খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় গীর্জায় হামলা, দুই স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার জামতলীর আনসার পোস্টের নিকটস্থ একটি খ্রিস্টান ধর্মীয় গীর্জায় হামলা চালিয়েছে সেটলাররা। এ সময় সেটলার দুর্বৃত্তরা ওই গীর্জায় থাকা দুই স্কুল ছাত্রীকে মারধর ও ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। খবর সিএইচটিনিউজের।

জানা যায়, গত বুধবার (১০ মে) রাত সাড়ে ৯টার সময় কয়েকজন নারীসহ ১১ জনের একদল সেটলার গীর্জাটিতে হামলা চালায়। এসময় সেটলাররা চিৎকার দিয়ে গীর্জার দরজা খুলে দিতে বলে। এতে দরজা খুলে দিলে তারা গীর্জার ভিতর প্রবেশ করে । এ সময় সেটলাররা সেখানে থাকা ১০ম ও ৮ম শ্রেণিতে পড়ুয়া দুই পাহাড়ি (ত্রিপুরা) ছাত্রীকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এক পর্যায়ে খবর পেয়ে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে সেটলাররা সেখান থেকে চলে যায়।

হামলাকারীরা টেনেহিচড়ে ছাত্রীর জামা ছিড়েঁ দিয়েছে

হামলাকারী সেটলারদের মধ্যে ছিলেন ৫ জন নারী ও ৬ জন পুরুষ। এর মধ্যে যাদের চেনা গেছে- মোঃ রবি(১৮), মোঃ আবুল কালাম(১৯), মোঃ ফারুক, মোঃ মুহিদ(২২), মোঃ মুরাদ, শাহীনুলের স্ত্রী, শেফালি বেগম ও শেফালি বেগমের মা। বাকীদের নাম জানা যায়নি।

উক্ত হামলার কিছুক্ষণ পর আবারো ৬ জন সেটলার যুবক এসে দরজা ভেঙে গীর্জার ভিতরে ঢুকে দুই ছাত্রীকে ধরে মারধর করে এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। তারা ছাত্রীদের জামা খুলতে বলে এবং টেনেঁহিঁচড়ে এক ছাত্রীর গাঁয়ের জামা ছিড়ে দেয়। এ সময় ওই ছাত্রীরা চিৎকার করলে সেটলাররা ছাত্রীদেরকে গালিগালাজ ও হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।  এ ঘটনায় মামলা করা হলে মেরে ফেলা হবে বলে ছাত্রীদেরকে হুমকি দেয় সেটলাররা।

গীর্জায় দায়িত্বরত স্টিফেন ত্রিপুরা জানান, হামলার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না। এসময় কাজের জন্য বাইরে ছিলেন। রাতে ফিরে তিনি ঘটনাটি জানতে পারেন।

মারধর ও ধর্ষণ প্রচেষ্টার শিকার ওই দুই ছাত্রী উক্ত খ্রিস্টান গীর্জায় থেকে পড়ালেখা করেন। তাদের একজনের বাড়ি দীঘিনালার জামতুলিতে এবং আরেকজনের বাড়ি বান্দরবানের লামায়। তারা উভয়ে হাসিনসনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। বর্তমানে ছাত্রীরা জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

উক্ত ঘটনায় দীঘিনালা থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। (সৌজন্য: সিএইচটিনিউজডটকম)

বিজ্ঞাপন