প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাবর পি.আর. প্ল্যাসিডের খোলা চিঠি -{দুই}

প্রতি

মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

 

বিষয়: জাপানে কাজের জন্য লোক পাঠানোর ক্ষেত্রে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

পি.আর. প্ল্যাসিড, টোকিও (জাপান) থেকে।

—————————————————————

সূর্য উদয়ের দেশ জাপান থেকে আপনাকে জানাচ্ছি শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা।

অনেকদিন ধরে একটি বিষয় আপনাকে লিখবো ভাবছিলাম। ইতিমধ্যেই মনে হচ্ছে বিষয়টি আপনার দৃষ্টি গোচর হয়েছে। আমরা মুখে বলি বাংলাদেশের লোক সংখ্যা বর্তমানে ষোল কোটি, এর মধ্যে এককোটি প্রায় প্রবাসে বসবাস করছে। সঠিক তথ্য আমার জানা নেই।

লোক সংখ্যা যা-ই থাকুক, দেশের প্রতিটি নাগরিকেরই কিন্তু কমবেশী দেশ প্রেম রয়েছে, এতে কোন সন্দেহ নেই। যদি বিগতদিনের উদাহরণ টানি, তাহলে বলতে পারি, ১৯৭১ সনের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে এপর্যন্ত দেশে যতগুলো স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং জনস্বার্থে জনমত তৈরী পরবর্তীতে আন্দোলন হয়েছে, এসব তারই প্রমাণ। দেশের সকল নাগরিক সেই আন্দোলনে শরিক না হলেও কারো মধ্যে দেশের ক্রান্তিকালে দেশ নিয়ে ভাবনার কমতি থাকে না। তবে যারা প্রবাসে থাকেন তাদের অনুভূতি আর দেশ নিয়ে ভাবনা তুলনামূলক দেশে যারা থাকেন তাদের থেকে নানা কারণে একটু বেশীই হয়।

পি.আর. প্ল্যাসিড
পি.আর. প্ল্যাসিড

এক কোটি প্রবাসী যদি ঠিক মতন রোজগার করে দেশে রেমিটেন্স পাঠান, তাহলে বাকী ১৫ কোটি লোকের সংসার চালাতে সমস্যা হবার কথা নয়। এমন কি রাষ্ট্রীয় ভাবেও যদি এই রেমিটেন্স নিয়ে চিন্তা করা হয়, তাহলে বলা যায় প্রবাসীদের এই কষ্টে উপার্জিত রেমিটেন্সের অর্থ সরকারের কোষাগারেই জমা হয়। যার উপর সরকারের অহংকার করার মতন প্রবৃত্তির পরিমাণও বাড়ে। বর্তমান অর্থ বছরে কিছুটা দেরীতে হলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা মন্ত্রণালয় তা পরোক্ষভাবে হলেও স্বীকার করেছে। যেমন, সম্প্রতি আপনার সরকারের মাননীয় বিজ্ঞ অর্থ মন্ত্রী কোন এক কারণে বলেছেন, প্রবাসীরা তাদের উপার্জিত টাকার পুরোটা দেশে পাঠায় নি, অর্ধেকটা তাদের নিজেদের কাছে রেখে দিয়েছে। তার মানে দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের ভূমিকা এই একটি কথার মধ্যেই প্রমাণিত। তাই যদি হয়, তাহলে বাংলাদেশে প্রবাসীদের গুরুত্ব কোথায়? কিংবা প্রবাসীরা দেশে মূল্যায়িত হচ্ছে কিভাবে? এটা আমার প্রশ্ন।

সম্প্রতি মালোয়েশিয়ার পরিস্থিতি আপনার হয়তো জানা। সেখানে দালাল চক্রে ভরে গেছে। শ্রমিকদের কিভাবে কেনা বেচা হয় তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অজানা থাকার কথা নয়। যেহেতু সেখানকার দূতাবাসের গেইটে তালা ঝোলার মতন ঘটনা ঘটেছে সুতরাং বলতেই পারি মালোয়েশিয়ায় আমাদের শ্রম বাজারের আজকের এই দূর অবস্থার পিছনে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে হয়তো খুঁজলে। মালোয়েশিয়াতে যে পরিমাণ বাংলাদেশী বৈধ আর অবৈধভাবে রয়েছে এদের কথা একবার ভাবুন। বাংলাদেশ থেকে ওরা কাদের মাধ্যমে, কত টাকার বিনিময়ে, কোন প্রতিষ্ঠানে, কতদিনের চুক্তিতে, কি শর্তে যাচ্ছে? এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে থাকার কথা।

