নির্যাতন, অবহেলা ও নীরবতা: রোহিঙ্গা সংকটের নেপথ্যে (শেষ কিস্তি)

রক রোনাল্ড রোজারিও: (গত কিস্তির পর) আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদাসীনতা ও নিরাপদ দূরত্ব নীতি ২০১২ খ্রিস্টাব্দ অবধি রোহিঙ্গারা বিভিন্ন সময়ে হত্যা

Read more

রম্য: পরলোকে বড়লোক!

মার্সল কান্টা: মোটামুটি সংসার চলার মত পূঁজি নিয়ে মধ‍্যপ্রাচ‍্যের চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে দেশে ফিরেছিলেন কান্তবাবু। কাওরান বাজারের পৈতৃক আরতদারীর  ব্যবসা।

Read more

নির্যাতন, অবহেলা ও নীরবতা: রোহিঙ্গা সংকটের নেপথ্যে (২য় কিস্তি)

রক রোনাল্ড রোজারিও:  (গত কিস্তির পর) ঔপনিবেশিক শাসনের কুফল ব্রিটিশ শাসনামলে অন্য সকল উপনিবেশের মতোই বার্মাতেও কুখ্যাত “ভাগ করো ও শাসন করো” (Divide and Rule) নীতি বলবৎ ছিল। রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ শাসকদের মোক্ষম অস্ত্র, যা সমাজ ও রাষ্ট্রে ধর্ম ও জাতিভিত্তিক রক্তক্ষয়ী বিভাজন, হিংসা ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার অন্যতম প্রধান নিয়ামক। ব্রিটিশ আমলে আরাকানে ব্যাপকহারে পূর্ব বঙ্গ থেকে বাঙালি মুসলিমদের নিয়ে যাওয়া হয় সরকারি মদদে। আপাত দৃষ্টিতে এর পেছনে আরাকানের কৃষি জমি থেকে শস্য উৎপাদন ও আর্থিক মুনাফা জড়িত ছিল বলে ধারণা করা হয়। আদতে তা ছিল আরেকটি রাজনৈতিক স্বার্থে ব্রিটিশ কারসাজি। আরাকানের রাখাইনরা সর্বদাই প্রচন্ড ব্রিটিশবিরোধী ছিল, আর তাই ব্রিটিশরা চেয়েছে তাদের সমানুপাতিক সংখ্যায় মুসলিমদেরকে বৌদ্ধ রাখাইনদের বিকল্প শক্তি হিসেবে দাঁড় করাতে। ব্রিটিশরা তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করে গেছে বটে, কিন্তু তা আরাকানে সাম্প্রদায়িক বিষবৃক্ষ রোপণ করেছে চিরকালের মতো। রাখাইনরা মন থেকে কখনো বহিরাগত মুসলিমদের মেনে নিতে পারে নি। আর মুসলিমরাও তাদের পিঠ বাঁচাতে  ব্রিটিশ প্রভুদের সর্বপ্রকার সহযোগিতা করে। আরাকানে বৌদ্ধ-মুসলিম বিভাজন চরমভাবে পরিলক্ষিত হয় ২য় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে। ব্রিটিশরা মুসলিমদের আশ্বাস দেয় যে যুদ্ধ শেষে তারা ভারতবর্ষ ছেড়ে চলে যাবে। আর তাই স্বাধীনতার আশায় হাজারো মুসলিম ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করে ও যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। অন্যদিকে, রাখাইন বৌদ্ধরা ব্রিটিশদেরকে বিতাড়নের লক্ষ্যে বার্মিজদের সাথে ব্রিটেনের শত্রু জাপানকে সমর্থন করে। মায়ানমারের নেত্রী সু চির বাবা জেনারেল অং সান ছিলেন স্বাধীন বার্মার স্বপ্নদ্রষ্টা ও পুরোধা, যিনি জাপানে সামরিক প্রশিক্ষণ নেন এবং তৎকালীন জাপান সরকারের সরাসরি সহযোগিতা আদায় করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশরা বার্মা থেকে তাদের সাম্রাজ্য গুটিয়ে নেয়। কিন্তু তাদের আমলে মাথাচাড়া দিয়ে জাগা ধর্মীয় ও জাতিগত বিদ্বেষ ও সহিংসতা কালক্রমে বাড়তে থাকে। