ছোট খাটো বিষয়

আলো ডি’রোজারিও:
অনেক বড় বিষয় নিয়ে লিখে তেমন কিছু হয় না, এমন বিশ্বাস অনেকের। সেখানে ছোট খাটো বিষয় নিয়ে লিখে লাভ কী, প্রশ্ন থাকতেই পারে। লাভ আছে অবশ্যই। যিনি লিখেন, তার। যেকোন বিষয় যখন কেউ লিখেন তা সবচেয়ে বেশী লাভ বয়ে আনে তার জন্য যিনি লিখেন। লিখতে পারলে মন ভাল থাকে। লিখতে গেলে পড়তে হয়। লিখতে গেলে পর্যবেক্ষণ করতে হয়। আর পর্যবেক্ষণে সমাজের মানুষের দু’টো মৌলিক বিষয় জানা যায়। মৌলিক বিষয় দুটো হ’ল: মানুষ কী করে? মানুষ যা করে তা কেন করে? আরো গভীরের তৃতীয় বিষয়টি হ’ল: মানুষ যা করে তা কীভাবে করে?
আমি যখন ইংল্যান্ডে পিএইচডি করতে যাই তখন তত্ত্বাবধায়ক প্রফেসর বললেন: বেনেডিক্ট, আমি তোমার চোখ, কান ও জিহ্বা পাল্টে দেব যেন তুমি আগে যা দেখতে তা দেখবে না, আগে যা শুনতে তা শুনবে না। তোমার জিহ্বা আগে যে জিনিস যেরকম স্বাদ পেত সেরকম স্বাদ পাবে না…। আমি বিচলিত হলাম, ভয় পেলাম, আমার মুখের জিওগ্রাফি পাল্টে গেল। তা দেখে  তিনি নিঃশব্দে হাসতে হাসতে বললেন, এমনভাবে পাল্টাবো যে তুমি বুঝবে না। তিনি ঠিকই বলেছিলেন। তার সাথে কয়েক সেশন বসার পর ভাতের স্বাদ, রুটির স্বাদ ও বিরিয়ানীর স্বাদ আমার একই মনে হওয়া শুরু হ’ল। আর হবেই তো, ওসব তো একই জিনিস- খাবার। ওসব খেলে পেট ভরে, ক্ষুধা নিবৃত্ত হয়। আমি ভাত না খাবার কষ্ট ভুলে গেলাম। সত্যিই বলছি। এসব ছোট খাটো বিষয় নিয়ে মিথ্যে বলে লাভ কী?
তাহলে কী পক্ষান্তরে আমি বলছি যে বড় মিথ্যা বলে লাভ আছে? অবশ্যই আছে। তা না হলে মানুষ বড় মিথ্যেও বলবে কেন? তবে মিথ্যে বড়ই হোক বা ছোটই হোক, এর লাভ সাময়িক। সাময়িক এই লাভের প্রভাব ব্যাপক কারণ মিথ্যেবাদীর কদর বা আদর সমাজে নেই। মিথ্যেবাদী যখন মিথ্যে বলে তখন তার একটি অবস্থান থাকে। যেমন থাকে একজন সত্যবাদীর। নিজেকে একবার সত্যবাদীর জায়গায় ও আর একবার মিথ্যেবাদীর জায়গায় দাঁড় করাতে পারলে দু’জনের অবস্থান বুঝবার অবকাশ মিলে। আর তখন একটা মজার ঘটনা ঘটে, মনে হতে থাকে: যেটা যেমন সেটা তেমনভাবে বলাই ভাল। তাতে লাভটা হয় স্থায়ী ও মজবুত। ঘটনা যা ঘটেছে বর্ণনা তা-ই থাকে। মিথ্যে বলার মনোকষ্ট দেখে দূরে রাখা যায় নিজেকে।
যেমনভাবে এই লেখাটি লিখতে চেয়েছি, সেভাবে লিখতে পারিনি। ছোট খাটো বিষয় নিয়ে অনেক দিন লিখিনি তো, তাই। পরের বারে আবার চেষ্টা করব।
লেখক: আলো ডি’রোজারিও, প্রাক্তন নির্বাহী পরিচালক, কারিতাস বাংলাদেশ

আরো পড়ুন: আলো ডি’রোজারিও: যিনি আলো ছড়িয়ে যান দিকে দিকে

Leave a Reply