পোপকে বাংলাদেশে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানাবেন প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা

Published:

বিডি খ্রিস্টান নিউজ

আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে তাঁর কার্যালয়ে সকাল সাড়ে দশটায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন নব নিযুক্ত কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও। এ সময় পোপকে বাংলাদেশে আসার জন্য রাষ্ট্রিয়ভাবে আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধান মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ কালে কার্ডিনাল প্যাট্রিকের সাথে  গিয়েছিলেন নন্সিও জর্জ কোচেরি এবং ঢাকার সহকারী বিশপ শরৎ ফ্রান্সিস গমেজ।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে জানান,  কার্ডিনাল প্যাট্রিক রোজারিও প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের প্রথম কার্ডিনাল হিসেবে আমি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ছয় লাখ সদস্যের পক্ষে এ দেশের প্রতি আমার আনুগত্য প্রকাশ করতে আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছি।’

সভায় উপস্থিত ঢাকার সহকারী বিশপ শরৎ ফ্রান্সিস গমেজ বিডি খ্রিস্টান নিউজকে বলেন, কার্ডিনাল প্যাট্রিক মূলত সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে প্রধান মন্ত্রীর কাছে যান। তিনি বলেছেন, এদেশের প্রতি আমার ভালবাসা আছে।তিনি প্রধান মন্ত্রীকে জানিয়েছেন, পোপ ফ্রান্সিস আগামী বছর বাংলাদেশ আসতে পারেন। পোপ ক্ষুদ্র মন্ডলীগুলোর দিকে নজর দিয়েছন।
এই ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কার্ডিনাল প্যাট্রিককে বলেছেন, “আমরা রাষ্ট্রিয়ভাবে পোপ ফ্রান্সিসকে আমন্ত্রণ জানাবো। তিনি (পোপ) এদেশে আসার ব্যপারে চূড়ান্ত করলে পনরায় বসে তাঁর আসার বিষয়ে আলোচনা করবো।”।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে প্রথম কার্ডিনাল নিয়োগে তিনি খুবই আনন্দিত।
তিনি কার্ডিনালকে বলেন, ‘আপনি কার্ডিনাল হয়েছেন- এটা বাংলাদেশের জন্য খুবই গৌরবের বিষয়, এটা দেশের গৌরব এবং এটা আপনার কাজেরও একটা স্বীকৃতি।’
কার্ডিনাল বলেন, সম্প্রতি তার ভ্যাটিকান সিটি সফরকালে তিনি পোপকে বাংলাদেশের জনগণের লালিত মূল্যবোধ এবং বাংলাদেশে বিরাজমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়ে অবহিত করেছেন।
তিনি বলেন, আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বহু অর্জনের ব্যাপারে ওই পবিত্র নগরীর মানুষ অবগত নন। এ প্রসঙ্গে তিনি সম্প্রতি বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করে বলেন,  গুলশান হামলার পর দেশের পরিস্থিতি সরকার সাহসের সাথে কাটিয়ে উঠেছে। এজন্য তিনি শেখ হাসিনা সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে বাংলাদেশে মানুষ শতাব্দীর পর শতাব্দী শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বসবান করছে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ধর্ম যার যার, কিন্তু ধর্মীয় উৎসব সকলের।’
তাঁদের আলোচনাকালে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, মুখ্য সচিব ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী ।

Leave a Reply