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদের রেশ ধরে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। এ সময় কিছু রোহিঙ্গা মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ পাকিস্তানে যোগদানের পক্ষপাতি ছিল। আবার কেউ কেউ রাখাইনদের মতো জঙ্গী সংগঠন গঠন করে বার্মিজ আধিপত্যবাদী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়। বার্মিজ সেনাবাহিনী সে সময় থেকে রোহিঙ্গা জঙ্গী ও অন্যান্যদেরকে “অবৈধ বাঙালি অনুপ্রবেশকারী” হিসেবে আখ্যায়িত করতে শুরু করে, যাদেরকে কোনভাবেই বার্মার নাগরিকত্ব দেয়া যাবে না মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এছাড়াও সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদেরকে রাখাইন বৌদ্ধদের জাতশত্রু (Common Enemy) হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের বৃহৎ অংশটিকে নিজের দলে টেনে নেয়। আর তাই যে রাখাইনরা বহু বছর যাবৎ মুসলিমদের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বাস করে এসেছে এবং বার্মিজ সেনাবাহিনী ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে একদা এক কাতারে লড়াই করেছে, নিয়তির নির্মম পরিহাসে তারাই সেনাবাহিনীর সাথে হাত মিলিয়ে বলির পাঁঠা হিসেবে রোহিঙ্গা নির্যাতন ও নিধনে অস্ত্র হাতে তুলে নিল। সেনাবাহিনী সাথে একাট্টা হয়ে বৌদ্ধরা বলতে লাগল রোহিঙ্গারা এদেশের নাগরিক হবার যোগ্য নয়, তারা বাংলাদেশ হতে বার্মায় অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করেছে। ব্রিটিশ অনুসৃত “ভাগ কর ও শাসন কর” নীতির নতুন অধ্যায় শুরু হল এবং রোহিঙ্গাদেও জীবন ক্রমশই দুর্বিষহ হয়ে ওঠতে লাগল। রোহিঙ্গাদেও দুর্দশাগ্রস্থ জীবন ইতিহাসের এক নির্মম পটপরিবর্তন। কেননা, বর্তমান মায়ানমারের রাখাইন রাজ্য আসলে ২,০০০ বছরের স্বাধীন আরাকান রাজ্য হিসেবে ইতিহাসে বিধৃত হয়ে আছে। আরাকান রাজ্যে সুদীর্ঘকাল পূর্বে থেকেই (আনুমানিক ৮ম শতক) মুসলিমদের উপস্থিতি ও প্রভাবের কথা ইতিহাসে লিপিবদ্ধ রয়েছে। আরাকানে বৌদ্ধ-মুসলিম সম্প্রীতি, প্রতিপত্তি ও শান্তি সংকটের মুখে পতিত হয় ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে বার্মিজ সেনাবাহিনীর আগ্রাসন ও দখলদারিত্বের সময়কাল থেকে। পরবর্তীতে ১৮২৪ খ্রিস্টাব্দে যখন ব্রিটিশরা বার্মাকে তাদের সাম্রাজ্যভুক্ত করে এবং আরাকানের শান্তি ও সমৃদ্ধি অধিকতর হুমকির মুখে পতিত হতে থাকে। বর্তমান মায়ানমারের সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধরা মনে করে “রোহিঙ্গা” নামে কোন জনগোষ্ঠী তাদের দেশে কখনো ছিল না এবং সে কারণে রোহিঙ্গা শব্দটির প্রতি তাদের প্রবল আপত্তি ও ঘৃণা। এ ভ্রান্ত ধারণার অবতারণার পেছনে রয়েছে ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দ হতে মায়ানমারে ক্ষমতা দখলকারী সেনাবাহিনী ও বার্মিজ আধিপত্যবাদী রাজনীতিবিদ, বৌদ্ধ সন্ন্যাসী ও সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ার বিরাট কুপ্রভাব। আসলে রোহিঙ্গা শব্দটির মানে হল “রোহাংয়ের অধিবাসী” আর রোহাং হল আরাকানের মুসলিম নাম। সুতরাং বার্মিজরা মনে করে “রোহিঙ্গা” শব্দটি মেনে নেয়া মানে হচ্ছে মুসলিমরা যে আরাকানের আদি বাসিন্দা তা এক প্রকার স্বীকার করে নেয়া। আর তাই তারা চায় রোহিঙ্গা শব্দটিকে মুছে দিয়ে প্রকৃত অর্থে আরাকানে মুসলিম অস্তিস্ত, প্রভাব ও প্রতিপত্তি চিরতরে ইতিহাসের পাতা থেকে অবলোপন করতে।

