মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নিকট অনুরোধ: কাংখিত ‘ইস্টার সান্ডে’ সরকারী ছুটি ঘোষণা করুন

এলড্রিক বিশ্বাস:
বাংলাদেশ একটি সম্প্রীতির দেশ। এদেশে হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান সকলে মিলেমিশে বাস করে। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে এদেশের সকল ধর্মের মানুষ স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছে। তখন আমাদের মধ্যে কোন ভেদাভেদ ছিল না। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় কে হিন্দু, কে মুসলমান, কে বৌদ্ধ, কে খ্রিস্টান তার চিন্তা করতো  না। হিন্দুর ঘরে বা মুসলমানের ঘরে বৌদ্ধের ঘরে, খ্রিস্টানের ঘরে ভাত রুটি খেয়ে যুদ্ধ করেছে মুক্তিযোদ্ধারা। ত্রিশ লক্ষ শহীদের আতœদানে সকল সম্প্রদায়ের দেশপ্রেমিক মানুষ আছে। এদেশে উৎসব পালন করে সকল ধর্মের মানুষ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে কথাটি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রায়ই বলে থাকেন ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’।
সম্প্রতি দৈনিক কালের কন্ঠে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। গত ১৪ জুন, ২০১৭ প্রকাশিত সংবাদে পবিত্র ঈদের ছুটি ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের পার্বণের বা উৎসবের ছুটি বাড়নো হবে বলে সংবাদে প্রকাশ পেয়েছে। প্রতি বৎসর পবিত্র ঈদ উল ফিতর ও ঈদ উল আয্হা উপলক্ষে সরকারী ছুটি ৩ দিন থাকলেও ৭ দিন পর্যন্ত অফিস আদালত এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। বহু বছর ধরে এ ব্যবস্থা অলিখিতভাবে প্রচলিত আছে। ৩ দিন বন্ধ থাকলেও সরকারী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্ট্যাফরা ছুটি নিয়ে ৭ দিন বা তারও বেশী দিন উৎসবের ছুটি উপভোগ করে। অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায় পায় ২ দিন ছুটি। দুর্গাপূজায় দশমীর জন্য ১দিন ও শ্রীকৃষ্ণের জন্ম দিনে ১ দিন ছুটি। বৌদ্ধ সম্প্রদায় পায় ১ দিন ছুটি। বৌদ্ধ পূর্ণিমার দিন। খ্রিষ্টিয়ান সম্প্রদায় পায় ১ দিন ছুটি। বড়দিনের ছুটি ২৫ শে ডিসেম্বর। অন্যান্য ছুটি ঐচ্ছিক হিসেবে নিতে পারে সংশ্লিষ্ট ধর্মাবলম্বীরা।
আমাদের বাংলাদেশের খ্রিস্টিয়ান সম্প্রদায়ের প্রাণের দাবী ইস্টার সান্ডে সরকারী ছুটি ঘোষণা করা হোক। বর্তমানে ইস্টার সান্ডে ঐচ্ছিক ছুটি হিসেবে সরকারী গেজেটে স্থান পেয়েছে। এ বৎসর ২০১৭ খ্রিস্টাব্দে ইস্টার সান্ডে ঐচ্ছিক ছুটি হিসেবে খ্রিস্টান জনগণ ভোগ করেছে। খ্রিস্ট ধর্মের প্রবর্তক যীশু খ্রীস্ট যে দিন ক্রুশে মৃত্যু বরণ করেন সে দিন হল গুড ফ্রাইডে। সেই শুভ শুক্রবার গুড ফ্রাইডে হল একটি বিশেষ দিন যে দিন মানব জাতির মুক্তিদাতা প্রভু যীশু খ্রিস্ট ক্রুশীয় মৃত্যুর মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তা পিতা ঈশ্বরের সাথে মানুষের সম্পর্ক তৈরী