ইঞ্জিন থেকে আলাদা। ব্যবহারকারিরা কোন সার্চ করে কোন ওয়েবসাইট বেশি ব্যবহার করছে তার ওপর ভিত্তি করে এই সার্চ ইঞ্জিন ডিজাইন করা। অন্য সব সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করত আলাদা প্রযুক্তি। ব্যবহারকারী যে শব্দগুলো সার্চ করেছে সেই শব্দগুলো অনেক আছে এরকম ওয়েবসাইট রেজাল্ট হিসেবে সবার আগে আসত। এই ক্ষেত্রে দেখা যেত অনেক অপ্রাসঙ্গিক রেজাল্টও চলে আসত। কিন্তু ল্যারি পেইজ ও সেরগেই ব্রিন এর ব্যাকরাব নামক ইঞ্জিনটি ব্যাবহারকারীরা যেই সাইট বেশি ব্যবহার করছে তার ভিত্তিতেই রেজাল্ট দিত। তাই নিঃসন্দেহেই তাদের সার্চ ইঞ্জিন ছিল বেশি উপযোগী।

এই ব্যাকরাবই পরে গুগল নাম ধারণ করে। মজার ব্যাপার হল গুগল নামের উৎপত্তি কিন্তু বানান ভুল থেকে। ম্যাথম্যাটিকসে ১০১০০(একের পর একশটি শূন্য) সংখ্যাটিকে বলা হয় “1 Googol”। পেইজ ও ব্রিন তাদের সার্চ ইঞ্জিনের নাম এটিই দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বানান ভুল করায় তা হয়ে গেল “Google”। গুগলের সার্চ ব্যবস্থা অনেক বেশি ভাল হওয়ায় তার জনপ্রিয়তা বাড়ছিল। শুরুতে পেইজ ও ব্রিন স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সার্ভার ব্যবহার করে তাদের সার্চ ইঞ্জিন চালাচ্ছিল। কিন্তু ব্যবহারকারী বাড়তে থাকায় স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সার্ভারে চাপ পড়তে থাকল। তাই তাদের ইউনিভার্সিটি থেকে বের হয়ে নিজেদের সার্ভার করা জরুরি হয়ে পড়ল। কিন্তু তার জন্য দরকার অনেক টাকা। ১৯৯৭ সালে তারা ইনভেস্টরদের কাছে ঘুরা শুরু করল ইনভেস্টের জন্য। কিন্তু তখন ইয়াহুর একচ্ছত্র আধিপত্য সব জায়গায়। তাই ইনভেস্টররা নতুন কোন সার্চ ইঞ্জিনে ইনভেস্ট করতে তেমন আগ্রহী ছিলেন না। অনেকে তাদের পরামর্শ দিল কোন প্রতিষ্ঠিত সার্চ ইঞ্জিনের কাছে যেতে। সেখানে তারা তাদের বেটার প্রযুক্তি লাইসেন্সড অথবা বিক্রি করতে পারবে। সেই উদ্দেশ্যে গুগল এক্সাইট ও ইয়াহু দুই কোম্পানির সাথেই দেখা করে। কিন্তু কোন কোম্পানিই গুগল কে গুরুত্ব দেয় নি। তারা দাবি করে তাদের সার্চ ইঞ্জিনের সাথে তেমন পার্থক্য নেই গুগলের। মজার ব্যাপার হল সে সময় কেবল এক মিলিয়ন ডলারের বিনিময়েই গুগল কে কিনে নিতে পারত ইয়াহু। ফোর্বস ম্যাগাজিন অনুযায়ী সেই গুগলের মোট মূল্যমান এখন ১০১.৮ বিলিয়ন।

আর কোথাও ইনভেস্টমেন্ট না পেয়ে শেষ আশা হিসেবে ব্রিন ও পেইজ গেল তাদের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ডেভিড শেরিটন এর কাছে। ডেভিড শেরিটন এর কাছের বন্ধু ছিলেন সান মাইক্রোসিস্টেমস এর কোফাউন্ডার অ্যান্ডি বাক্টলশাইম। শেরিটন তার বন্ধুকে ডাকেন ব্রিন আর পেইজের ইঞ্জিনটি দেখার জন্য। অ্যান্ডি বাক্টলশাইম গুগল এর সার্চ রেজাল্টের কার্যকারিতা দেখেই বুঝতে পারেন এরা সার্চ ইঞ্জিনকে আরেক উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। তিনি সেখানেই তার চেকবুক বের করে ১০০,০০০ ডলারের চেক লিখে দেন। সেই থেকে গুগল কে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