Read more

নির্যাতন, অবহেলা ও নীরবতা: রোহিঙ্গা সংকটের নেপথ্যে (প্রথম কিস্তি)

রক রোনাল্ড রোজারিও:  মায়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জাতিগত নি:স্বকরণ (Ethnic  Cleansing) প্রক্রিয়ার সঙ্গে রুয়ান্ডার তুতসি জনগোষ্ঠীর গনহত্যার ব্যাপক ধরণের সাদৃশ্য রয়েছে। তুতসি গণহত্যা (Genocide) আধুনিক বিশ্বে সংঘটিত সবচেয়ে ভয়াবহ গণহত্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম। ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল থেকে জুলাই মাসে এ গণহত্যা সংঘটিত হয়। রুয়ান্ডার সংখ্যাগরিষ্ঠ হুতু সম্প্রদায়ের জঙ্গীগোষ্ঠী ও হুতু সমর্থিত সরকারের সেনাবাহিনীর হাতে এ সময়কালে প্রায় ১০ লক্ষ সংখ্যালঘু তুতসি হত্যাকান্ডের শিকার হয়। এ গণহত্যা ছিল মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার দেশ রুয়ান্ডায় সুদীর্ঘকাল ধরে চলা জাতিগত বিদ্বেষ ও সহিংসতার চরম ও নিষ্ঠুরতম পর্যায়। গণহত্যার সূত্রপাত হয়েছিল রুয়ান্ডার তৎকালীন হুতু রাষ্ট্রপতি জুভেনাল হাইবিয়ারিমানার হত্যাকান্ডের জের ধরে। এপ্রিলের ১৪ তারিখ তিনি রাজধানী কিগালিতে তার বিমানে এক রকেট হামলায় নিহত হন। হুতুরা এ হত্যাকান্ডের জন্য তুতসি বিদ্রোহী গোষ্ঠী রুয়ান্ডা প্যাট্রিয়টিক ফ্রন্ট (Rwanda Patriotic Front)- কে দায়ী করে। কিন্তু আরপিএফ’র তৎকালীন নেতা ও রুয়ান্ডার বর্তমান রাষ্ট্রপতি পল কাগামে পাল্টা অভিযোগ করেন যে হুতু জঙ্গীরা তুতসি গণহত্যার অজুহাত তৈরি করতে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বহুলাংশে নীরবতা অবলম্বন করে যে সময় এ গণহত্যা সংঘটিত হচ্ছিল। বেশ কিছুদিন পর জাতিসংঘ যখন রুয়ান্ডায় শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করে ও তৎকালীন রক্তপিপাসু সরকারের পতন ঘটে, ততদিনে লক্ষ লক্ষ নিরীহ তুতসি ভয়ংকর গণহত্যার শিকার হয়েছে। হুতুদের চেয়ে লম্বাকৃতি ও তুলনামূলক গায়ের রঙ কম কালো, তাই তুতসিদের আদি বাসস্থান ইথিওপিয়া বলে ধারণা করা হয়। আর তাই গণহত্যার পর হুতুরা তুতসিদের মৃতদেহগুলো নদীর জলে নিক্ষেপ করে এবং বলে তারা তাদের পুনরায় ইথিওপিয়াতে ফেরত পাঠাচ্ছে, যেখান থেকে তারা একদিন এসেছিল। ১৯১৬-৬১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রুয়ান্ডা বেলজিয়ামের উপনিবেশ ছিল। এ সময়ে শাসকেরা তুতসিদের শারীরিক সৌন্দর্য্যকে প্রাধান্য দিয়ে হুতুদের চেয়ে তাদের অধিক হারে চাকুরি, শিক্ষা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে। তুতসিরা সানন্দে সেসব গ্রহণ করে এবং হুতুদের মধ্যে তা ব্যাপক ক্ষোভ ও বিদ্বেষের জন্ম দেয়। বেলজিয়ান শাসনামল ও তার পরবর্তীকালে তাই রুয়ান্ডায় জাতিগত বিদ্বেষ ও সহিংসতা ক্রমশ চরম মাত্রা ধারণ করে, যার নির্মম প্রকাশ ছিল তুতসি গণহত্যা। রোহিঙ্গা নিধনের সাথে সাদৃশ্য বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে তুলনামূলক কৃষ্ণকায় রোহিঙ্গা মুসলিম, যাদের নিজস্ব ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতি রয়েছে, তারাও অনেকটা একই ধরণের নির্যাতনের শিকার। রোহিঙ্গা একটি মিশ্র জাতি যাদের রক্তে আছে আরবীয় বণিক, বাঙালি অভিবাসী ও স্থানীয় আরাকানী (রাখাইন) জনগোষ্ঠীর মিশ্রণ। শত শত বছর পূর্বে থেকেই তৎকালীন আরাকান রাজ্যের ইতিহাসে তাদের অস্তিত্ব বর্ণিত রয়েছে। কিন্তু, পরিতাপের বিষয় বার্মা (মায়ানমার) রাষ্ট্র তাদের অস্তিত্ব অস্বীকার করে এসেছে যুগ যুগ ধরে। ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দের নাগরিগত্ব আইন দ্বারা মায়ানমারের সেনা নিয়ন্ত্রিত সরকার রোহিঙ্গাদেরকে দেশটির ১৩৪ টি স্বীকৃত জাতিসত্ত্বার মধ্যে অন্তভুক্ত করে নি। এর ফলে রাষ্ট্রীয়ভাবে রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রহীন করা হয়, যা আজও বলবৎ রয়েছে। সে থেকে আজ অবধি রোহিঙ্গাদেরকে সাম্প্রতিককালে মায়ানমারে অবৈধ বাঙালি অনুপ্রবেশকারী আখ্যায়িত করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাদেরকে হত্যাসহ সর্বপ্রকার শারীরিক, মানসিক, ধর্মীয় ও জাতিগত নির্যাতন করে দেশত্যাগে বাধ্য করা চলছে। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে এ রক্তক্ষয়ী নির্যাতন ও নিষ্পেষণের মূল হোতা মায়ানমারের সেনাবাহিনী ও সেনানিয়ন্ত্রিত সরকার। কিন্তু তাদের দোসররাও কোন অংশে কম দায়ী নয়। বৌদ্ধ রাখাইন জনগোষ্ঠী, যারা যুগ যুগ ধরে বর্মী সেনাবাহিনী ও বর্মী শাসকগোষ্ঠীকে দখলদার শত্রু হিসেবে গণ্য করে এসেছে, বহুকাল স্বাধীনতা সংগ্রাম করে এসেছে, তারাই আজ কালের বিবর্তনে সেনাবাহিনী সাথে হাত মিলিয়ে রোহিঙ্গাদের বলির পাঁঠা করে চলেছে। এছাড়াও রয়েছে, চরম মুসলিমবিদ্বেষী ও তথাকথিত জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা, যারা সাধারণ জনগণের মননে জাতিগত ও ধর্মীয় বিদ্বেষের বীজ বপন করে চলেছে প্রতিনিয়ত। তারা এ মিথ্যা প্রোপাগান্ডা প্রচার করে যে মুসলিমরা মায়ানমারকে একদিন দখল করে নেবে, আর তাই মায়ানমারের জাতিগত, ধর্মীয় ও সংস্কৃতিগত অস্তিত্ব ও ঐতিহ্য রক্ষার জন্য মুসলমান তথা রোহিঙ্গাদেরকে দেশছাড়া করার বিকল্প নেই। এখানে উল্লেখ্য যে প্রায় পাঁচ কোটি জনসংখ্যার মায়ানমারে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ৮০ শতাংশ আর মুসলিম ১ শতাংশের মতো। সুতরাং, মুসলিমদের দ্বারা মায়ানমার দখলের মতবাদ অলীক কল্পনা ব্যতীত কিছুই নয়। ইসলাম ভীতি বা ইসলাম বিদ্বেষ ছড়ানোর যৌক্তিক কোন ভিত্তি না থাকলেও এর পেছনে সেনাবাহিনী, বর্মী আধিপত্যবাদী ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতিক, সরকারনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম, কট্টরপন্থী বৌদ্ধ সন্ন্যাসী ও জনগণের চরম জাতীয়তাবাদী একটি বিরাট অংশের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। এর পেছনে যতটা না ধর্মীয় বা জাতিগত বিষয় জড়িত তার চেয়ে অনেক বেশি সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক এজেন্ডা জড়িত। রোহিঙ্গা নির্যাতনের সর্বসাম্প্রতিক নজির ২০১৭ খ্রিস্টাব্দের ২৫ আগস্ট ও তৎপরবর্তী মাসগুলোতে দেখা গেছে। রোহিঙ্গা জঙ্গীগোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা সালভ্যাশন আর্মি (আরসা) কর্তৃক রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনী ও সেনা ছাউনিতে হামলার প্রতিশোধ নিতে মায়ানমার সেনা বাহিনী ও রাখাইনের জঙ্গী বৌদ্ধরা নিরীহ রোহিঙ্গাদের উপর ব্যাপক তান্ডব চালায়। শত শত নারী, পুরুষ ও শিশু হত্যাকান্ডের শিকার হন, অগণিত নারীদের ধর্ষণ ও নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয় এবং শত শত রোহিঙ্গা গ্রাম আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়। এ উন্মাদ হত্যালীলা থেকে বাঁচতে আজ অবধি প্রায় সাত (৭) লক্ষ রোহিঙ্গা পালিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