পাশাপাশি কুয়েতে চলছে বাংলাদেশী শ্রমিকদের অসন্তোষ-আন্দোলন। বর্তমান প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এসব কোন কিছুই এখন আর ধামাচাপা থাকে না। কোন না কোন ভাবে ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। ঘটনা ঘটার মুহূর্তের মাঝেই মানুষ মুঠো ফোনের বদৌলতে সরাসরি জেনে যায় এবং দেখতে পায়। সামাজিক সাইটে ভাইরাল হয়ে ঘুরে বেড়ায় অসহায় বাংলাদেশী শ্রমিকদের আর্তনাদের কথা ও দৃশ্য। অথচ আমাদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় যেন এসবের কিছুই জানে না, কিছুই দেখে না। জানলেও যেন এসব নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় তাদের নেই। এসব যেন আমাদের সেই প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বা বিভাগের নয়। তাই যদি হতো তাহলে ঘটনাগুলো আজ হয়তো এই পর্যায়ে গিয়ে পৌছাতো না।

বাংলাদেশ থেকে যারা সোনার হরিণের আশায় লক্ষাধিক টাকা খরচ করে যাচ্ছেন, তাদের এই টাকাটা যদি সঠিক কাজে লাগে এবং যথা সময়ে যদি তারা টাকা তুলে, সোনার হরিণ না হোক কিছুটা হলেও অন্ততঃ স্বচ্ছল বা স্বপ্ন সফল হতো তাহলেও খুব খুশী হতো প্রবাসে বাংলাদেশীদের অধিকাংশ। সবারই আজ প্রায় একই অভিযোগ, তারা যে টাকা দিয়ে আসছে এবং যে কথা জেনে আসছে তার কোন কিছুরই যে এখন কোন মিল নেই। নেই বেতনের ঠিক, নেই থাকার কোন ভালো ব্যবস্থা, খাবারও পায় না ঠিক মতন। সেখানে মানবেতর জীবন-যাপন কাটাচ্ছে তারা। এত সব সয়েও সহজে কোন কিছু বলে না তারা। যখন একদম দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায়, তখনই ফেটে পড়ে আন্দোলন আর অসন্তোষে। দেশের বাইরে এতে আমাদের দেশের ভাবমূর্তি কখনোই ভালো হবার নয়।

বিদেশে যারা অধিক টাকার বিনিময়ে যাচ্ছেন, তারা কয়েক হাত বদলের পর হয়তো বিদেশে যেতে পারছেন। যাবার পর যা হচ্ছে সেখানে, সে সকল বিষয় জানার বা দেখার কেউ নেই। ভালো-মন্দ নাই দেখুক, লোকগুলোকে যেন দেশ থেকে আগুনে ঝাপ দিতে না হয়, সেটাতো আপনাদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় করতে পারে।

একই কাজের জন্য যেখানে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে লোক যাচ্ছে এবং যে টাকায় তারা যেতে সক্ষম, সেখানে বাংলাদেশ থেকে কেন তাদের চেয়ে কয়েকগুণ বেশী খরচ দিয়ে যেতে হয়, বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা প্রয়োজন মনে করছি। তা না হলে এসব লোকের দায় যে আপনার সরকারকেই নিতে হবে।

আমি জাপানের কথা যদি বলি, সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী জাপান এসেছিলেন। হয়তো যাবার পর উনি বলেছেন, সফর ফলপ্রসু। কিন্তু পত্রিকায় পড়লাম ভিন্ন কথা, হতাশা ব্যঞ্জক। জাপানে আগামী ২০২১ সনে অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অলিম্পিকের আগে এখানে বিভিন্ন বিভাগে কাজের জন্য দেশের বাইরে থেকে লোক নিবে সত্যি। তবে বেশীর ভাগ লোকই হতে হবে স্কিল্ড বা অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য একটা সুবর্ণ সুযোগ ছিল বটে। কারণ দুই দেশের সুসম্পর্ক আজকে নতুন নয়। দেশ স্বাধীন হবার পর থেকেই। দেশ স্বাধীন হবার পর আমাদের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা শেখ মুজিবর রহমানের জাপান সফর থেকেই তা পরিষ্কার। আমাদের দেশ ও দেশের মানুষদের প্রতি জাপান এবং জাপানিদের একটা সফট কর্ণার আছে। সেটাকে আমরা কেন যেন কাজে লাগাতে পারছি না।

