মুক্তিযোদ্ধা হয়েও মধু সিং এর মিলল না মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি

জগৎ সিং ও বিমলা সিং এর সন্তান মধু সিং চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনীয়া উপজেলার কোদালা চা বাগানে বসবাস করেন । তারা দুই ভাই ও এক বোন । তিনি পিতা মাতার মেজ সন্তান। তাঁর পিতা ব্রিটিশ শাসনামলে চট্টগ্রামের রেলস্টেশনের ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময়ে তাঁর পিতা রাঙ্গুনীয়ার কোদাল চা বাগানে এসে কাজে যোগদান করেন।

মধু সিং ১৫ জুলাই ১৯৪৮ইং সালে কোদালা চা বাগানে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি কোদালার শিলক উচ্চ বিদ্যালয় হতে ১৯৬৯ইং সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হওয়ার সাথে সাথেই চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনীয়া উপজেলার কোদালা নিবাসী প্রয়াত: নুরুল হক এবং ডা: পাচঁকুড়ি এর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে প্রশিক্ষণের জন্য ভারতের মিজোরামের ডেমাগ্রী থানায় গিয়ে নাম লেখান । সেখানে একজন ভারতীয় শিখ মেজরের নেতৃত্বে কয়েকমাস প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। পরবর্তীতে দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭১ইং মুক্তিযুদ্ধে নয় মাস বাংলাদেশেই অবস্থান করে রাঙ্গামাটি জেলার ছোট হরিণা, বড় হরিণা এবং তবলছড়িতে পাক বাহিনীদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

সে সময় রাইফেল কাঁধে নিয়ে শত্রু শিবিরে বিভিন্ন সময় অপারেশনে যোগ দিয়েছেন । অবশেষে এ অঞ্চলকে তাঁরা শত্রু মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছিলেন ।  যুদ্ধের পর পরই অস্ত্র জমা দেন রাঙ্গুনীয়ার ইছাখালীতে। পরবর্তীতে তাঁদের দলসহ চট্টগ্রামের প্রাক্তন মেয়র জনাব মহিউদ্দিনের সাথে দেখা করার পর তিনি সকলকে একটা করে সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন। সেই সময় তিনিও একটি সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে নিয়েছিলেন।  কিন্তু দু:খের বিষয়, ঘূর্ণিঝড়ে ঘরবাড়ি নষ্ট হবার কারণে সেই কাগজপত্রগুলোও বহু বছর আগে নষ্ট হয়ে যায় । এছাড়া কর্ম ব্যস্ততা আর পারিবারিক অভাব-অনাটনের সংসার সামাল দিতে দিতে, নতুন করে সার্টিফিকেট আর সংগ্রহ করা হল না।

সে সময় রাইফেল কাঁধে নিয়ে শত্রু শিবিরে বিভিন্ন সময় অপারেশনে যোগ দিয়েছেন । অবশেষে এ অঞ্চলকে তাঁরা শত্রু মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছিলেন ।  যুদ্ধের পর পরই অস্ত্র জমা দেন রাঙ্গুনীয়ার ইছাখালীতে। পরবর্তীতে তাঁদের দলসহ চট্টগ্রামের প্রাক্তন মেয়র জনাব মহিউদ্দিনের সাথে দেখা করার পর তিনি সকলকে একটা করে সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন। সেই সময় তিনিও একটি সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে নিয়েছিলেন।  কিন্তু দু:খের বিষয়, ঘূর্ণিঝড়ে ঘরবাড়ি নষ্ট হবার কারণে সেই কাগজপত্রগুলোও বহু বছর আগে নষ্ট হয়ে যায় । এছাড়া কর্ম ব্যস্ততা আর পারিবারিক অভাব-অনাটনের সংসার সামাল দিতে দিতে, নতুন করে সার্টিফিকেট আর সংগ্রহ করা হল না।  তিনি জানান, আমার সহ-যোদ্ধা মো: হারুনকে বলেছিলাম, সার্টিফিকেট জোগাড় করে দিতে । উনি আমাকে বলেছেন, এখন যদি সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করেন, সকলেই ভাববেন, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট নিতে চেয়েছেন । আমি উনাকে বলেছিলাম, এখন সারা বাংলাদেশের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কাজ চলছে। আপনি কেন আবেদন করেননি, তিনি বলেছেন, যারা আমাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিয়ে গেছেন, তারা এখন জীবিত নেই । তাছাড়া যেটুকু কাগজপত্র ছিল তাও সব নষ্ট বা হারিয়ে গেছে । মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কোন প্রমাণ এখন করতে পারব না । তাই নীরব ভূমিকা পালন করা ছাড়া উপায় কি? পরিবারের কাছ থেকেও অনেক কথা শুনতে হয় । পরিবারের লোকজন আমাকে বলেছে, তুমি মুক্তিযুদ্ধে গিয়ে কি লাভ হয়েছে, সকলে অনেক সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে, আর তুমি কিছুই পাচ্ছ না । তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছি, এই কথা ভেবেই শান্তি পাই ।

তিনি ১৯৭৮ইং জুন মাসে খ্রীষ্টিয়ান হাসপাতাল চন্দ্রঘোনার অধীনে ফ্যামিলি কেয়ার সেন্টার(এফ, সি, সি)-তে ক্লার্ক পদে চাকুরিতে যোগদান করেন । তিনি বিগত বেশ কয়েক বছর আগে চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণ করার পর অত্র হাসপাতালের রেজিস্ট্রেশন বিভাগে অস্থায়ী ভিত্তিতে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাস পর্যন্ত কাজ করেছেন । তার ২ ছেলে এক মেয়ে । সকলের প্রত্যাশা আসল মুক্তিযোদ্ধারা যেন স্বীকৃতি পায় এবং তাঁদেরকে যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়া হয় । অবসরে থাকা ৬৯ বছর বয়সের মধু সিং কি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পাবে? নাকি, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সুপ্ত গভীর বেদনা নিয়ে অতিবাহিত হবে, আগামী দিনগুলো ?

-থয়সাপ্রু খিয়াং

খ্রীষ্টিয়ান হাসপাতাল চন্দ্রঘোনা

কাপ্তাই উপজেলা,

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা ।

মোবাইল: ০১৭১৮১৩৩৪৮৯

Leave a Reply