Read more

তেত্রিশতম বিশ্ব যুবদিবস ২০১৮ উপলক্ষে পুণ্যপিতা পোপ ফ্রান্সিসের বাণী

“ভয় করো না, মারীয়া! তুমি তো ঈশ্বরের কাছে অনুগ্রহই পেয়েছ।” (লুক ১:৩০)   প্রিয় যুবক-যুবতীরা, ২০১৮ খ্রিস্টবর্ষের বিশ্ব যুবদিবস ২০১৯

Read more

সভ্যতার বিকাশে নারীর অবদান

প্রদীপ মার্সেল রোজারিও: সভ্যতার বিকাশের স্তরে স্তরে নারীর অবদান অনস্বীকার্য্য । আধুনিক সমাজ-বিজ্ঞানী, প্রত্ন-তাত্ত্বিক এবং নৃ-তত্ত্ববিদদের মতে মানব সভ্যতার শরুতে

Read more

রাগী লোক, ভা‌লো লোক

রক রোনাল্ড রোজারিও: ভা‌লো লোক কড়া ও রাগী চ‌রি‌ত্রের হ‌য়ে থা‌কে। কারণ তারা অন্যায়, অসঙ্গ‌তি ও বিশৃংখলা বরদাশত কর‌তে পা‌রে

Read more

ছোট খাটো বিষয় ১৯

আলো ডি’রোজারিও: ১। বাংলাদেশ কাথলিক বিশপ সম্মিলনী ও বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় নিমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ‘সম্প্রীতি ও শান্তি’ মূলভাবকে কেন্দ্র

Read more