ছোট খাটো বিষয় ১৩

আলো ডি’রোজারিও

১। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো একই সময়কালে মদ বানানো, বিক্রি ও খাওয়াসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য ব্যবহার বিষয়ে কড়া নজরদারী করাসহ নিয়ন্ত্রণ কৌশল কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করছে। এটার মূল লক্ষ্য, যুব সমাজকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল হতে রক্ষা করা। এটা একটা শুভ উদ্যোগ, নিঃসন্দেহে। এই উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করে প্রধানতঃ জনসচেতনতা ও জনঅংশগ্রহণ এবং দ্বিতীয়ত: আইন শৃংখলায় নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গসহ মাদকদ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণকারীদের সৎ উদ্দেশ্য ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপের ওপর।

মদ ও নেশাজাতীয় দ্রব্য সীমিত, পরিহার করার কার্যক্রম ভাবতে পারে। ভাওয়াল এলাকার ধর্মপল্লীগুলোর পালকীয় পরিষদ এই বিষয়ে উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম নিতে পারে সমষ্ঠিগতভাবে পুরো এলাকার জন্যে এবং এককভাবে নিজ নিজ ধর্মপল্লীর জন্যে। যুব সংগঠন ও পালকীয় পরিষদের পাশাপাশি ভাওয়াল এলাকার সমবায় ঋণদান সমিতিগুলো এই কার্যক্রমে সম্পক্ত হতে পারে; তবে এই সমিতিগুলোর একটি বিশেষ কাজ হবে, মদ তৈরী ও মদ বিক্রিকারী পরিবারের বিকল্প আর্থ-সামাজিক পুনর্বাসন। মদ বানানো ও বিক্রি সহজ বিধায়, এই কাজে প্রচুর লাভ বিধায় কিছু পরিবার আর্থিকভাবে এই মদ বানানো ও বিক্রির ওপর নির্ভরশীল। তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানে প্রশিক্ষণ ও প্রশিক্ষণ শেষে প্রাথমিক পুঁজি দিতে না পারলে, তাদের কর্মসংস্থান না করতে পারলে স্থায়ী সমাধান হবে না। স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সম্মিলিত কার্যক্রমে শিক্ষা ও সচেতনতা, সামাজিক সুশাসনে বিধি-নিষেধ, প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন প্রয়োজন হবে। সমবায় ঋণদান সমিতিগুলো অনেক ভাল কাজ করছে সমাজ কল্যাণ ও সমাজ উন্নয়নে।

২। সম্প্রতি আমাদের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী বিশেষ এক মুহূর্তে তাঁর নিজ ধর্মের কিছু ব্যক্তির ওপর চরম বিরক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে মদ্যপান, নিষিদ্ধ মাংস খাওয়া ও গাঁজা সেবনকারীদের কঠোর ভাষায় তিরস্কার করেছেন। সেই বিশেষ মুহূর্তে তিনি সকলকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, তিনি এই দেশের সকল মানুষের অভিভাবক। আর সকলের অভিভাবক হিসেবে সবার ক্যলাণ সাধন  তাঁর পবিত্র দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে তিনি সর্বোচ্চ সতর্কতা ও গভীর আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করে চলেছেন। মানীয় প্রধান মন্ত্রীর এই কঠোর মনোভাব- মদ্যপানকারী, গাঁজা সেবনকারী ও নিষিদ্ধ মাংস গ্রহণকারীদের প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত। এই সতর্ক সংকেত অনুধাবন করে আইন শৃংখলায় দায়িত্ব পালনকারীগণ মদ ও গাঁজাসহ অন্যান্য নেশাজাতীয় বস্তুর উৎপাদন, ব্যবসা ও ব্যবহারকারীদের বেআইনী ও সমাজবিরোধী কাজ শক্ত হাতে প্রতিহত করবেন, এই প্রত্যাশা সকলেই করতে পারেন।