গুগল এর আরেকটি বিশেষত্ব ছিল তাদের আয় পদ্ধতিতে। তারা ইয়াহু বা অন্যান্যদের  মত ব্যানার সিস্টেমে বিজ্ঞাপন দিতে আগ্রহী ছিল না। কারণ ততদিনে ইয়াহু বা অন্যান্য ওয়েব পোর্টালগুলো বিজ্ঞাপনে ছেয়ে গেছে। কোন পেইজ খুললেই চারদিকে জ্বল জ্বল করতে থাকে নানা বিজ্ঞাপন। তা ব্যবহারকারিদের জন্য কিছুটা বিরক্তিকরই বটে। তাই ব্রিন আর পেইজ এ ধরনের বিজ্ঞাপন ব্যবহার করবেন না ঠিক করলেন। কিন্তু তাহলে আয় হবে কিভাবে। তারা সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করেই বিজ্ঞাপনের এক দারুণ কায়দা বের করলেন। যখন কোন ব্যবহারকারি টেলিভিশন সার্চ করছে তখন সে হয়ত টেলিভিশন কিনতে চাচ্ছে। তাই তখন কোন টেলিভিশন কোম্পানি বিজ্ঞাপন দিলে তা হয়ত সেই ব্যবহারকারির কাজে লাগবে। এই ধারণাকেই কাজে লাগাল গুগল। তাই গুগল সার্চ দিলে মূল রেজাল্টের বামপাশে বা নিচে থাকে সার্চ সম্পর্কিত বিজ্ঞাপন। সেই বিজ্ঞাপন ইয়াহুর ব্যানার বিজ্ঞাপনের মত জ্বলজ্বলে নয়। তাই যে ব্যবহারকারি তাতে আগ্রহী নয় তারা সহজেই উপেক্ষা করে চলে যেতে পারবে। আবার যে হয়ত আসলেই যা সার্চ দিচ্ছে তা কিনতে আগ্রহী সে চাইলে সেই বিজ্ঞাপন ঘুরেও দেখতে পারে। এই বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাও গুগল কে অন্যান্য সব সার্চ ইঞ্জিন ও পোর্টাল থেকে অনেক উঁচুতে নিয়ে গেল। খুব দ্রুতই গুগল চলে গেল সবার শীর্ষে।

গুগল তাদেরকে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করতে আরও অনেক প্রয়োজনীয় অ্যাপ প্রতিনিয়তই বের করেছে ও করছে। কিন্তু তারা শুরুর দিকের অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনের মত তাদের মূলকে ভুলে যায়নি। তারা প্রতিনিয়তই তাদের সার্চ ইঞ্জিনকে উন্নততর করেছে। দিনে দিনে সার্চ ব্যবস্থায় ডেটা মাইনিং প্রযুক্তি ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে সার্চকে আরও অনেক ব্যবহারোপযোগী করে তুলছে। তাই তো এখন কেউ বাংলাদেশে বসে গুগলে “Weather of D” লিখলে সাজেশন আসবে “Weather of Dhaka” কিন্তু একই জিনিস আয়ারল্যান্ডে বসে লিখলে সাজেশন আসবে “Weather of Dublin”। তাছাড়া ভয়েস সার্চ ব্যবহার করে আর লেখাও লাগবে না। কোন কিছু মুখে বললেই গুগল তা সার্চ করে রেসাল্ট শুনিয়ে দিবে।

আধুনিক জীবন ইন্টারনেট সার্চ ছাড়া প্রায় অসম্ভবই হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই লেখাটি যখন আমি লেখছিলাম তখনই অনেক কিছু গুগলে সার্চ করে নিশ্চিত হয়ে নিচ্ছিলাম। শুরুতেই যখন সার্চ করছিলাম তখন মনে হল মোট কয়বার কোন সার্চ দিব তা গুনে রাখি। লেখার এই পর্যায়ে এসে এখন সার্চের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ বার। তাই ইন্টারনেট সার্চ যে আমাদের জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। অথচ খুব বেশিদিন নয় ২৩ বছর আগেও ইন্টারনেট সার্চ বলে কিছু ছিলই না। আসলে পৃথিবীকে বদলে দিতে বেশি কিছু লাগে না, লাগে মেধাবী কিছু মানুষের উদ্ভাবনের নেশা, নতুন কিছু করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা।

(লেখক– বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং-এর তৃতীয় বর্ষের ছাত্র)