করেছেন। খ্রিস্টানুসারীরা ধর্মীয় রীতিতে গুড ফ্রইডের আগে ৪০ দিন ত্যাগ ও উপবাস পালনের পর গুড ফ্রাইডে শোকের মাধ্যমে পালন করে। খ্রিস্টের ক্রুশীয় মৃত্যু পিতা ঈশ্বরের মহান পরিকল্পনারই অংশ। এ বৎসর ইস্টার সান্ডে ঐচ্ছিক ছুটির তারিখ ছিল ১৬ এপ্রিল। ১৪ এপ্রিল ছিল গুড ফ্রাইডে আবার ঐ দিন ছিল ১ লা বৈশাখ। মৃত্যুর ৩ (তিন) দিন পর প্রভু যীশু খ্রিস্ট পুনরুত্থান করেন। সেই পুনরুত্থান রবিবারই হল ইস্টার সান্ডে। যীশু খ্রিস্টকে ক্রুশীয় মৃত্যুর পর পাহড়ের গুহায় কবর দেয়া হয়েছিল, তিনি রবিবার ভোরে পুনরুত্থিত হন ও তাঁর শিষ্যদের দেখা দেন। তিনি শিষ্যদের মাঝে ৪০ দিন থেকে তাদের আশীর্বাদিত করে অর্থাৎ পবিত্র আত্মার শক্তি দিয়ে স্বর্গে চলে গমন করেন। এ জগতে যীশু খ্রীস্টই সেই মানুষ যিনি মৃত্যুর ৩ দিন পর আবার পুনরুত্থান করেছেন বা জীবিত হয়েছেন যা ছিল ঐশ্বরিক শক্তির বহি:প্রকাশ।
বিশ্বব্যাপী ইস্টার সানডের ছুটি আছে তদ্রুপ বাংলাদেশেও ইস্টার সান্ডের ছুটি দরকার। সরকার হয়তো বড়দিনের সময় ২ দিন ছুটি বাড়াবে তবে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের দরকার ইস্টার সানডে বা পাস্কা পর্বের ছুটি। বড়দিনের ছুটি যেমন ২৫ ডিসেম্বর নির্দ্দিষ্ট তারিখে হয় ইস্টারের ছুটির তারিখ প্রতি বৎসর পরিবর্তন হয়। চন্দ্র মাসের উপর ইস্টার সানডের ছুটি নির্ভরশীল। ইন্টারনেটে ১০/২০ বৎসরের ইস্টার সানডে কত সালে, কত তারিখ হবে  তা দেয়া আছে।
বড়দিন হচ্ছে মানব জাতির মুক্তিদাতা প্রভু যীশু  খ্রিস্টের জন্মতিথি পালন। আজ থেকে ২০১৭ খ্রিস্টবর্ষের ২৫ ডিসেম্বর যীশু জন্মগ্রহণ করেছিলেন প্যালেস্টাইনের বেথলেহেম নগরীতে। প্রতি বৎসর বিশ্বব্যাপী অনেক আনন্দ, উচ্ছাস ও আধ্যাত্মিক গভীরতায় বড়দিন উৎসব পালিত হয়।
মাননীয় প্রধান মন্ত্রী আপনার মহানুভূতির রেশ ধরে এদেশের সংখ্যালঘু খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের জন্য ইস্টার সানডে ছুটি ঘোষণা করুন। সমগ্র খ্রিস্টান সমাজ আপনার নিকট চির কৃতজ্ঞ থাকবে। বাংলাদেশ কাথলিক মন্ডলীর ধর্মগুরু কার্ডিনাল ও আর্চ বিশপ প্যাট্রিক ডি’রোজারিও, সিএসসি মহোদয়, সকল ধর্মপ্রদেশের বিশপ, ইউনাইটেড চার্চেস অব ফোরামের আধ্যাত্মিক ধর্মগুরু, সংস্থা, সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্টজনেরা এ ব্যাপারে এগিয়ে আসলে বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। বিশেষভাবে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাত করে বিষয়টি তাঁকে জ্ঞাত করে ইস্টার সান্ডে সরকারী  ছুটি  ঘোষণার জন্য অনুরোধ জানাতে পারেন। প্রক্রিয়াটি সরকারী গেজেট প্রকাশের আগেই সম্পন্ন করতে হবে।
অনেকে মনে করে ইস্টার সানডের এই ছুটির বিষয়টি বর্তমান প্রেক্ষাপটে মহান  সৃষ্টিকর্তা পিতা ঈশ্বরের বিশেষ অনুগ্রহ লাভের সময় বাংলাদেশের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের জন্য। পিতা ঈশ্বর সকলের সহায় হোন।