এনডিইউবি প্রথম আন্তরবিশ্ববিদ্যালয় কালচারাল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

 

নিউটন মণ্ডল:

নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ-এর কালচারাল ক্লাব কর্তৃক আয়োজিত প্রথমবারের মত আন্তরবিশ্ববিদ্যালয় কালচারাল প্রতিযোগিতা ও এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ১৪ মো   বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের হেভি মেটাল আর্টসেল ব্যান্ডের কণ্ঠশিল্পী ও প্রাক্তন নটর ডেমিয়ান মি. জর্জ লিংকন ডি’কস্তা। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ইনচার্জ) ফাদার বেঞ্জামিন কস্তা, সিএসসি, রেজিস্ট্রার ফাদার আদম এস, পেরেরা, সিএসসি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষার্থীবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতীয় সংগীতের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। স্বাগত বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর ও কালচারাল ক্লাবের সহকারি মডারেটর তাসনুভা শারমিন বলেন, “শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গণের সাথে পরিচিত করে গড়ে তুলতে গত বছর নটর ডেম কালচারাল ক্লাবের যাত্রা শুরু হয়।”

বেঞ্জামিন কস্তা, সিএসসি বলেন, একজন বাংঙালি হিসেবে আমি সব সময় গর্ববোধ করি। কারণ আমাদের কালচার অনেক সমৃদ্ধ। কিন্তু আমরা আমাদের সংস্কৃতিকে রেখে অন্য দেশের সংস্কৃতি অনুসরণে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি। এতে করে আমরা নিজেদের পরিচয় ও ঐহিত্যকে হারিয়ে ফেলছি। এনডিইউবি-কালচারাল ক্লাবের প্রচেষ্টা কিছুটা হলেও দেশীয় সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে অবদান রাখবে এবং শিক্ষার্থীরা এ সংস্কৃতি নিজেদের বাস্তব জীবনে লালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ফাদার আদম এস, পেরেরা, সিএসসি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে দেশের সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে এবং মূল্যবোধ তৈরি করতে এনডিইউবি কালচারাল ক্লাব অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে এবং তরুণ-তরুণীদের মধ্যে দেশীয় সংস্কৃতির ভীত তৈরি করতে এই ক্লাব নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। সুস্থ ও দেশীয়  সংস্কৃতি চর্চায় কালচারাল ক্লাবের এ রকম আয়োজন অব্যাহত থাকবে। অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে এ অনুষ্ঠান সাফল্যমণ্ডিত করার জন্য ক্লাব সদস্যদের তিনি ধন্যবাদ জানান।

কলেজ জীবনের স্মৃতিচারণ করে বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী জর্জ লিংকন ডি’ কস্তা বলেন, আমিও একজন নটর ডেমিয়ান। নটর ডেমের পরিবেশ ও নিয়ম-শৃঙ্খলা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য আদর্শ মডেল স্বরূপ। ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশুনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চায় মনোনিবেশ করা ও এই ক্লাবের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন যন্ত্রসংগীত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট প্রস্তাব রাখেন।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে আন্তরবিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বিভিন্ন ইভেন্টে মোট 80 জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল রবীন্দ্র সংগীত, নজরুল গীতি, লোকগীতি, আধুনিক বাংলা গান, ইংরেজি গান, ক্লাসিকাল একক ও দলীয় নৃত্য, আধুনিক একক ও দলীয় নৃত্য, আবৃত্তি এবং বাংলাদেশ ও এর কালচার বিষয়ক ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা।

অনুষ্ঠানের তৃতীয় পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যান্ড দল ‘পাতাবাহার’ ও ‘এ মাইনর’ অংশগ্রহণ করে।