আমাদের সরকারের সংশ্লিষ্ট এমপি, মন্ত্রী এবং ব্যবসায়ী বাংলাদেশ থেকে বিদেশে লোক পাঠানোর (বিশেষ ক্যাটাগরির) জন্য অনেকদিন ধরেই শুনেছি চেষ্টা তদবির করে আসছেন। সেই চেষ্টার ফল, বিগত দশ বছরে জাপানে বাংলাদেশ থেকে লোক এসেছে মাত্র ৩০০ জনের মতন। যেখানে চিন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন থেকে আসছে লক্ষাধিক। জাপানে বেশ কয়েক বছর আগে থেকে ট্রেইনিং ভিসায় তিন বছরের চুক্তিতে লোক আসছে, যা এখন পাঁচ বছরের জন্য নিয়ম করা হয়েছে। অন্য দেশ থেকে যেখানে দশ হাজার আসছে, সেখানে বাংলাদেশ থেকে এক হাজার না আসুক পাঁচশ’ লোক অন্তত আনার ব্যবস্থা কেন করা হয় না। (যদিও সংখ্যাটি লক্ষাধিক)। কি করলে বাংলাদেশ থেকে জাপানে আমাদের আরো বেশী লোক আসার সুযোগ হবে সে দিকে আরো বেশী খেয়াল রেখে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখনই দরকার। দীর্ঘদিন ধরে জাপানে বসবাস করার কারণে কিছুটা হলেও ওদের মানসিকতা বোঝার ক্ষমতা হয়েছে। ওরা এমন এক জাতি, কারো সাথে কোন কিছু হলে বা কারো কোন কিছু ভালো না লাগলে ওরা সরে যায় নীরবে, কখনো কোন ধরনের ঝামেলা করে না।

জাপানে বাংলাদেশী শ্রমিকদের কাজের কোন কৈফিয়ৎ নেই বরং সুনাম আছে। কিন্তু নতুন করে যখন দেশ থেকে লোক আনার বিষয়টি সামনে চলে আসে তখন অবশ্যই অন্য দেশের সাথে তুলনা করতে চাইবে জাপানের বিভিন্ন কোম্পানী মালিকেরা। যেমন, কোন দেশের লোক আনলে তাদের লাভ হবে বেশী এবং কেন সেই লাভ হবে? সেটার উপর ভিত্তি করেই তারা শ্রমিক আমদানীর বিষয়টি নিয়ে কাজ করবে। বাংলাদেশ থেকে দেখা যায়, যারাই আসছে, তাদের অধিকাংশ লোক জাপানি ভাষা না জানার কারণে নানান ঝামেলায় পড়ছে। অন্যান্য দেশের লোকেরা জাপান আসার আগেই জাপানের নিয়ম কানুন সম্পর্কে কিছুটা হলেও জেনে তারপর আসছে। পাশাপাশি জাপানি ভাষা শিখে তাদের সাথে সাধারণ কাজের বিষয়ে ভাব আদান প্রদান করার মতন নিজেদের গড়ে, তারপরেই আসছে। সে ক্ষেত্রে আমাদের দেশের লোকদের বেলায় তাদের কাছাকাছিও যায় না।

আমাদের দুই দেশের সরকার প্রধানের মধ্যে যতই সম্পর্ক ভালো থাকুক, দেশের বাইরে থেকে শ্রমিক বলি আর স্কিল্ডই বলি, তাদের কিন্তু কাজে লাগাবে সাধারণ কোম্পানীর মালিক আর কাজ করবে সাধারণ জাপানিজদের সাথে। সেই ক্ষেত্রে আমাদের অন্য দেশের সাথে প্রতিযোগিতায় পাশ করতে এবং টিকে থাকতে অবশ্যই ভাষা শিখে আসতে হবে। এজন্য জাপান সরকারের সাথে স্কিল্ড আর আন স্কিল্ড লোক আনার বিষয়ে শুধু চুক্তি করলেই চলবে না, পাশাপাশি জাপানে কাজ করতে আসতে আগ্রহীদের কঠোর পরিশ্রম করিয়ে হলেও ভাষা শিখাতে হবে এবং জাপানী কোম্পানীগুলোর চাহিদা পূরণের জন্য যা যা করণীয় তা করতে হবে। প্রয়োজনে কিছু প্রশিক্ষক বা রিটায়ার্ড শিক্ষককে বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে কম বেতন দিয়ে হলেও (ভলেন্টিয়ার হিসাবে) বাংলাদেশে নিয়ে তাদের দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর জাপানে লোক পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

  মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী, আপনি নিজেও একসময় প্রবাসী ছিলেন। যদিও উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন, তারপরেও একজন প্রবাসীর মন কেমন হয়, দেশে আত্মীয় পরিজনের জন্য কতটা কাঁদে, আর দেশের জন্য ভালোবাসা কি পরিমাণ হয়, সেটা আপনি নিশ্চয় অনুধাবন করতে পারেন আশা করি। সংক্ষিপ্ত পরিসরে সব বলা সম্ভব নয় যদিও, তারপরেও বলবো, মালোয়েশিয়া আর কুয়েতই নয় শুধু, পাশাপাশি জাপান লোক পাঠাতে হলে, তাদেরকে দেশ থেকেই বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে পাঠানো ভালো মনে হয়। আমি বিশেষ করে যারা বিভিন্ন কাজের জন্য দেশ থেকে ওয়ার্কিং ভিসা নিয়ে আসার আগ্রহ দেখাচ্ছেন, তাদের কথাই বলছি। কতদিকে কত টাকা বাংলাদেশ সরকার খরচ করছে, তার সঠিক হিসাব জানা নেই। এটাও দেশের ভালোর জন্য একটা বড় প্রজেক্ট হতে পারে। যেখানে মানুষকে করা হবে প্রকৃত মানুষ। তারা হবে কথাবার্তা, আচার আচরণ ও ব্যবহারে হবে দেশের পিলার। পরবর্তীতে তাদেরকেও সরকারের পক্ষ থেকে প্রকৃত মূল্যায়ন করা উচিত। প্রয়োজনে ওদেরকে বিনা খরচে পাঠানো উচিত। বিদেশে গিয়ে আপনার নির্ধারিত ফান্ডে তারা টাকা দিতে বাধ্য হবে। এটা ব্যবসা নয়। অন্য দেশে এমন কোন প্রজেক্ট না থাক। আমাদের দেশে যেনো করা হয়, তবেই ওরা টাকা অর্ধেক রেখে বাকীটা রেমিটেন্স করে পাঠাবে না। যা পাঠানোর তার পুরোটাই পাঠাবে। এখন যা বলা হচ্ছে সেটা অনেকটা দেশের প্রবৃত্তি বাড়ানোর জন্য অন্যের উপার্জনের দিকে নজর দেয়া। তখন এটাই হবে নিয়ম এবং বাধ্যতা মূলকভাবে।

সহজ একটা বিষয় ভাবছিলাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ থেকে অনেকেই ঘরবাড়ি বিক্রি করে বা অধিক হারে সুদে টাকা ধার নিয়ে দালাল শ্রেণীর লোকদের মাধ্যমে বিদেশ যাচ্ছে। আর যে লোকগুলো অধিক হারে সুদে টাকা ধার নিয়ে বাইরে যাচ্ছে, ওদের এই টাকাগুলোই একত্র করে কি সম্ভব হয়না দেশের ভিতর তেমনই কোন কর্মক্ষেত্র তৈরী করে ওদের দেশের ভিতর কাজ দেয়া। তাহলে লোকগুলোর হোমসিকনেস থাকবে না। পরিবার পরিজন নিয়ে দু’বেলা মনের সুখে খেতে পারবে। দেশে ওদের কম উপার্জনেই হোক, কর্মসংস্থান হলে ওরা বাইরে আর যেতে চাইবে না। ওরা তখন অনেক ভালো থাকবে। দেশও বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে পড়বে না, যদি উৎপাদিত পন্য সঠিকভাবে রপ্তানী করা যায়। এজন্য চাই সুপরিকল্পনা, সৎ অভিভাবকত্ব এবং সঠিক নির্দেশনা। আমার বিশ্বাস এই কাজটি একমাত্র আপনার দ্বারাই সম্ভব। বিগত দিনগুলোতে যেহেতু এমন নেতৃত্ব চোখে পড়েনি, আগামীতে আর হবে কিনা বিভিন্ন কারণে তা যথেষ্ট সন্দেহ।

গত আশির দশকের আগের জাপান কিন্তু আমাদের বর্তমান বাংলাদেশের থেকে খুব বেশী আলাদা ছিল না। ওরাও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশের বাইরে গিয়েছিল কাজ করার জন্য। ওদের তখন পর্যাপ্ত খাবার ছিল না। ছিল না ভালো সমাজ ব্যবস্থা। ওদের ঐকান্তিক ইচ্ছা আর কঠোর পরিশ্রমের ফলেই কিন্তু আজকের বিশ্বে একটি মডেল দেশ হিসাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে। সুতরাং আমাদের না পারার কিছু নেই। আমরাও পারবো। এজন্য চাই শুধু সচেতনতা, সততা আর ঐকান্তি প্রচেষ্টা।

আপনার সুস্বাস্থ কামনা করি। আল্লাহ আপনার দীর্ঘ জীবন দান করুন। বাংলাদেশ চিরজীবি হোক।

 

————

পি.আর. প্ল্যাসিড

টোকিও জাপান।

লেখক: জাপান প্রবাসী লেখক।

ই-মেইল: prplacid@gmail.com

আপনি আরো পড়তে পারেন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট পি.আর. প্ল্যাসিডের খোলা চিঠি