৩। ইদানিং খবরের কাগজ খুললে দু’ধরনের খবর চোখে পড়ে: ১) মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান, গ্রেফতার ও মাদক দ্রব্য ধ্বংস। ২) মাদকমুক্ত এলাকা হিসেবে কোন নির্দিষ্ট গ্রাম, ইউনিয়ন বা উপজেলাকে ঘোষণা। উপরোক্ত দুই ধরনের খবরই গুরুত্বপূর্ণ। তবে দ্বিতীয় ধরনের খবরের গুরুত্ব অপেক্ষাকৃত বেশী। ছোটবেলা হতে স্বপ্ন দেখছি, প্রায়ই চিন্তা করছি- আমরা যারা খ্রীষ্টধর্মে বিশ্বাসী, তারা যদি মদ্যপান, মদ তৈরী ও মদ বিক্রি এই তিন বিষয়ে আরো সচেতন হতে পারতাম, বুঝতে পারতাম ব্যক্তি জীবনে, পরিবারে ও সমাজে এর আশু ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব। মাঝে মাঝে আমার ঘুম হারাম হয় মদ্যপানের পেছনে অর্থ ব্যয়ের পরিমাণ দেখে, মদ্যপান ছাড়াও অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্যের ছড়াছড়ি ও ব্যবহার দেখে। আমরা বর্তমানে যে জায়গায় দাঁড়িয়ে সেই জায়গায় থেমে ভাবতে হবে, বিশ্লেষণ করতে হবে, উল্টোপথ ধরতে হবে। কিন্তু কীভাবে?

৪। মদসহ অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্যের ব্যবহার কমাতে বা একদম বন্ধ করতে আমাদের এক যোগে কাজ করতে হবে। আসুন না আমরা এক সাথে বসি, বসে আলাপ করি কীভাবে কৌশল ঠিক করা যায়। প্রস্তাব রাখি আমি এভাবে, ভাওয়াল এলাকার ধর্মপল্লী ভিত্তিক যুবসংগঠনগুলো অভিন্ন কর্মসূচী হিসেবে মদ ও নেশাজাতীয় দ্রব্য সীমিত, পরিহার করার কার্যক্রম ভাবতে পারে। ভাওয়াল এলাকার ধর্মপল্লীগুলোর পালকীয় পরিষদ এই বিষয়ে উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম নিতে পারে সমষ্ঠিগতভাবে পুরো এলাকার জন্যে এবং এককভাবে নিজ নিজ ধর্মপল্লীর জন্যে। যুব সংগঠন ও পালকীয় পরিষদের পাশাপাশি ভাওয়াল এলাকার সমবায় ঋণদান সমিতিগুলো এই কার্যক্রমে সম্পক্ত হতে পারে; তবে এই সমিতিগুলোর একটি বিশেষ কাজ হবে, মদ তৈরী ও মদ বিক্রিকারী পরিবারের বিকল্প আর্থ-সামাজিক পুনর্বাসন। মদ বানানো ও বিক্রি সহজ বিধায়, এই কাজে প্রচুর লাভ বিধায় কিছু পরিবার আর্থিকভাবে এই মদ বানানো ও বিক্রির ওপর নির্ভরশীল। তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানে প্রশিক্ষণ ও প্রশিক্ষণ শেষে প্রাথমিক পুঁজি দিতে না পারলে, তাদের কর্মসংস্থান না করতে পারলে স্থায়ী সমাধান হবে না। স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সম্মিলিত কার্যক্রমে শিক্ষা ও সচেতনতা, সামাজিক সুশাসনে বিধি-নিষেধ, প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন প্রয়োজন হবে। সমবায় ঋণদান সমিতিগুলো অনেক ভাল কাজ করছে সমাজ কল্যাণ ও সমাজ উন্নয়নে। আহ্বান জানাই, আরো একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ কাজে এই সমিতিগুলো একত্রিতভাবে এক যুগান্তকারী কল্যাণমূলক কাজে অংশ নেবার জন্যে। তাতে খ্রীষ্টিয় মূল্যবোধ ভিত্তিক নৈতিক, ন্যায্যতাময়, সুখী ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনকাজ তরান্তিত হবে।

লেখক: ড. বেনেডিক্ট আলো ডি’রোজারিও, প্রাক্তন নির্বাহী পরিচালক, কারিতাস বাংলাদেশ

আরো পড়ুন: ছোট খাটো বিষয় ১২