নতুন শিক্ষা নীতিতে প্রাথমিক শিক্ষা পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণীতে, রয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা

বিডিখ্রিস্টান রিপোর্ট:
“আমাদের যেসমস্ত জায়গায় প্রাইমারী স্কুলগুলোর অবস্থা ভাল সেখানে আমরা অষ্টম শ্রেণীতে উত্তির্ণ করবো, আর যেখানে সামর্থ নেই সেখানকার প্রাইমারী স্কুল অর্থাৎ যেটা পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত ছিল সেটা চতুর্থ শ্রেণীতে নেমে আসবে।” বিডিখ্রীষ্টাননিউজকে বলেন বাংলাদেশ কাথলিক এডুকেশন বোর্ড এর সেক্রেটারী ব্রাদার বিজয় হেরাল্ড রড্রিক্স। তিনি বলেন, আমাদের অনেক জায়গায় পঞ্চম শ্রেণীর স্কুলগুলো অষ্টম শ্রেণী করতে চাচ্ছে তাদের জন্য ভাল কিন্তু যাদের সামর্থ নেই তাদেরকে চতুর্থ শ্রেণীতে নামিয়ে আনতে হবে।
১৮ মে শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ সাংবাদিকদের বলেন, “আজ দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক দিন। তিনি বলেন, অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত এখন যেভাবে চলছে আপাতত সেইভাবেই চলবে। পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে।”
বাংলাদেশ কাথলিক মন্ডলী পরিচালিত নিম্ন প্রাথমিক এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা কাথলিক শিক্ষা ডিরেক্টরী অনুযায়ী ৫১৬টি। এই সমস্ত স্কুলের বেশিরভাগই নিম্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়।

চট্টগ্রাম এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলে বেশিরভাগ কাথলিক প্রাইমারী স্কুল রয়েছে। এই সমস্ত স্কুলের ক্ষেত্রে হঠাৎ করে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ করা সম্ভব নয়, হয় চতুর্থ শ্রেণীতে নামিয়ে আনতে হবে অথবা বন্ধ করে দিতে হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে অষ্টম শ্রেণী ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাবে বলে জানিয়েছে অনেক প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষকগণ।
মি.মনোরঞ্জন সরকার একটি কাথলিক মিশন পরিচালিত প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তিনি বলেন, আসলে গ্রামের জন্য এটা ঠিক করে নাই সরকার। কারণ, অষ্টম শ্রেণীতে যে পরিমান শিক্ষক, বিষয় ভিত্তিক শিক্ষ লাগার তার যোগান দেয়া সম্ভব না। অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন প্রয়োজন যা গ্রামের কর্তৃপক্ষের জন্য যোগান দেয়া আদৌ অসম্ভব”। তবে হ্যাঁ, এটা যদি বাস্তাবায়ন করা যেত তাহলে অবশ্যই ভাল হতো।
ব্রাদার বিজয় বলেন, তবে আমাদের সিদ্ধান্তই সব না, প্রতিটি ধর্মপ্রদেশের নিজস্ব নিয়ম আছে, কমিটি আছে তারা যেটা ভালো মনে করবেন সেটাই তারা করবেন।
এর আগে সরকার ২০১০ সালের শিক্ষানীতিতেই প্রাইমারীকে অষ্টম শ্রেণী এবং মাধ্যমিককে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। পাইলট প্রকল্প হিসেবে উপজেলা পর্যায়ে একটি করে স্কুল নিয়ে সেখানে ৬ষ্ঠ শ্রেণী ক্লাশ চালু করা হয় কিন্তু ফলাফল আশানুরুপ হয়নি। অবকাঠামোগত সমস্যা, বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক নেই এমনি সমস্যার মধ্যে দিয়েই সরকার এর পক্ষ থেকে চূড়ান্ত ঘোষণা এলো।

Leave a Reply